নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২, আহত ৬

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সারুটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় হারাণ বিশ^াস (৭০) নামে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অরও পাঁচজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাতলাগাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারান বিশ^াস কীর্তিনগর গ্রামের আলিম উদ্দিন বিশ^াসের সন্তান। ঘটনার পর বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন যাবত ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারের আধিপত্য নিতে ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তা মারমুখী আকার ধারণ করে। তফসিল ঘোষণার পর কয়েকবার দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর জের ধরে সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা । এ সময় মাহমুদুল হাসান মামুন কর্মী-সমর্থক নিয়ে কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক হামলায় হারান বিশ^াস, রবিউল, রজব, ইয়ার উদ্দিন ও লতিফকে গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারান মারা যায়। আহত অন্য পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুন অভিযোগ করেন, বিদ্রোহী আনারস মার্কার প্রার্থী টিপুর সমর্থকরা তার অফিসে হামলা চালিয়ে তার কর্মী-সমর্থকদের গুরুতর জখম করে। এ সময় হারান নামের তার এক সমর্থক নিহত হয়েছে। এ ব্যাপারে জুলফিকার কায়সার টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। শৈলকুপা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নৌকার প্রার্র্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা। এতে হারান বিশ^াস নামে একজন নিহত হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) নজরুল আসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রির্পোট লেখা পযর্ন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি এবং কেউ আটক হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে একই ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে জসিম উদ্দিন (৩৫) নামে নৌকার সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় মিলন নামে (৩০) অন্য একজন আহত হয়েছে। নিহত মিলন ভাটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, জসিম উদ্দিন গতকাল সকালে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। বিকেল ৪টার দিকে জসিম উদ্দিনও মিলন বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় আনারস মার্কার প্রার্থী টিপুর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে পালিয়ে যায়। এলোপাথাড়ি কোপের আঘাতে তারা গুরুতর জখম হয়। তাদের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জসিমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মিলনকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার্ড করে।

রবিবার, ০২ জানুয়ারী ২০২২ , ১৮ পৌষ ১৪২৮ ২৮ জমাদিউল আউয়াল

ঝিনাইদহের শৈলকূপায়

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২, আহত ৬

জেলা বার্তা পরিবেশক, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সারুটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় হারাণ বিশ^াস (৭০) নামে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অরও পাঁচজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাতলাগাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারান বিশ^াস কীর্তিনগর গ্রামের আলিম উদ্দিন বিশ^াসের সন্তান। ঘটনার পর বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন যাবত ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারের আধিপত্য নিতে ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তা মারমুখী আকার ধারণ করে। তফসিল ঘোষণার পর কয়েকবার দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর জের ধরে সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা । এ সময় মাহমুদুল হাসান মামুন কর্মী-সমর্থক নিয়ে কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক হামলায় হারান বিশ^াস, রবিউল, রজব, ইয়ার উদ্দিন ও লতিফকে গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারান মারা যায়। আহত অন্য পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুন অভিযোগ করেন, বিদ্রোহী আনারস মার্কার প্রার্থী টিপুর সমর্থকরা তার অফিসে হামলা চালিয়ে তার কর্মী-সমর্থকদের গুরুতর জখম করে। এ সময় হারান নামের তার এক সমর্থক নিহত হয়েছে। এ ব্যাপারে জুলফিকার কায়সার টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। শৈলকুপা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নৌকার প্রার্র্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকরা। এতে হারান বিশ^াস নামে একজন নিহত হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) নজরুল আসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রির্পোট লেখা পযর্ন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি এবং কেউ আটক হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে একই ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে জসিম উদ্দিন (৩৫) নামে নৌকার সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় মিলন নামে (৩০) অন্য একজন আহত হয়েছে। নিহত মিলন ভাটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, জসিম উদ্দিন গতকাল সকালে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। বিকেল ৪টার দিকে জসিম উদ্দিনও মিলন বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় আনারস মার্কার প্রার্থী টিপুর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে পালিয়ে যায়। এলোপাথাড়ি কোপের আঘাতে তারা গুরুতর জখম হয়। তাদের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জসিমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মিলনকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার্ড করে।