বুটেক্স শিক্ষার্থী ও হকারদের সড়ক অবরোধ

রাধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থী ও হকাররা। গতকাল তেজগাঁও ও উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় হলসমূহ বন্ধ, সশরীরে পরীক্ষার আয়োজন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি ও হকাররা পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ করে রাখায় মহাসড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বুটেক্স শিক্ষার্থী ৪ ঘণ্টা ও হকাররা ২ ঘণ্টা বিক্ষোভ করার পর সড়ক ছেড়ে দেন। পরে ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গতকাল বেলা ১১টায় তেজগাঁও মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বুটেক্স শিক্ষার্থীরা। চার ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্য ও তেজগাঁও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বুটেক্স উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। তখন শিক্ষার্থীদের দাবি উড়িয়ে দেন উপাচার্য।

পাশাপাশি বুটেক্স রেজিস্ট্রার শাহ আলিমুজ্জামান বেলাল শিক্ষার্থীদের বলেন, করোনা যার, দায়ভার তার। রেজিস্ট্রারের ওই বক্তব্যের পরই সড়কে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীসহ মেসগুলোয় অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। কেননা হলসমূহে আমরা অনেক গাদাগাদি করে একই রুমে অবস্থান করি।

হলসমূহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়। আবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে বলা হয়েছে, ১২ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীরা ১ ডোজ ভ্যাকসিন ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না এবং টিকাকার্ড ছাড়া যানবাহনে উঠতে পারবে না। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এক ডোজ ভ্যাকসিন এখনও পায়নি। অনেকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য আবেদন করেও এসএমএস পায়নি। অন্যদিকে করোনার কারণে সংক্রমণের হার ইতোমধ্যে পাঁচ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শীঘ্রই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা আর সেশনজট বাড়াতে চাই না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা দ্রুত অফলাইনে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষাগুলো দিতে চাই। সংক্রমণ বেড়ে গেলে প্রয়োজনে হল বন্ধ করেও যথাসময়ে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চাই। এ অবস্থায় প্রশাসন ১১ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষার আয়োজন করেছে। তাই আমরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি।

দাবি হলোÑ ১. অবিলম্বে হলসমূহে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হল বন্ধ করতে হবে। ২. অবিলম্বে অফলাইনের বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে নতুন রুটিনে অফলাইনে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে পারে, অথবা বর্তমান রুটিনের প্রথম ২টি পরীক্ষা পিছিয়ে বাকি পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ী নিতে পারে।

৩. করোনাকালীন সময়ে চলমান টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে, অবশ্যই চলমান টার্মের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যেই আগামী টার্মের ক্লাস অনলাইনে শুরু করতে হবে এবং দিনপ্রতি অন্তত ৪টি এবং সর্বোচ্চ ৬টি ক্লাস নিতে হবে। ৪. করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার কারণে যদি কোন শিক্ষার্থী হলে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তার এবং তার পরিবারের সার্বিক দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।

৫. দাবিগুলো আমলে নিয়ে আজকের মধ্যেই মৌখিক স্বীকৃতি এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রশাসনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে। তা-নাহলে সশরীরে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যেকোন শিক্ষা-কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন শিক্ষার্থীরা। ৫ দফা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি ও আন্দোলনের বিষয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মৌখিকভাবে বলেছি, ১১ জানুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত, হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে। আর পরবর্তীতে পরীক্ষা অফলাইনে নাকি অনলাইনে হবে সেটি নিয়ে আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাব। সে জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সময় চেয়েছি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশের এডিসি হাফিজ আল ফারুক বলেন, দীর্ঘ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা অনুরোধ করেছি, ভিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে উচ্ছেদ বন্ধ ও স্থায়ী পুনর্বাসন দাবিতে উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে হকাররা। এ সময় বিভিন্ন সেøাগান দিতে দেখা যায় তাদের। এতে সড়কটির দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সরে যান হকাররা।

এরআগে,সকাল ১০টার দিকে উত্তরার রবীন্দ্র স্বরণীতে জড়ো হন তারা। পরে উত্তরার রাজলক্ষ্মী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হকারদের নেতা ও উত্তরা পশ্চিম থানা কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাসেল ম-ল বলেন, কয়েক দিন ধরে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তারা হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন চান। হকাররা জানান, করোনার সময় তারা ব্যবসা করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন তারা। এখন যদি তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তারা পথে বসবেন। এ ছাড়া দেনাও পরিশোধ করতে পারবেন না তারা। রাজলক্ষ্মী এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আকতারুজ্জামান জানান, হকাররা সড়কের দুই পাশেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে সড়কের উভয় পাশেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে হকারদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। পরে হকাররা সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দেন। তবে, অবরোধে সৃষ্ট যানজটের রেশ কাটতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

রবিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২২ , ২৫ পৌষ ১৪২৮ ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বুটেক্স শিক্ষার্থী ও হকারদের সড়ক অবরোধ

রাধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থী ও হকাররা। গতকাল তেজগাঁও ও উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় হলসমূহ বন্ধ, সশরীরে পরীক্ষার আয়োজন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি ও হকাররা পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ করে রাখায় মহাসড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বুটেক্স শিক্ষার্থী ৪ ঘণ্টা ও হকাররা ২ ঘণ্টা বিক্ষোভ করার পর সড়ক ছেড়ে দেন। পরে ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গতকাল বেলা ১১টায় তেজগাঁও মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বুটেক্স শিক্ষার্থীরা। চার ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্য ও তেজগাঁও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বুটেক্স উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। তখন শিক্ষার্থীদের দাবি উড়িয়ে দেন উপাচার্য।

পাশাপাশি বুটেক্স রেজিস্ট্রার শাহ আলিমুজ্জামান বেলাল শিক্ষার্থীদের বলেন, করোনা যার, দায়ভার তার। রেজিস্ট্রারের ওই বক্তব্যের পরই সড়কে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীসহ মেসগুলোয় অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। কেননা হলসমূহে আমরা অনেক গাদাগাদি করে একই রুমে অবস্থান করি।

হলসমূহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়। আবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে বলা হয়েছে, ১২ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীরা ১ ডোজ ভ্যাকসিন ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবে না এবং টিকাকার্ড ছাড়া যানবাহনে উঠতে পারবে না। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এক ডোজ ভ্যাকসিন এখনও পায়নি। অনেকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য আবেদন করেও এসএমএস পায়নি। অন্যদিকে করোনার কারণে সংক্রমণের হার ইতোমধ্যে পাঁচ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শীঘ্রই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা আর সেশনজট বাড়াতে চাই না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা দ্রুত অফলাইনে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষাগুলো দিতে চাই। সংক্রমণ বেড়ে গেলে প্রয়োজনে হল বন্ধ করেও যথাসময়ে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চাই। এ অবস্থায় প্রশাসন ১১ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষার আয়োজন করেছে। তাই আমরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি।

দাবি হলোÑ ১. অবিলম্বে হলসমূহে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হল বন্ধ করতে হবে। ২. অবিলম্বে অফলাইনের বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে নতুন রুটিনে অফলাইনে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে পারে, অথবা বর্তমান রুটিনের প্রথম ২টি পরীক্ষা পিছিয়ে বাকি পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ী নিতে পারে।

৩. করোনাকালীন সময়ে চলমান টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে, অবশ্যই চলমান টার্মের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যেই আগামী টার্মের ক্লাস অনলাইনে শুরু করতে হবে এবং দিনপ্রতি অন্তত ৪টি এবং সর্বোচ্চ ৬টি ক্লাস নিতে হবে। ৪. করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার কারণে যদি কোন শিক্ষার্থী হলে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তার এবং তার পরিবারের সার্বিক দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।

৫. দাবিগুলো আমলে নিয়ে আজকের মধ্যেই মৌখিক স্বীকৃতি এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রশাসনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে। তা-নাহলে সশরীরে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যেকোন শিক্ষা-কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন শিক্ষার্থীরা। ৫ দফা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি ও আন্দোলনের বিষয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মৌখিকভাবে বলেছি, ১১ জানুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত, হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে। আর পরবর্তীতে পরীক্ষা অফলাইনে নাকি অনলাইনে হবে সেটি নিয়ে আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাব। সে জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সময় চেয়েছি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশের এডিসি হাফিজ আল ফারুক বলেন, দীর্ঘ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা অনুরোধ করেছি, ভিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে উচ্ছেদ বন্ধ ও স্থায়ী পুনর্বাসন দাবিতে উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে হকাররা। এ সময় বিভিন্ন সেøাগান দিতে দেখা যায় তাদের। এতে সড়কটির দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সরে যান হকাররা।

এরআগে,সকাল ১০টার দিকে উত্তরার রবীন্দ্র স্বরণীতে জড়ো হন তারা। পরে উত্তরার রাজলক্ষ্মী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হকারদের নেতা ও উত্তরা পশ্চিম থানা কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাসেল ম-ল বলেন, কয়েক দিন ধরে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তারা হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন চান। হকাররা জানান, করোনার সময় তারা ব্যবসা করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন তারা। এখন যদি তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তারা পথে বসবেন। এ ছাড়া দেনাও পরিশোধ করতে পারবেন না তারা। রাজলক্ষ্মী এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আকতারুজ্জামান জানান, হকাররা সড়কের দুই পাশেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে সড়কের উভয় পাশেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে হকারদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। পরে হকাররা সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দেন। তবে, অবরোধে সৃষ্ট যানজটের রেশ কাটতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।