করোনা : সংক্রমণ বাড়ছে, আসছে কঠোর বিধিনিষেধ

দু’একদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি

টানা তিন দিন দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ১১শ’র বেশি। সংক্রমণ হারও প্রতিদিনই বাড়ছে। দ্রুত সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দু’একদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন আসছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ ছাড়া করোনার ‘ওমিক্রন’ ধরনের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংক্রমণ বেড়েছে চারশ’ গুণ,

আসছে বিধিনিষেধ

দেশে করোনা শনাক্তের হার চারশ’ গুণ বেড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শীঘ্রই নির্দেশনা আসবে। দোকান-পাট রাত ৮টার পর বন্ধের ঘোষণা দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ মনে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধেরও চিন্তা করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতাল ও নার্স চিকিৎসকরাসেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না-জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। করোনা সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আমরা কঠোরতা অবলম্বন করবো। মাস্ক ছাড়া বাইরে বর হলেই জেল-জরিমানা করা হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল (আজ) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক আছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না- জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়ায় বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে।’

ডা. দীপু মনি জানান, সরকার চায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হয়তো একটু অসুবিধা হতে পারে; যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী তাদের জন্য। সেসব বিষয় নিয়েও সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ রাতে ভার্চুয়য়ালি এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

টানা তিনদিন শনাক্ত হাজারের ওপরে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১১৬ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

আগের দিন শুক্রবার ২০ হাজার ২০৪টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১৪৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিন পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ছিল পাঁচ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এর আগে ৬ জানুয়ারি ২৩ হাজার ৪৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১৪০ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওইদিন পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্ত হয়েছিল চার দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া এক হাজার ১১৬ জনকে নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৯২ হাজার ২০৯ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। মারা যাওয়া ওই নারীর বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছিল। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তাকে নিয়ে দেশে করোনায় মোট ২৮ হাজার ৯৯ জনের মৃত্যু হলো।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৮ জন।

একদিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৯ হাজার ২৭৫টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৫টি। এ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ।

রবিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২২ , ২৫ পৌষ ১৪২৮ ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনা : সংক্রমণ বাড়ছে, আসছে কঠোর বিধিনিষেধ

দু’একদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি
image

টানা তিন দিন দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ১১শ’র বেশি। সংক্রমণ হারও প্রতিদিনই বাড়ছে। দ্রুত সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দু’একদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন আসছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ ছাড়া করোনার ‘ওমিক্রন’ ধরনের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংক্রমণ বেড়েছে চারশ’ গুণ,

আসছে বিধিনিষেধ

দেশে করোনা শনাক্তের হার চারশ’ গুণ বেড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শীঘ্রই নির্দেশনা আসবে। দোকান-পাট রাত ৮টার পর বন্ধের ঘোষণা দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ মনে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধেরও চিন্তা করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতাল ও নার্স চিকিৎসকরাসেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না-জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। করোনা সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আমরা কঠোরতা অবলম্বন করবো। মাস্ক ছাড়া বাইরে বর হলেই জেল-জরিমানা করা হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল (আজ) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক আছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না- জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়ায় বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে।’

ডা. দীপু মনি জানান, সরকার চায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হয়তো একটু অসুবিধা হতে পারে; যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী তাদের জন্য। সেসব বিষয় নিয়েও সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ রাতে ভার্চুয়য়ালি এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

টানা তিনদিন শনাক্ত হাজারের ওপরে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১১৬ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

আগের দিন শুক্রবার ২০ হাজার ২০৪টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১৪৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিন পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ছিল পাঁচ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এর আগে ৬ জানুয়ারি ২৩ হাজার ৪৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ১৪০ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওইদিন পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্ত হয়েছিল চার দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া এক হাজার ১১৬ জনকে নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৯২ হাজার ২০৯ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। মারা যাওয়া ওই নারীর বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছিল। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তাকে নিয়ে দেশে করোনায় মোট ২৮ হাজার ৯৯ জনের মৃত্যু হলো।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৮ জন।

একদিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৯ হাজার ২৭৫টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৫টি। এ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ।