আশা জাগানিয়া বছর শেষ হলো হতাশায়

বছরজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসের ভীতের মধ্যে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও চমক দেখিয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসে। সেই সঙ্গে সেকেন্ডারি বাজারে যুক্ত হন নতুন বিনিয়োগকারীও। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় পুঁজিবাজারের লেনদেন বিগত ১০ বছরে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে। একইভাবে লেনদেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সার্বিক সূচক। যদিও নভেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতোনৈক্য হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের। তাই আশা জাগানিয়া বছর শেষ হয়েছে হতাশায়।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও অভাবনীয় ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে দেশের পুঁজিবাজার। বছরের শেষ দুই মাসের হিসাব বাদ দিলে করোনা মহামারীতেও বিগত ৫০ বছরের মধ্যে রেকর্ড অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। যদিও এ সময় বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রিস্ট সিকিউরিটিজ ও তামহা বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎতের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইর পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগারীদের অর্থ নিরাপদ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিওিক প্রিতিষ্ঠান ব্লুমবার্গের তথ্যের ভিওিতে এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের এক প্রতিবেদনে পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এর আগে গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরেও ‘বিশ্বসেরা’ হয় দেশের পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে দেশ এবং দেশের বাইরে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বা ডিজিটাল বুথ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি অঙ্গরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, লন্ডনে রোড-শো সম্পন্ন করেছে।

লেনদেন বেড়েছে ১৬২.৩০ শতাংশ

করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারের লেনদেনে মন্থরতা থাকলেও বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সব ক্ষেত্রে সাফল্যের মাইলফলক সৃষ্টি করে। ২০২১ সালে ডিএসইতে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন। আগের বছরের চেয়ে এ সময় লেনদেন বেড়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৬২.৩০ শতাংশ বেশি। এ সময় ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২০ সালে ২০৮ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮১ কোটি ২২ লাখ টাকা। ওই সময় গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৬৪৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

মূলসূচকে রেকর্ড উত্থান

২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচ বা ব্রড ইনডেক্স ৭৩৬৮ ছুঁয়েছিল। যা সূচকটি যাত্রার পর সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪,০৯০.৪৭ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়। এদিকে, বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতায় ডিএসইএক্স ইনডেক্স ৬,৭৫৬.৬৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়। যা এক বছরের ব্যবধানে ১৩৫৪.৫৯ পয়েন্ট বা ২৫.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইএক্স ইনডেক্স ছাড়াও রেকর্ড গড়েছে ডিএস-৩০ সূচক। এক বছরের ব্যবধানে ডিএস-৩০ সূচক ৫৬৮ পয়েন্ট বা ২৮.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৩২.৫৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবসে (৩০ ডিসেম্বর) ডিএস-৩০ ১৯৬৩ পয়েন্টে ছিল। একই বছর ডিএসই’র শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্যসূচক ডিএসইএস ১৮৯.০১ পয়েন্ট বা ১৫.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৩১.১২ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ২০২১ সালে ডিএসইএস মূল্যসূচক সর্বোচ্চ ১৬০০.২৬ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১১৬৬.১৭ পয়েন্ট।

বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৩ হাজার

৯৬৬ কোটি টাকা

২০২১ সালে ডিএসই’র বাজার মূলধন ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা ২০.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। যা ডিএসই’র ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। যা ২০২১ সালের শেষ কার্যদিবসে পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা ২০.৯৬ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতায়

বেড়েছে মার্কেট পিই

২০২১ সালের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমূহের মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১৭.৫৮। খাতওয়ারী সর্বনিম্ন অবস্থানের দিক থেকে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের, যার মার্কেট পিই ৩.৯১, ব্যাংকিং খাতের ৯.৭২, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩.১৯, টেলি যোগাযোগ খাতের ১৬.৯২, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২০.৭৭, বস্ত্র খাতের ২১.৬৫, প্রকৌশল খাতের ২৩.৭০, আর্থিক খাতের পিই ২৪.৯৭, সিমেন্ট খাতের ২৬.৪৭, সেবা ও অবসান খাতের ২৬.৯২, বিমা খাতের ২৮.১৩, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ৩১.২১, তথ্য প্রযুক্তি খাতের ৩৩.০৫, বিবিধ খাতের ৫৫.৯৩, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৬০.৫৮, সিরামিক খাতের ৬৭.৩৪, জুট খাতের ৭১.২২, পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের ৮০.৭২ এবং ট্যানারি খাতের ৮৮.১৯। অন্যদিকে ২০২০ সালের শেষে সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৬.৫১।

