নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আজ সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন তিনি। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের অবসরজনিত কারণে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. গোলাম সারওয়ারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। শপথগ্রহণের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোন বিচারক ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিজ পদে বহাল থাকবেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ৬৮ বছরে পা দেবেন। সে হিসেবে সংবিধানের ওই ধারা মেনে গতকাল ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে গিয়েছেন।

এদিকে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর ছুটিতে গেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তবে তিনি কতদিনের ছুটিতে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা।

এর আগে, ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর প্রায় ৩ মাস প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ছিল। ওই সময় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। পরে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরবর্তীতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা পদত্যাগ করেন।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৮১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে একজন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ১৯৯৯ সালের ২৭ মে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩ মে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে পুনঃনিয়োগ পান তিনি।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ১৯৭২ সালে খোকসা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরপর ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরা আচার্য্য প্রফুল্ল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতক পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমএ পাস করেন। এরপর তিনি ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ , ১৬ পৌষ ১৪২৮ ২৬ জমাদিউল আউয়াল

নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আজ সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন তিনি। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের অবসরজনিত কারণে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. গোলাম সারওয়ারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। শপথগ্রহণের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোন বিচারক ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিজ পদে বহাল থাকবেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ৬৮ বছরে পা দেবেন। সে হিসেবে সংবিধানের ওই ধারা মেনে গতকাল ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে গিয়েছেন।

এদিকে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর ছুটিতে গেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তবে তিনি কতদিনের ছুটিতে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা।

এর আগে, ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর প্রায় ৩ মাস প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ছিল। ওই সময় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। পরে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরবর্তীতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা পদত্যাগ করেন।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৮১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে একজন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ১৯৯৯ সালের ২৭ মে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩ মে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে পুনঃনিয়োগ পান তিনি।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ১৯৭২ সালে খোকসা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরপর ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরা আচার্য্য প্রফুল্ল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতক পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমএ পাস করেন। এরপর তিনি ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।