নতুন বছরে নতুন আশা

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে

পঞ্জিকার পাতা থেকে বিদায় নিল আরও একটি বছর। শুরু হলো নতুন বছর। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রায় অনিশ্চিতভাবে শুরু হয়েছিল নতুন বছর। তারপর পুরো বছর ছিল টালমাটাল অবস্থা। এরপর ২০২১ সালে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল সারা বিশ্ব। কিছুটা পুনরুদ্ধার ও হয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার চোখ রাঙাতে শুরু করেছে করেনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’।

গত বছরের জানুয়ারিতে যে অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিয়ে নতুন বছর শুরু হয়েছিল, এবার নতুন বছর তার চেয়ে ভালো হবে বলে বিশ্বাস বিশেষজ্ঞদের। তবে একইসঙ্গে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় টিকা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তারা বলছেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভয় এখনও না কাটলেও বিশ্ব ব্যবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এখন ভয়ে পিছু হটলে চলবে না। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টিকা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যেতে হবে।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতির অন্যতম সূচকগুলো সম্পর্কে জানা দরকার। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে রেমিট্যান্স। এই রেমিট্যান্সের বড় উত্থানে গত বছর শুরু হয়। তবে বছরের ১১তম মাস নভেম্বরে এই সূচকটির অবস্থা খুব ভালো নয়। এই মাসে বড় ধস নামে রেমিট্যান্সে।

দেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় সূচক রপ্তানি আয়। বছরের শুরুতে রপ্তানি আয় কম থাকলেও বছরের শেষে বড় উত্থান হয়েছে। রিজার্ভও মোটামুটি ভালো রয়েছে। তবে আমদানিতে বড় উত্থান হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশে বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এদিকেও সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে অর্থনীতির সূচকগুলোর উত্থান-পতন সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি ভালো রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় খারাপ না।’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রেমিট্যান্স : শুরুতে বড় উত্থান, শেষে ধস

করোনা সংক্রমণের সময় অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করেছিলেন, রেমিট্যান্সের গতি খুব শীঘ্রই কমে যাবে। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে রেমিট্যান্সের গতি বেড়েই চলছিল। তবে তাদের আশঙ্কা শীঘ্রই সত্য না হলেও অনেক পরে সত্য হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বড় ধরনের ধস নেমেছে রেমিট্যান্সে।

গত বছর জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৬ কোটি ডলার। এই রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আর গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবারে একই মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছিল ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।

তবে ধস নামে নভেম্বরে এসে। এই মাসে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

‘বছর শেষে রেমিট্যান্স কমলেও যেকোন সময় তা বাড়তে পারে।’ বলে মনে করেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

রপ্তানি : শুরুতে কমলেও

শেষে বেড়েছে

রেমিট্যান্সের পুরো বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রপ্তানি আয়ে। শুরুতে রপ্তানি আয় কম থাকলেও শেষে রেকর্ড হারে বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল ৩৪৩ কোটি ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ কম ছিল। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ৫ শতাংশ পিছিয়ে ছিল।

তবে বছরের শেষে এসে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। নভেম্বর মাসে এসে রপ্তানি আয় এসেছে ৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। কোভিড মহামারীর কারণে মারাত্মক পতনের মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতি পুনরায় চালু হওয়ার কারণে তৈরি পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি খাতের এই চাঙ্গাভাব দেখা গছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো একক মাসে রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো।

আমদানি বেড়েছে রেকর্ড হারে

রপ্তানি আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘এটি অর্থনীতির জন্য ভালো।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে ৭০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য আমদানিতে এতো বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। এর আগে আগস্ট মাসে ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ (৬.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল, যা ছিল এক মাসের হিসাবে এতদিন সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- পুরোদমে চালু হয়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে আমদানি। এখন প্রতি মাসেই রেকর্ড হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘আমদানি বৃদ্ধি পাচ্ছে মানে দেশের অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর কর্মসংস্থান হলে মানুষের হাতে টাকা আসবে। তখন তারা সেই টাকা খরচ করবে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো।’

রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স কমায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়েছে। গত মাসের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমদানি বাড়ার পরও গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে তা বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রপ্তানি বাড়ায় গত কয়েক দিনে অবশ্য তা কিছুটা বেড়ে ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘দেশের রিজার্ভ ভালো অবস্থানেই আছে।’

