মেয়ে-জামাই হত্যার বিচার না দেখেই চলে গেলেন সাংবাদিক রুনির মা

সাংবাদিক মেহেরুন রুনির (সাগর-রুনি) মা নুরুন নাহার মির্জা (৬৪) মারা গেছেন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রুনির ভাই নওশের আলম বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর আম্মাকে আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করি। সে সময় আইসিইউতে ছিলেন তিনি। এরপর অবস্থা কিছুটা ভালো হলে কেবিনে দেয়া হয়। এ অবস্থায় উনার কিডনির কোনটিই কাজ করছিল না। তখন ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। ব্লাড দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর আম্মার করোনা পজিটিভ হওয়ার আমরা গত সোমবার (৩ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে নিয়ে আসি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

সকালে নুরুন নাহার মির্জার মরদেহ ইন্দিরা রোডের বাসায় নেয়া হয়। বাদ জোহর পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে সাগর-রুনির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার পর তাদের একমাত্র সন্তান মেঘকে আগলে রেখেছিলেন রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা।

দাফন শেষে নওশের বলেন, আম্মা আশা করতেন সাগর-রুনি হত্যার বিচার হবে। তিনি দেখতে পারবেন একমাত্র মেয়ে ও জামাইয়ের হত্যার বিচার। কিন্তু তাতো হলোই না, মেঘ আবারও একা হয়ে গেল। কারণ মেঘকে আম্মা আগলে রেখে বড়ো করছিলেন। ওর সব কিছুই আম্মা বুঝতেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। ফ্ল্যাটে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। আর রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এ পর্যন্ত ৮৪ বার পিছিয়েছে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ। পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর  থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২২ , ২২ পৌষ ১৪২৮ ২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মেয়ে-জামাই হত্যার বিচার না দেখেই চলে গেলেন সাংবাদিক রুনির মা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সাংবাদিক মেহেরুন রুনির (সাগর-রুনি) মা নুরুন নাহার মির্জা (৬৪) মারা গেছেন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রুনির ভাই নওশের আলম বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর আম্মাকে আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করি। সে সময় আইসিইউতে ছিলেন তিনি। এরপর অবস্থা কিছুটা ভালো হলে কেবিনে দেয়া হয়। এ অবস্থায় উনার কিডনির কোনটিই কাজ করছিল না। তখন ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। ব্লাড দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর আম্মার করোনা পজিটিভ হওয়ার আমরা গত সোমবার (৩ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে নিয়ে আসি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

সকালে নুরুন নাহার মির্জার মরদেহ ইন্দিরা রোডের বাসায় নেয়া হয়। বাদ জোহর পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে সাগর-রুনির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার পর তাদের একমাত্র সন্তান মেঘকে আগলে রেখেছিলেন রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা।

দাফন শেষে নওশের বলেন, আম্মা আশা করতেন সাগর-রুনি হত্যার বিচার হবে। তিনি দেখতে পারবেন একমাত্র মেয়ে ও জামাইয়ের হত্যার বিচার। কিন্তু তাতো হলোই না, মেঘ আবারও একা হয়ে গেল। কারণ মেঘকে আম্মা আগলে রেখে বড়ো করছিলেন। ওর সব কিছুই আম্মা বুঝতেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। ফ্ল্যাটে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। আর রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এ পর্যন্ত ৮৪ বার পিছিয়েছে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ। পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর  থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।