স্বাগত ২০২২

খ্রিস্টীয় বর্ষ-২০২১ বিদায় নিয়ে ২০২২ সালের আগমন। একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ। বিশ্বের বয়স আরও এক বছর বাড়ল। গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন আজ। শুভ নববর্ষ।

বিদায়ি বছরটিতে করোনা মহামারীর মধ্যে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমন্বয়হীনতা থাকলেও ছিল অনেক অর্জন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, মুজিব শতবর্ষ উদযাপন, জনসাধারণকে টিকার আওতা আনা, বছর শেষে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ২০২১ বিদায় নিচ্ছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রজেক্ট চালু হওয়াসহ নানা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ২০২২। নতুন বছরে অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা। মহামারীর ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাক।

করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ সালে ধাপে ধাপে লকডাউন বাড়লেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বচেষ্ট ছিল সরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের ঘোষণা করে নানান প্রণোদনা প্যাকেজ। যার ফলে মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নড়বড়ে অবস্থা থাকলেও রপ্তানি-রেমিট্যান্স ও পুঁজিবাজারে রেকর্ড গড়েছে দেশ। যদিও মূল্যস্ফীতির কারণে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য।

বছরজুড়ে ফোনালাফ ও অডিও ফাঁসে বির্তক জাড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতা। ফলে ক্ষমতার শিখর থেকে আস্তাকুঁড়ে পতিত হয়েছে তারা। করোনা মহামারীর মধ্যেও আদালত দিয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়। এ বছরে জাতি হারিয়েছে অনেক গুণীজনকে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সংঘাত-সহিংস রাজনীতির বদলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত, বেকারত্ব দূরীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির আরও গতিসঞ্চার করে নতুন বছরে একটি শান্তিময়-সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিতে ২০২২ সাল সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই এসেছে। বিপুল প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ থেকে যাত্রা শুরু করল নতুন বছর।

ইংরেজি নববর্ষের শুভলগ্নে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বাণীতে ইংরেজি নববর্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, নববর্ষ সবার মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ-খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশা করি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনবে।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনই অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি সম্ভার হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনও আনন্দ দেয়, আর কখনও বা কৃতকর্মের শিক্ষা নব উদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা করি ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা সমুন্নত রাখবো, দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ যেকোন সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করবো।’

গতকালের সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেছে ঘটনাবহুল ২০২১ সালটি। কালপরিক্রমায় নববর্ষ আসে, নতুন আশায়, স্বপ্নে উজ্জীবিত হয় মানুষ। বছরটি সাফল্যে উজ্বল হয়ে উঠবে, মুছে যাবে ব্যর্থতার গ্লানি, এরকম প্রত্যাশায় মানুষ উজ্জীবিত হয়। প্রত্যাশা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকার। বিদায় ২০২১, স্বাগত ২০২২।

শনিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২২ , ১৭ পৌষ ১৪২৮ ২৭ জমাদিউল আউয়াল

স্বাগত ২০২২

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

খ্রিস্টীয় বর্ষ-২০২১ বিদায় নিয়ে ২০২২ সালের আগমন। একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ। বিশ্বের বয়স আরও এক বছর বাড়ল। গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন আজ। শুভ নববর্ষ।

বিদায়ি বছরটিতে করোনা মহামারীর মধ্যে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমন্বয়হীনতা থাকলেও ছিল অনেক অর্জন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, মুজিব শতবর্ষ উদযাপন, জনসাধারণকে টিকার আওতা আনা, বছর শেষে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ২০২১ বিদায় নিচ্ছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রজেক্ট চালু হওয়াসহ নানা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ২০২২। নতুন বছরে অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা। মহামারীর ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাক।

করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ সালে ধাপে ধাপে লকডাউন বাড়লেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বচেষ্ট ছিল সরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের ঘোষণা করে নানান প্রণোদনা প্যাকেজ। যার ফলে মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নড়বড়ে অবস্থা থাকলেও রপ্তানি-রেমিট্যান্স ও পুঁজিবাজারে রেকর্ড গড়েছে দেশ। যদিও মূল্যস্ফীতির কারণে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য।

বছরজুড়ে ফোনালাফ ও অডিও ফাঁসে বির্তক জাড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতা। ফলে ক্ষমতার শিখর থেকে আস্তাকুঁড়ে পতিত হয়েছে তারা। করোনা মহামারীর মধ্যেও আদালত দিয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়। এ বছরে জাতি হারিয়েছে অনেক গুণীজনকে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সংঘাত-সহিংস রাজনীতির বদলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত, বেকারত্ব দূরীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির আরও গতিসঞ্চার করে নতুন বছরে একটি শান্তিময়-সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিতে ২০২২ সাল সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই এসেছে। বিপুল প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ থেকে যাত্রা শুরু করল নতুন বছর।

ইংরেজি নববর্ষের শুভলগ্নে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বাণীতে ইংরেজি নববর্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, নববর্ষ সবার মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ-খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশা করি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনবে।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনই অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি সম্ভার হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনও আনন্দ দেয়, আর কখনও বা কৃতকর্মের শিক্ষা নব উদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা করি ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা সমুন্নত রাখবো, দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ যেকোন সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করবো।’

গতকালের সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেছে ঘটনাবহুল ২০২১ সালটি। কালপরিক্রমায় নববর্ষ আসে, নতুন আশায়, স্বপ্নে উজ্জীবিত হয় মানুষ। বছরটি সাফল্যে উজ্বল হয়ে উঠবে, মুছে যাবে ব্যর্থতার গ্লানি, এরকম প্রত্যাশায় মানুষ উজ্জীবিত হয়। প্রত্যাশা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকার। বিদায় ২০২১, স্বাগত ২০২২।