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

আমদানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়ায় বাণিজ্যে বড় ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের বাণিজ্য ঘাটতির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘যন্ত্রপাতি আমদানির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে কোন সমস্যা নেই। এতে দেশের জন্য ভালোই হবে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।’

‘ছোটদের যথেষ্ট প্রণোদনা দেয়া হয়নি’ সবাই বলছেন একই কথা

করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তাতে ছোটদের সুবিধার কথা বলা হলেও তা বাস্তবে তারা পায়নি। এসব প্রণোদনা দিয়ে একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, পাড়ার দোকানদার, চাকরিচ্যুত বেকারদের কোন কাজে আসেনি বলে জানান প্রায় সব অর্থনীতিবিদই।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত সংবাদকে বলেন, ‘প্রণোদনা যা দেয়া হয়েছে সব গেছে সমাজের উঁচু শ্রেণীর কাছে। ছোট উদ্যোক্তারা কিচ্ছু পায়নি। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে যেসব পথ খোলা আছে তার ধারে কাছেও হাঁটছে না সরকার।’

অন্যদিকে সালেহ উদ্দিন আহমেদও ছোট উদ্যোক্তাদের সুবিধা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে করোনায় যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিল, তাদের অবস্থা করুন। সরকার তাদের জন্য নানা সুবিধা ঘোষণা করলেও কোন কাজে আসছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ‘তাদেরকে প্রণোদনা দাও’ বলে দায়িত্ব পালন হয়ে গেছে বলে মনে করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন গা ছাড়া ভাব থাকলে চলবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঘাড় ধরে নির্দেশনা মানতে বাধ্য করতে হবে।’

করোনার মধ্যেও বেড়েছে বৈষম্য

করোনার মধ্যেও কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৩৯টি। গত জুন শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৯৯ হাজার ৯১৮ জন। অর্থাৎ গত তিন মাসে ব্যাংক ব্যবস্থায় নতুন কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৩২১ জন। করোনার মধ্যেও এতো সংখ্যক কোটিপতি বৃদ্ধিকে বৈষম্যের বড় উদাহরণ হিসেবে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, ‘দেশের ৮৫ ভাগ মানুষের হাতে কিছু নেই। ১৫ ভাগ মানুষের হাতে অধিকাংশ সম্পদ বড় বৈষম্য সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে প্রথাগত ভঙ্গুরতার পাশাপাশি করোনা মহামারী নতুন ভঙ্গুরতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের গড় আয় নিয়ে উচ্ছ্বাস করার কিছু নেই। কেননা বৈষম্যের চিত্র ভিন্ন।’

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে চারটি পথ খোলা আছে বলে মনে করেন আবুল বারকাত। তার চারটি পথের মধ্যেও বৈষম্যের বিষয়টি রয়েছে। পথ চারটি হলোÑ সরকারের ব্যয় সংকোচন, সরকারি-বেসরকারি ঋণ পুর্নগঠন, ধনীর সম্পদ গরিবদের মধ্যে পুনর্বন্টন ও নগদ টাকা ছাপানো।

টিকা কার্যক্রমই ‘ফাস্ট প্রায়োরিটি’

‘করোনার সুনামি আসছে’ বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতোমধ্যেই ইউরোপ, আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন। বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ফ্রান্স, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিসসহ ইউরোপের একাধিক দেশ ওমিক্রনে জর্জরিত। সংক্রমণ বাড়ছে জার্মানিতেও। অস্ট্রেলিয়াতেও গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি দেখে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও নতুন বছরের পদক্ষেপের মধ্যে টিকা কার্যক্রমকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ফের চোখ রাঙাচ্ছে। যেভাবেই হোক এই ভ্যারিয়েন্টকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারের ‘ফাস্ট প্রায়োরিটি’ হবে কোভিড মোকাবিলা। টিকা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা-সমন্নয়হীনতা করলে চলবে না। সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাদের দুই ডোজ দেয়া হয়েছে, তাদের বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করতে হবে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অজুহাত দিয়েছে। এখন আর যেন টালবাহানা না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

শনিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২২ , ১৭ পৌষ ১৪২৮ ২৭ জমাদিউল আউয়াল