আইপিও’র মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ

করেছে ১৫ কোম্পানি

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০২১ সালে প্রথমবারের একটি সুকুক বন্ড ও ১৪টি কোম্পানিসহ মোট ১৫টি কোম্পানি বাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ১৬৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৯৭ কোটি ৭৩ টাকা মূলধন উত্তোলন করে। এ ছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ২০২০ সালে আটটি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে মোট ৯৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৩১১ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে।

ওটিসি মার্কেট বিলুপ্ত, এসএমই

মার্কেট গঠন

২০০৯ সালে দেশে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট গঠন হয়। কার্যত নিষ্ক্রিয় এই মার্কেটটি চলতি বছরে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট বা সেকেন্ডারি মার্কেটে যুক্ত করা হয়েছে। বাদবাকি ১৮টি কোম্পানিকে নিয়ে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) চালু করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটিবিতে ১৪টি বন্ড এবং বেশকিছু ওপেন এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্তি হবে। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর স্বল্প ও মাঝারি মূলধনী (এসএমই) কোম্পানি নিয়ে এসএমই প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে ডিএসই। বর্তমানে এসএমই প্ল্যাটফর্মে আটটি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ওটিসি মার্কেট থেকে এসেছে।

৩ সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ও ব্যবস্থা

ডিএসইর সদস্যভুক্ত তিনটি সিকিউরিটিজ হাউজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ ও ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ। তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

পরপর তিনটি ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ , ১৬ পৌষ ১৪২৮ ২৬ জমাদিউল আউয়াল

আশা জাগানিয়া বছর শেষ হলো হতাশায়

জাহিদুল ইসলাম সুজন

বছরজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসের ভীতের মধ্যে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও চমক দেখিয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসে। সেই সঙ্গে সেকেন্ডারি বাজারে যুক্ত হন নতুন বিনিয়োগকারীও। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় পুঁজিবাজারের লেনদেন বিগত ১০ বছরে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে। একইভাবে লেনদেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সার্বিক সূচক। যদিও নভেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতোনৈক্য হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের। তাই আশা জাগানিয়া বছর শেষ হয়েছে হতাশায়।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও অভাবনীয় ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে দেশের পুঁজিবাজার। বছরের শেষ দুই মাসের হিসাব বাদ দিলে করোনা মহামারীতেও বিগত ৫০ বছরের মধ্যে রেকর্ড অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। যদিও এ সময় বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রিস্ট সিকিউরিটিজ ও তামহা বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎতের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইর পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগারীদের অর্থ নিরাপদ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিওিক প্রিতিষ্ঠান ব্লুমবার্গের তথ্যের ভিওিতে এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের এক প্রতিবেদনে পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এর আগে গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরেও ‘বিশ্বসেরা’ হয় দেশের পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে দেশ এবং দেশের বাইরে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বা ডিজিটাল বুথ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি অঙ্গরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, লন্ডনে রোড-শো সম্পন্ন করেছে।

লেনদেন বেড়েছে ১৬২.৩০ শতাংশ

করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারের লেনদেনে মন্থরতা থাকলেও বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সব ক্ষেত্রে সাফল্যের মাইলফলক সৃষ্টি করে। ২০২১ সালে ডিএসইতে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন। আগের বছরের চেয়ে এ সময় লেনদেন বেড়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৬২.৩০ শতাংশ বেশি। এ সময় ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২০ সালে ২০৮ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮১ কোটি ২২ লাখ টাকা। ওই সময় গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৬৪৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

মূলসূচকে রেকর্ড উত্থান

২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচ বা ব্রড ইনডেক্স ৭৩৬৮ ছুঁয়েছিল। যা সূচকটি যাত্রার পর সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪,০৯০.৪৭ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়। এদিকে, বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতায় ডিএসইএক্স ইনডেক্স ৬,৭৫৬.৬৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়। যা এক বছরের ব্যবধানে ১৩৫৪.৫৯ পয়েন্ট বা ২৫.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইএক্স ইনডেক্স ছাড়াও রেকর্ড গড়েছে ডিএস-৩০ সূচক। এক বছরের ব্যবধানে ডিএস-৩০ সূচক ৫৬৮ পয়েন্ট বা ২৮.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৩২.৫৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবসে (৩০ ডিসেম্বর) ডিএস-৩০ ১৯৬৩ পয়েন্টে ছিল। একই বছর ডিএসই’র শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্যসূচক ডিএসইএস ১৮৯.০১ পয়েন্ট বা ১৫.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৩১.১২ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ২০২১ সালে ডিএসইএস মূল্যসূচক সর্বোচ্চ ১৬০০.২৬ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১১৬৬.১৭ পয়েন্ট।

বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৩ হাজার

৯৬৬ কোটি টাকা

২০২১ সালে ডিএসই’র বাজার মূলধন ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা ২০.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। যা ডিএসই’র ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। যা ২০২১ সালের শেষ কার্যদিবসে পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা ২০.৯৬ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতায়

বেড়েছে মার্কেট পিই

২০২১ সালের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমূহের মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১৭.৫৮। খাতওয়ারী সর্বনিম্ন অবস্থানের দিক থেকে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের, যার মার্কেট পিই ৩.৯১, ব্যাংকিং খাতের ৯.৭২, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৩.১৯, টেলি যোগাযোগ খাতের ১৬.৯২, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২০.৭৭, বস্ত্র খাতের ২১.৬৫, প্রকৌশল খাতের ২৩.৭০, আর্থিক খাতের পিই ২৪.৯৭, সিমেন্ট খাতের ২৬.৪৭, সেবা ও অবসান খাতের ২৬.৯২, বিমা খাতের ২৮.১৩, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ৩১.২১, তথ্য প্রযুক্তি খাতের ৩৩.০৫, বিবিধ খাতের ৫৫.৯৩, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৬০.৫৮, সিরামিক খাতের ৬৭.৩৪, জুট খাতের ৭১.২২, পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের ৮০.৭২ এবং ট্যানারি খাতের ৮৮.১৯। অন্যদিকে ২০২০ সালের শেষে সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৬.৫১।

আইপিও’র মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ

করেছে ১৫ কোম্পানি

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০২১ সালে প্রথমবারের একটি সুকুক বন্ড ও ১৪টি কোম্পানিসহ মোট ১৫টি কোম্পানি বাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ১৬৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৯৭ কোটি ৭৩ টাকা মূলধন উত্তোলন করে। এ ছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ২০২০ সালে আটটি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে মোট ৯৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৩১১ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে।

ওটিসি মার্কেট বিলুপ্ত, এসএমই

মার্কেট গঠন

২০০৯ সালে দেশে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট গঠন হয়। কার্যত নিষ্ক্রিয় এই মার্কেটটি চলতি বছরে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কোম্পানিকে মূল মার্কেট বা সেকেন্ডারি মার্কেটে যুক্ত করা হয়েছে। বাদবাকি ১৮টি কোম্পানিকে নিয়ে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) চালু করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটিবিতে ১৪টি বন্ড এবং বেশকিছু ওপেন এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্তি হবে। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর স্বল্প ও মাঝারি মূলধনী (এসএমই) কোম্পানি নিয়ে এসএমই প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে ডিএসই। বর্তমানে এসএমই প্ল্যাটফর্মে আটটি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ওটিসি মার্কেট থেকে এসেছে।

৩ সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ও ব্যবস্থা

ডিএসইর সদস্যভুক্ত তিনটি সিকিউরিটিজ হাউজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ ও ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ। তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

পরপর তিনটি ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল।