গত এক বছরে

সড়কে ৪,৬৩৯ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে ৬ হাজার ৫৫৩ জনের

বেপরোয়া গতির কারণে বেশি ট্রাক-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

সারা দেশে গত এক বছরে চার হাজার ৬৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার ৫৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ২০২০ সালে নিহত হয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৩১ জন। সে হিসাবে গত বছর এক হাজার ১২২ জন বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে বলে বেসরকারি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মহামারী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক বছরে করোনায় ২০ হাজার ৫১৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনাভাইরাসের পর দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। কিন্তু এই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই সরকারের। প্রতিদিন করোনাভাইরাসের মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।

গত ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত ও ৪৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে গতকাল এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে সংগঠনটি।

দুর্ঘটনার ১০ কারণ

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দক্ষ চালক তৈরি, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা ও ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে সংগঠনটি।

বেপরোয়ার গতির কারণে ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে

ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ডিসেম্বর মাসে মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৭টি মোটরসাইকেলের, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ।

এ ছাড়া পথচারী নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৭ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৯ জন, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

পথচারীরা যেমন সড়কে নিয়ম মেনে চলে না, তেমনি যানবাহনগুলোও বেপরোয়া গতিতে চলে। ফলে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে। এই উদ্বেগজনক অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

এ বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান সংবাদকে বলেন, পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা ও সরকারের পরিকল্পনায় ঘাটতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিবহন খাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ভারীযানে দক্ষ চালকের অভাব ও বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্ভ্যব নয় বলে জানান তিনি।

২০৩০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেক নামিয়ে আনার লক্ষ্য

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালে সরকার সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষামাত্র নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে এসডিজি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

সড়ক দুর্ঘটনায় এখনও আমাদের বড় দুর্ভাবনা উল্লেখ করেছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত বছর এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘নিরাপদ ও ভ্রমণবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ সড়ক নিরাপত্তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা এখনও আমাদের বড় দুর্ভাবনা। কিছু পদক্ষেপ সংখ্যাগতভাবে কমিয়ে আনলেও প্রতিদিনই ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। আমার প্রতিটি সকাল শুরু হয় দুর্ঘটনার সংবাদ দিয়ে। তখন নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয় হয়।’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত নভেম্বর মাসে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছিল। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। ডিসেম্বর মাসে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪১৮ জন। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৩ দশমিক ৪৮ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩৩৯ জন, অর্থাৎ ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনা এখন শুধু মানবিক নয়, অর্থনৈতিক সমস্যা হয়েও দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের উচিত এখন সড়ক নিরাপত্তায় বেশি নজর দেয়া। অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি মূল কারণ বলে চিহ্নিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে।’ এ অবস্থার উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার, ০২ জানুয়ারী ২০২২ , ১৮ পৌষ ১৪২৮ ২৮ জমাদিউল আউয়াল

গত এক বছরে

সড়কে ৪,৬৩৯ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে ৬ হাজার ৫৫৩ জনের

বেপরোয়া গতির কারণে বেশি ট্রাক-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

image

সারা দেশে গত এক বছরে চার হাজার ৬৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার ৫৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ২০২০ সালে নিহত হয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৩১ জন। সে হিসাবে গত বছর এক হাজার ১২২ জন বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে বলে বেসরকারি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মহামারী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক বছরে করোনায় ২০ হাজার ৫১৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনাভাইরাসের পর দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। কিন্তু এই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই সরকারের। প্রতিদিন করোনাভাইরাসের মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।

গত ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত ও ৪৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে গতকাল এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে সংগঠনটি।

দুর্ঘটনার ১০ কারণ

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দক্ষ চালক তৈরি, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা ও ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে সংগঠনটি।

বেপরোয়ার গতির কারণে ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে

ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ডিসেম্বর মাসে মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৭টি মোটরসাইকেলের, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ।

এ ছাড়া পথচারী নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৭ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৯ জন, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

পথচারীরা যেমন সড়কে নিয়ম মেনে চলে না, তেমনি যানবাহনগুলোও বেপরোয়া গতিতে চলে। ফলে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে। এই উদ্বেগজনক অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

এ বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান সংবাদকে বলেন, পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা ও সরকারের পরিকল্পনায় ঘাটতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিবহন খাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ভারীযানে দক্ষ চালকের অভাব ও বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্ভ্যব নয় বলে জানান তিনি।

২০৩০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেক নামিয়ে আনার লক্ষ্য

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালে সরকার সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষামাত্র নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে এসডিজি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

সড়ক দুর্ঘটনায় এখনও আমাদের বড় দুর্ভাবনা উল্লেখ করেছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত বছর এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘নিরাপদ ও ভ্রমণবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ সড়ক নিরাপত্তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা এখনও আমাদের বড় দুর্ভাবনা। কিছু পদক্ষেপ সংখ্যাগতভাবে কমিয়ে আনলেও প্রতিদিনই ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। আমার প্রতিটি সকাল শুরু হয় দুর্ঘটনার সংবাদ দিয়ে। তখন নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয় হয়।’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত নভেম্বর মাসে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছিল। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। ডিসেম্বর মাসে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪১৮ জন। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৩ দশমিক ৪৮ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩৩৯ জন, অর্থাৎ ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনা এখন শুধু মানবিক নয়, অর্থনৈতিক সমস্যা হয়েও দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের উচিত এখন সড়ক নিরাপত্তায় বেশি নজর দেয়া। অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি মূল কারণ বলে চিহ্নিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে।’ এ অবস্থার উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।