তৃতীয় দফা তদন্ত করেও প্রতিবেদনে গরমিল

রংপুর সিটি করপোরেশনের অধীনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার সড়ক ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের ফাইনাল বিলে দফায় দফায় কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পর্যায়ক্রমে দুই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেবার পরেও তৃতীয় দফায় নতুন তদন্ত কমিটির গাণিতিক ভুল উল্লেখ করে সাধারণ অপরাধ বলে বিবেচনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ তদন্তে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রতিবেদন পাবার পর সিটি মেয়র, প্রধান অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার সাসপেনশন প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি স্মারক নম্বর-৩৬। তারিখ- ৪.১.২২ইং তারিখে এ আদেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তবে মূল অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে পর পর দুটি তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে না নেয়া এবং তৃতীয় দফা তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের অব্যাহতি প্রদানের জন্যই লোক দেখানো তদন্ত করা নিয়ে, নানান প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে একই ঘটনার বার বার তদন্ত কমিটি গঠন বেআইনি ও অভিযুক্তদের বাঁচানোর কৌশল বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্যাকেজ নম্বর এমজিএসপি/আরসিসি/ ২০১৬-ডব্লিউ-১০ কাজটি প্রক্কলিত মূল্য ছিল সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নয়া সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ পান রানা। নির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার কয়েক দফা চলতি বিল দাখিল করে। ফাইনাল বিল দাখিল করে যথারীতি সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন স্বাক্ষর করার পর বিলটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাবার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরুরি কাজে ঢাকায় যাবার সুযোগ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানা রানা পুনরায় বিলের এমবি বই নিয়ে এসে অতিরিক্ত আরও এক কোটি টাকা বিল দেখিয়ে জমা দেন। বিলটি প্রস্তুত করেন সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনার। এতে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম। কিন্তু স্বাক্ষরিত বিলের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে জানালে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এরপর এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. সালেহকে সদস্য সচিব করা হয় সহকারী প্রকৌশলী রাদিব আল আমিন ও সদস্য করা হয় সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে তদন্ত কমিটি গত ২/৩/২০ইং তারিখে দাখিল করা প্রতিবেদনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানাকে অতিরিক্ত ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭শ’ ৯৬ টাকা বিল দেবার সুপারিশ করার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে টাকা হাতিয়ে নেবার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সিটি মেয়র স্মারক নম্বর ৪২১ তারিখ ৮/৩/২০২০ইং তারিখে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। কিন্তু কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১৮/৫/২০ইং তারিখে সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।

অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম ঘটনার ব্যাপারে তার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে সতর্ক করে দেন সিটি মেয়র। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অবহিত হবার পর গত ৭ জুন তারিখে স্মারক নম্বর ৩৬৬ তারিখ ৭/৬/২০ইং তারিখে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের কাজে কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর সিটি কররেপারেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশ পাবার পর ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোটি টাকার বিল জালিয়াতির ঘটনার জন্য সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনার ও নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম ও প্রকল্পের পরামর্শক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানাকে দায়ী করে গত ২৬ আগস্ট ২০২১ইং তারিখে সিটি মেয়রের কাছে দীর্ঘ প্রতিবেদন দাখিল করে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে না নিয়ে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার জন্য আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এবার সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তরা লিখিতভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো পুরো ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে সাধারণ অপরাধের সামিল বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি টেকনিক্যাল হ্যান্ড নই কমিটির অন্যরা আমাকে স্বাক্ষর করতে বলায় আমি স্বাক্ষর দিয়েছি। তবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ঘটনার সঙ্গে অনেকেই জড়িত, সবাইকেই আমলে নেয়া উচিত।

অন্য সদস্য সহকারী প্রকৌশলী যান্ত্রিক সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত ছিল। এছাড়া আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর পরই সিটি মেয়র স্মারক নম্বর ১০১ তারিখ ৪ জানুয়ারি সাসপেন্ডে থাকা সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারের সাসপেনশন প্রত্যাহার করার আদেশ দেন। তবে ঘটনার মূল নায়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। তাকে ঘটনার পর থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিযুক্তরা। সার্বিক বিষয়ে জানতে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রবিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২২ , ২৫ পৌষ ১৪২৮ ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রসিকে প্রকল্পের অর্থ জালিয়াতি

তৃতীয় দফা তদন্ত করেও প্রতিবেদনে গরমিল

রংপুর সিটি করপোরেশনের অধীনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার সড়ক ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের ফাইনাল বিলে দফায় দফায় কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পর্যায়ক্রমে দুই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেবার পরেও তৃতীয় দফায় নতুন তদন্ত কমিটির গাণিতিক ভুল উল্লেখ করে সাধারণ অপরাধ বলে বিবেচনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ তদন্তে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রতিবেদন পাবার পর সিটি মেয়র, প্রধান অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার সাসপেনশন প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি স্মারক নম্বর-৩৬। তারিখ- ৪.১.২২ইং তারিখে এ আদেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তবে মূল অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে পর পর দুটি তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে না নেয়া এবং তৃতীয় দফা তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের অব্যাহতি প্রদানের জন্যই লোক দেখানো তদন্ত করা নিয়ে, নানান প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে একই ঘটনার বার বার তদন্ত কমিটি গঠন বেআইনি ও অভিযুক্তদের বাঁচানোর কৌশল বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্যাকেজ নম্বর এমজিএসপি/আরসিসি/ ২০১৬-ডব্লিউ-১০ কাজটি প্রক্কলিত মূল্য ছিল সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নয়া সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ পান রানা। নির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার কয়েক দফা চলতি বিল দাখিল করে। ফাইনাল বিল দাখিল করে যথারীতি সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন স্বাক্ষর করার পর বিলটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাবার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরুরি কাজে ঢাকায় যাবার সুযোগ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানা রানা পুনরায় বিলের এমবি বই নিয়ে এসে অতিরিক্ত আরও এক কোটি টাকা বিল দেখিয়ে জমা দেন। বিলটি প্রস্তুত করেন সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনার। এতে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম। কিন্তু স্বাক্ষরিত বিলের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে জানালে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এরপর এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. সালেহকে সদস্য সচিব করা হয় সহকারী প্রকৌশলী রাদিব আল আমিন ও সদস্য করা হয় সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে তদন্ত কমিটি গত ২/৩/২০ইং তারিখে দাখিল করা প্রতিবেদনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানাকে অতিরিক্ত ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭শ’ ৯৬ টাকা বিল দেবার সুপারিশ করার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে টাকা হাতিয়ে নেবার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সিটি মেয়র স্মারক নম্বর ৪২১ তারিখ ৮/৩/২০২০ইং তারিখে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। কিন্তু কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১৮/৫/২০ইং তারিখে সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।

অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম ঘটনার ব্যাপারে তার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে সতর্ক করে দেন সিটি মেয়র। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অবহিত হবার পর গত ৭ জুন তারিখে স্মারক নম্বর ৩৬৬ তারিখ ৭/৬/২০ইং তারিখে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের কাজে কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর সিটি কররেপারেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশ পাবার পর ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোটি টাকার বিল জালিয়াতির ঘটনার জন্য সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনার ও নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আযম ও প্রকল্পের পরামর্শক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানাকে দায়ী করে গত ২৬ আগস্ট ২০২১ইং তারিখে সিটি মেয়রের কাছে দীর্ঘ প্রতিবেদন দাখিল করে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে না নিয়ে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার জন্য আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এবার সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তরা লিখিতভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো পুরো ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে সাধারণ অপরাধের সামিল বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি টেকনিক্যাল হ্যান্ড নই কমিটির অন্যরা আমাকে স্বাক্ষর করতে বলায় আমি স্বাক্ষর দিয়েছি। তবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ঘটনার সঙ্গে অনেকেই জড়িত, সবাইকেই আমলে নেয়া উচিত।

অন্য সদস্য সহকারী প্রকৌশলী যান্ত্রিক সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত ছিল। এছাড়া আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর পরই সিটি মেয়র স্মারক নম্বর ১০১ তারিখ ৪ জানুয়ারি সাসপেন্ডে থাকা সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোনারের সাসপেনশন প্রত্যাহার করার আদেশ দেন। তবে ঘটনার মূল নায়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খায়রুল কবীর রানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। তাকে ঘটনার পর থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিযুক্তরা। সার্বিক বিষয়ে জানতে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।