জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকে

ধীরে ধীরে জমে উঠছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গতকাল মেলার ৮ম দিন চোখে পড়ার মতো দর্শণার্থী লক্ষ্য করা গেছে। মেলার বিক্রেতারা বলছেন, মেলা আসলে প্রথমদিকে তেমন জমে না। মাসের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর মেলা জমতে শুরু করে। গত শুক্রবারও মেলায় প্রচুর দর্শণার্থী এসেছিল। গতকালও দর্শণার্থী বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই।

গতকাল দুপুরের পর থেকে পূর্বাচলে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে শুরু করে। এরপর সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দশণার্থীদের সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি।

সাভার থেকে মেলায় এসছেন তুষার হোসেন। সঙ্গে এনেছেন পরিবারের সদস্যদের। তিনি বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় আজ সবাইকে নিয়ে মেলায় এসেছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি স্টলগুলো। তবে আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলায় জায়গাটি ছিল বিশাল। এখানে সব কিছুই বিল্ডিংয়ের মধ্যে, জায়গা ছোট। এখনও মানুষ আসা শুরু করেনি, তাতেই মনে হচ্ছে এখানে জায়গা হবে না।’

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দর্শণার্থীদের বেশিরভাগই আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা। দূরের দর্শণার্থী কম। উত্তরা থেকে মেলায় এসেছেন হাসান আলি। তিনি বলেন, ‘আগের বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটা করা যেত, সঙ্গে ঘোরাফেরা করা যেত। এখানে জায়গা খুব কম।’

মেলায় দর্শণার্থী বাড়লে ভয় জাগাচ্ছে কোভিডের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ৫০ হাজারের বেশি দর্শণার্থীর কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি আর কোথাওবা গায়ে গা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও কেনাকাটায় মেলা প্রাঙ্গণে যেন উধাও স্বাস্থ্যবিধি। মেলায় মাস্কবিহীন ঘুরে বেড়াতে যেমন দেখা গেছে, তেমনি দূরত্ব মানার চিত্রও দেখা যায়নি।

করোনাভাইরাস মহামারীতে এক বছর বন্ধ থাকার পর এবার নতুন ঠিকানায় রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা। প্রথম ছয় দিন মেলায় দর্শণার্থীর উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।

তবে গত শুক্রবার দুপুরের পর বলার মতো ভিড় বাড়তে শুরু করে বলে জানান অংশগ্রহণকারী বিক্রেতারা। বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বেড়েছে। সন্ধ্যার পরও মেলায় প্রবেশের অপেক্ষায় বাইরে লাইনে ছিলেন অনেকে।

দেখা গেছে, মেলায় প্রবেশের সময় মুখে মাস্ক আছে কিনা তা নিশ্চিত করছেন আয়োজকরা। কারও মাস্ক না থাকলে দেয়াও হচ্ছে। এরপরও মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকেই মাস্ক খুলে ফেলছেন দর্শণার্থীরা। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি, কারওবা মাস্ক থুতনিতে। এভাবেই বিভিন্ন স্টলে ঘুরছেন দর্শণার্থীরা। কেউ আবার মাস্ক খুলে মোবাইলে সেলফি তুলছেন।

বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংক্রমণ বাড়াতে থাকা করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ২০ জনের এ ধরনে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর এসেছে।

এছাড়া গত এক সপ্তাহে সংক্রমণও দ্রুত বাড়ছে। গত শুক্রবার ১৫ সপ্তাহ পর দৈনিক নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত কোভিড রোগীর হার আবার ৫ শতাংশের উপরে উঠে গেছে। চার মাসের বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবারও ১ হাজার ১৪৬ জন কোভিড শনাক্ত হয়েছেন।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে গত মঙ্গলবার দেশে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যেখানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সংক্রমণ এড়াতে সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলেও মেলায় বিষয়টি মানতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্টল, খাবারের দোকানে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাঘুরি করেছেন ক্রেতারা।

জানতে চাইলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, মেলার স্টলগুলো সাজানো হয়েছে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাখায় রেখে। দুটি স্টলের মাঝখানে অনেক জায়গা রাখা হয়েছে, মেলা প্রাঙ্গণেও প্রচুর খালি জায়গা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা চলছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ আছে মেলায় ঢোকার পর মাস্ক মুখে রাখে না।

শুরুর দিকে দর্শণার্থী কম থাকায় হতাশ স্টল মালিকরা আশা দেখছেন সামনে আরও বেশি মানুষ আসার। গত শুক্রবার ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, ক্রোকারিজ ও খাদ্যপণ্যের স্টলগুলোর সামনে দর্শণার্থীদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।

রবিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২২ , ২৫ পৌষ ১৪২৮ ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকে

image

ধীরে ধীরে জমে উঠছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গতকাল মেলার ৮ম দিন চোখে পড়ার মতো দর্শণার্থী লক্ষ্য করা গেছে। মেলার বিক্রেতারা বলছেন, মেলা আসলে প্রথমদিকে তেমন জমে না। মাসের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর মেলা জমতে শুরু করে। গত শুক্রবারও মেলায় প্রচুর দর্শণার্থী এসেছিল। গতকালও দর্শণার্থী বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই।

গতকাল দুপুরের পর থেকে পূর্বাচলে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে শুরু করে। এরপর সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দশণার্থীদের সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি।

সাভার থেকে মেলায় এসছেন তুষার হোসেন। সঙ্গে এনেছেন পরিবারের সদস্যদের। তিনি বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় আজ সবাইকে নিয়ে মেলায় এসেছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি স্টলগুলো। তবে আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলায় জায়গাটি ছিল বিশাল। এখানে সব কিছুই বিল্ডিংয়ের মধ্যে, জায়গা ছোট। এখনও মানুষ আসা শুরু করেনি, তাতেই মনে হচ্ছে এখানে জায়গা হবে না।’

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দর্শণার্থীদের বেশিরভাগই আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা। দূরের দর্শণার্থী কম। উত্তরা থেকে মেলায় এসেছেন হাসান আলি। তিনি বলেন, ‘আগের বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটা করা যেত, সঙ্গে ঘোরাফেরা করা যেত। এখানে জায়গা খুব কম।’

মেলায় দর্শণার্থী বাড়লে ভয় জাগাচ্ছে কোভিডের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ৫০ হাজারের বেশি দর্শণার্থীর কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি আর কোথাওবা গায়ে গা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও কেনাকাটায় মেলা প্রাঙ্গণে যেন উধাও স্বাস্থ্যবিধি। মেলায় মাস্কবিহীন ঘুরে বেড়াতে যেমন দেখা গেছে, তেমনি দূরত্ব মানার চিত্রও দেখা যায়নি।

করোনাভাইরাস মহামারীতে এক বছর বন্ধ থাকার পর এবার নতুন ঠিকানায় রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা। প্রথম ছয় দিন মেলায় দর্শণার্থীর উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।

তবে গত শুক্রবার দুপুরের পর বলার মতো ভিড় বাড়তে শুরু করে বলে জানান অংশগ্রহণকারী বিক্রেতারা। বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বেড়েছে। সন্ধ্যার পরও মেলায় প্রবেশের অপেক্ষায় বাইরে লাইনে ছিলেন অনেকে।

দেখা গেছে, মেলায় প্রবেশের সময় মুখে মাস্ক আছে কিনা তা নিশ্চিত করছেন আয়োজকরা। কারও মাস্ক না থাকলে দেয়াও হচ্ছে। এরপরও মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকেই মাস্ক খুলে ফেলছেন দর্শণার্থীরা। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি, কারওবা মাস্ক থুতনিতে। এভাবেই বিভিন্ন স্টলে ঘুরছেন দর্শণার্থীরা। কেউ আবার মাস্ক খুলে মোবাইলে সেলফি তুলছেন।

বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংক্রমণ বাড়াতে থাকা করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ২০ জনের এ ধরনে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর এসেছে।

এছাড়া গত এক সপ্তাহে সংক্রমণও দ্রুত বাড়ছে। গত শুক্রবার ১৫ সপ্তাহ পর দৈনিক নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত কোভিড রোগীর হার আবার ৫ শতাংশের উপরে উঠে গেছে। চার মাসের বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবারও ১ হাজার ১৪৬ জন কোভিড শনাক্ত হয়েছেন।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে গত মঙ্গলবার দেশে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যেখানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সংক্রমণ এড়াতে সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলেও মেলায় বিষয়টি মানতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্টল, খাবারের দোকানে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাঘুরি করেছেন ক্রেতারা।

জানতে চাইলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, মেলার স্টলগুলো সাজানো হয়েছে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাখায় রেখে। দুটি স্টলের মাঝখানে অনেক জায়গা রাখা হয়েছে, মেলা প্রাঙ্গণেও প্রচুর খালি জায়গা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা চলছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ আছে মেলায় ঢোকার পর মাস্ক মুখে রাখে না।

শুরুর দিকে দর্শণার্থী কম থাকায় হতাশ স্টল মালিকরা আশা দেখছেন সামনে আরও বেশি মানুষ আসার। গত শুক্রবার ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, ক্রোকারিজ ও খাদ্যপণ্যের স্টলগুলোর সামনে দর্শণার্থীদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।