বছরের শেষ দিন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা

বছরের শেষদিন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। গতকাল সকাল ৭টায় পদ্মা সেতু এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী।

এরপর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এলাকায় পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিয়ার থেকে ১৮ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত হেঁটে সেতুর নির্মাণ পরিদর্শন করেন তিনি। পদ্মা সেতু এলাকায় তিন ঘণ্টা অবস্থান শেষে সকাল ১০ দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর এটা পঞ্চম সফর।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের সংবাদকে বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সড়কপথে গণভবন থেকে সরাসরি পদ্মাপাড়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিয়ার থেকে ১৮ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত হেঁটে যান। এ সময় সেতুর নির্মাণ কাজ দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তারা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হন।’

প্রকল্প সূত্র জানা যায়, এ পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের জুনে সেতুর উদ্বোধনের লক্ষ্যে পুরোদমে চলছে প্রকল্পের কাজ। গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সেতুর কার্পেটিংয়ের কাজ। সেতুর রোড স্ল্যাবের ৮ ইঞ্চি মোটা পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪২০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হবে। এরপর বাকি তিন মাসের মধ্যে গ্যাস লাইন স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হবে বলে কথা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৬ দশমিক ৫০ শতাংশ নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে মূল সেতুর। ভূমি অধিগ্রহণ, দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়াসহ মোট ৮ ভাগে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘এর আগেও পদ্মা সেতু ভ্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা শ্রমিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’ এ পর্যন্ত সেতুর ৮৯ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতু বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারে বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি (ইস্পাতের কাঠামো)। সেতু ৪২টি পিয়ারে ৪১ স্প্যান বসাতে তিন বছর ২ মাস লেগে যায়। এই স্প্যানের ভিতর দিয়ে চলাচল করবে রেল। প্রতিটি স্প্যানের ওজন ছিল ৩ হাজার টনের বেশি। দৈর্ঘ্য ছিল ১৫০ মিটার। এই স্প্যানগুলো সার্ভিস এরিয়া থেকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেন দিয়ে পিয়ারের উপর বসানো হয়।

দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু। নিচতলায় অর্থাৎ ইস্পাতের কাঠামোর (স্প্যান) ভেতর দিয়ে রেল চলবে। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলতে পারবে। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। এ জন্য স্প্যানের ওপরে কংক্রিটের

২ হাজার ৯১৭টি রোড ও স্প্যানের ভিতর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। গত জুনে রেলওয়ে স্ল্যাব ও অক্টোবরে রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়। রোড স্ল্যাবের ওপরের এই অংশ চওড়ায় ২২ মিটার, চার লেনের সড়কের সমান। এ ছাড়া সেতু দিয়ে ৭৬০ মিলিমিটার ব্যসের গ্যাসের পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। ১৫০ মিলিমিটার ব্যসের ফাইবার অপটিক ও টেলিফোন লাইনের পাইপ বসানো কাজ চলছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।

শনিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২২ , ১৭ পৌষ ১৪২৮ ২৭ জমাদিউল আউয়াল

বছরের শেষ দিন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বছরের শেষদিন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। গতকাল সকাল ৭টায় পদ্মা সেতু এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী।

এরপর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এলাকায় পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিয়ার থেকে ১৮ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত হেঁটে সেতুর নির্মাণ পরিদর্শন করেন তিনি। পদ্মা সেতু এলাকায় তিন ঘণ্টা অবস্থান শেষে সকাল ১০ দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর এটা পঞ্চম সফর।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের সংবাদকে বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সড়কপথে গণভবন থেকে সরাসরি পদ্মাপাড়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিয়ার থেকে ১৮ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত হেঁটে যান। এ সময় সেতুর নির্মাণ কাজ দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তারা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হন।’

প্রকল্প সূত্র জানা যায়, এ পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের জুনে সেতুর উদ্বোধনের লক্ষ্যে পুরোদমে চলছে প্রকল্পের কাজ। গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সেতুর কার্পেটিংয়ের কাজ। সেতুর রোড স্ল্যাবের ৮ ইঞ্চি মোটা পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪২০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হবে। এরপর বাকি তিন মাসের মধ্যে গ্যাস লাইন স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হবে বলে কথা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৬ দশমিক ৫০ শতাংশ নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে মূল সেতুর। ভূমি অধিগ্রহণ, দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়াসহ মোট ৮ ভাগে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘এর আগেও পদ্মা সেতু ভ্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা শ্রমিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’ এ পর্যন্ত সেতুর ৮৯ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতু বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারে বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি (ইস্পাতের কাঠামো)। সেতু ৪২টি পিয়ারে ৪১ স্প্যান বসাতে তিন বছর ২ মাস লেগে যায়। এই স্প্যানের ভিতর দিয়ে চলাচল করবে রেল। প্রতিটি স্প্যানের ওজন ছিল ৩ হাজার টনের বেশি। দৈর্ঘ্য ছিল ১৫০ মিটার। এই স্প্যানগুলো সার্ভিস এরিয়া থেকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেন দিয়ে পিয়ারের উপর বসানো হয়।

দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু। নিচতলায় অর্থাৎ ইস্পাতের কাঠামোর (স্প্যান) ভেতর দিয়ে রেল চলবে। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলতে পারবে। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। এ জন্য স্প্যানের ওপরে কংক্রিটের

২ হাজার ৯১৭টি রোড ও স্প্যানের ভিতর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। গত জুনে রেলওয়ে স্ল্যাব ও অক্টোবরে রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়। রোড স্ল্যাবের ওপরের এই অংশ চওড়ায় ২২ মিটার, চার লেনের সড়কের সমান। এ ছাড়া সেতু দিয়ে ৭৬০ মিলিমিটার ব্যসের গ্যাসের পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। ১৫০ মিলিমিটার ব্যসের ফাইবার অপটিক ও টেলিফোন লাইনের পাইপ বসানো কাজ চলছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।