নতুন বছরে নতুন আশা

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে

রেজাউল করিম

image

পঞ্জিকার পাতা থেকে বিদায় নিল আরও একটি বছর। শুরু হলো নতুন বছর। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রায় অনিশ্চিতভাবে শুরু হয়েছিল নতুন বছর। তারপর পুরো বছর ছিল টালমাটাল অবস্থা। এরপর ২০২১ সালে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল সারা বিশ্ব। কিছুটা পুনরুদ্ধার ও হয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার চোখ রাঙাতে শুরু করেছে করেনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’।

গত বছরের জানুয়ারিতে যে অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিয়ে নতুন বছর শুরু হয়েছিল, এবার নতুন বছর তার চেয়ে ভালো হবে বলে বিশ্বাস বিশেষজ্ঞদের। তবে একইসঙ্গে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় টিকা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তারা বলছেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভয় এখনও না কাটলেও বিশ্ব ব্যবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এখন ভয়ে পিছু হটলে চলবে না। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টিকা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যেতে হবে।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতির অন্যতম সূচকগুলো সম্পর্কে জানা দরকার। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে রেমিট্যান্স। এই রেমিট্যান্সের বড় উত্থানে গত বছর শুরু হয়। তবে বছরের ১১তম মাস নভেম্বরে এই সূচকটির অবস্থা খুব ভালো নয়। এই মাসে বড় ধস নামে রেমিট্যান্সে।

দেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় সূচক রপ্তানি আয়। বছরের শুরুতে রপ্তানি আয় কম থাকলেও বছরের শেষে বড় উত্থান হয়েছে। রিজার্ভও মোটামুটি ভালো রয়েছে। তবে আমদানিতে বড় উত্থান হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশে বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এদিকেও সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে অর্থনীতির সূচকগুলোর উত্থান-পতন সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি ভালো রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় খারাপ না।’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রেমিট্যান্স : শুরুতে বড় উত্থান, শেষে ধস

করোনা সংক্রমণের সময় অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করেছিলেন, রেমিট্যান্সের গতি খুব শীঘ্রই কমে যাবে। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে রেমিট্যান্সের গতি বেড়েই চলছিল। তবে তাদের আশঙ্কা শীঘ্রই সত্য না হলেও অনেক পরে সত্য হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বড় ধরনের ধস নেমেছে রেমিট্যান্সে।

গত বছর জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৬ কোটি ডলার। এই রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আর গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবারে একই মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছিল ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।

তবে ধস নামে নভেম্বরে এসে। এই মাসে ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের নভেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এই অঙ্ক গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে কম ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে কম এসেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২১ শতাংশ।

‘বছর শেষে রেমিট্যান্স কমলেও যেকোন সময় তা বাড়তে পারে।’ বলে মনে করেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

রপ্তানি : শুরুতে কমলেও

শেষে বেড়েছে

রেমিট্যান্সের পুরো বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রপ্তানি আয়ে। শুরুতে রপ্তানি আয় কম থাকলেও শেষে রেকর্ড হারে বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল ৩৪৩ কোটি ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ কম ছিল। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ৫ শতাংশ পিছিয়ে ছিল।

তবে বছরের শেষে এসে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। নভেম্বর মাসে এসে রপ্তানি আয় এসেছে ৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। কোভিড মহামারীর কারণে মারাত্মক পতনের মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতি পুনরায় চালু হওয়ার কারণে তৈরি পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি খাতের এই চাঙ্গাভাব দেখা গছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো একক মাসে রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো।

আমদানি বেড়েছে রেকর্ড হারে

রপ্তানি আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘এটি অর্থনীতির জন্য ভালো।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে ৭০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য আমদানিতে এতো বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। এর আগে আগস্ট মাসে ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ (৬.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল, যা ছিল এক মাসের হিসাবে এতদিন সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- পুরোদমে চালু হয়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে আমদানি। এখন প্রতি মাসেই রেকর্ড হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘আমদানি বৃদ্ধি পাচ্ছে মানে দেশের অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর কর্মসংস্থান হলে মানুষের হাতে টাকা আসবে। তখন তারা সেই টাকা খরচ করবে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো।’

রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স কমায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়েছে। গত মাসের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমদানি বাড়ার পরও গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে তা বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রপ্তানি বাড়ায় গত কয়েক দিনে অবশ্য তা কিছুটা বেড়ে ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘দেশের রিজার্ভ ভালো অবস্থানেই আছে।’

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

আমদানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়ায় বাণিজ্যে বড় ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের বাণিজ্য ঘাটতির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘যন্ত্রপাতি আমদানির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে কোন সমস্যা নেই। এতে দেশের জন্য ভালোই হবে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।’

‘ছোটদের যথেষ্ট প্রণোদনা দেয়া হয়নি’ সবাই বলছেন একই কথা

করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তাতে ছোটদের সুবিধার কথা বলা হলেও তা বাস্তবে তারা পায়নি। এসব প্রণোদনা দিয়ে একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, পাড়ার দোকানদার, চাকরিচ্যুত বেকারদের কোন কাজে আসেনি বলে জানান প্রায় সব অর্থনীতিবিদই।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত সংবাদকে বলেন, ‘প্রণোদনা যা দেয়া হয়েছে সব গেছে সমাজের উঁচু শ্রেণীর কাছে। ছোট উদ্যোক্তারা কিচ্ছু পায়নি। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে যেসব পথ খোলা আছে তার ধারে কাছেও হাঁটছে না সরকার।’

অন্যদিকে সালেহ উদ্দিন আহমেদও ছোট উদ্যোক্তাদের সুবিধা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে করোনায় যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিল, তাদের অবস্থা করুন। সরকার তাদের জন্য নানা সুবিধা ঘোষণা করলেও কোন কাজে আসছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ‘তাদেরকে প্রণোদনা দাও’ বলে দায়িত্ব পালন হয়ে গেছে বলে মনে করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন গা ছাড়া ভাব থাকলে চলবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঘাড় ধরে নির্দেশনা মানতে বাধ্য করতে হবে।’

করোনার মধ্যেও বেড়েছে বৈষম্য

করোনার মধ্যেও কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৩৯টি। গত জুন শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৯৯ হাজার ৯১৮ জন। অর্থাৎ গত তিন মাসে ব্যাংক ব্যবস্থায় নতুন কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৩২১ জন। করোনার মধ্যেও এতো সংখ্যক কোটিপতি বৃদ্ধিকে বৈষম্যের বড় উদাহরণ হিসেবে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, ‘দেশের ৮৫ ভাগ মানুষের হাতে কিছু নেই। ১৫ ভাগ মানুষের হাতে অধিকাংশ সম্পদ বড় বৈষম্য সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে প্রথাগত ভঙ্গুরতার পাশাপাশি করোনা মহামারী নতুন ভঙ্গুরতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের গড় আয় নিয়ে উচ্ছ্বাস করার কিছু নেই। কেননা বৈষম্যের চিত্র ভিন্ন।’

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে চারটি পথ খোলা আছে বলে মনে করেন আবুল বারকাত। তার চারটি পথের মধ্যেও বৈষম্যের বিষয়টি রয়েছে। পথ চারটি হলোÑ সরকারের ব্যয় সংকোচন, সরকারি-বেসরকারি ঋণ পুর্নগঠন, ধনীর সম্পদ গরিবদের মধ্যে পুনর্বন্টন ও নগদ টাকা ছাপানো।

টিকা কার্যক্রমই ‘ফাস্ট প্রায়োরিটি’

‘করোনার সুনামি আসছে’ বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতোমধ্যেই ইউরোপ, আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন। বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ফ্রান্স, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিসসহ ইউরোপের একাধিক দেশ ওমিক্রনে জর্জরিত। সংক্রমণ বাড়ছে জার্মানিতেও। অস্ট্রেলিয়াতেও গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি দেখে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও নতুন বছরের পদক্ষেপের মধ্যে টিকা কার্যক্রমকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ফের চোখ রাঙাচ্ছে। যেভাবেই হোক এই ভ্যারিয়েন্টকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারের ‘ফাস্ট প্রায়োরিটি’ হবে কোভিড মোকাবিলা। টিকা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা-সমন্নয়হীনতা করলে চলবে না। সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাদের দুই ডোজ দেয়া হয়েছে, তাদের বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করতে হবে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অজুহাত দিয়েছে। এখন আর যেন টালবাহানা না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’