তৈরি বীজ দিয়ে পেঁয়াজ আবাদ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজকে গত বছর পেঁয়াজের আবাদ করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কারণ চড়া দামে পেঁয়াজের বীজ কিনে পেঁয়াজ রোপণ করতে হয় তাকে। এতে পেঁয়াজ আবাদের খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেও আশানুরূপ লাভ করতে পারেননি তিনি।

গত বছর হতাশ হলেও এ বছর মনের আনন্দে পেঁয়াজ আবাদে মাঠে নেমেছেন তিনি। কারণ এ বছর তার ঘরেই রয়েছে পেঁয়াজের বীজ। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় আধা মণ পেঁয়াজের বীজ প্রস্তুত করে রেখেছিলেন আর তাই নিজের ঘরের বীজ দিয়ে এবার মনের আনন্দে পেঁয়াজ আবাদে মাঠে নেমেছেন তিনি। আশা করছেন এ বছর পেঁয়াজ আবাদ করে অনেক লাভবান হবেন তিনি।

তিনি বলেন, গত বছর এক কেজি পেঁয়াজের বীজ কিনতে হয়েছিল তাকে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। এত চড়া দামে পেঁয়াজের বীজ কিনে ২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ হয়। বিশাল অঙ্কের খরচ করে গত বছর ১০ লাখ টাকার বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেননি তিনি। আজিজ বলেন, প্রথমে নিজের জমিতে তৈরি করা বীজ দিয়ে পেঁয়াজের চারার ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও বীজের ভালো রেজাল্ট পাওয়ায় আশাবাদী হয়েছেন তিনি। গত বছরে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এক কেজি বীজের চারা প্রয়োজন হয় কিন্তু এ বছর মাত্র ৬০০/৭০০ গ্রাম বীজের চারা দিয়েই এক বিঘা জমির আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে পেঁয়াজ আবাদে বীজের খরচ পুরোটাই বেঁচে গেছে। প্রথম দফায় ১১ বিঘা জমিতে নিজের বীজ দিয়ে আবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ায় আরও ৮/১০ বিঘা আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত কিছু বীজ বিক্রিও করেছে সে। তার মতো সাঁথিয়া ও সুজানগরের প্রায় প্রতিটি পেঁয়াজ চাষির ঘরেই এ বছর নিজেদের তৈরি পেঁয়াজের বীজ রয়েছে। আর নিজেদের বীজ দিয়ে পেঁয়াজ আবাদ করে সফল হয়েছেন সবাই।

কৃষি বিভাগ জানায় গত বছরের পেঁয়াজ বীজের চড়া মুল্যের কারণে অনেকেই পেঁয়াজ আবাদ করতে হিমশিম খায় আর এ কারণেই এ বছর কৃষকরা নিজেদের তৈরি করা বীজ থেকে পেঁয়াজ আবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে পেঁয়াজ আবাদের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পেঁয়াজ আবাদের পরিমাণও বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইদ্রিস আলী জানালেন, গত বছর পাবনায় ৪৪ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ আবাদ করে ৬ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়াজ উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের উৎপাদনকে এ বছরের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইতোমধ্যে ৩১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ আবাদ শেষ হয়েছে গতকাল পর্যন্ত। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই চলবে পেঁয়াজ আবাদ, ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে যখন একদিকে চারা পেঁয়াজ আবাদ করতে ব্যস্ত কৃষকরা তখন আরেকদিকে মূলকাটা পেঁয়াজ (কন্দ পেঁয়াজ) ঘরে তুলছে কৃষকরা। বাজারে এসেছে নতুন পেঁয়াজ (মূলকাটা) তবে, এ বছর মূলকাটা পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানায় অক্টোবর নভেম্বর মাসে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করা হয় এবং ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে এ পেঁয়াজ বাজারে আসে। চারা পেঁয়াজ উঠার আগ পর্যন্ত মূলকাটা পেঁয়াজ দেশের পেঁয়াজের চাহিদা মেটায়। গত বছর পেঁয়াজের দাম চড়া থাকায় ৯ হাজার ৩০৫ হেক্টর কন্দ পেঁয়াজ আবাদ করে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। গত বছরের অর্জনকে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ বছর ৮ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে আবাদ কমলেও এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান ইদ্রিস আলী।

ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ জমির পেঁয়াজ কাটা হয়েছে আর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পেঁয়াজ কাটা চলবে, ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই মূলকাটা পেঁয়াজ ঘরে তুলে তারপর চারা পেঁয়াজ আবাদ করবে। এদিকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছে না কৃষকরা।

পাবনার সুজানগর উপজেলার উলাট গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, গত বছর এ সময় এক মণ মূলকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। কিন্তু এ বছর এক মণ নতুন পেঁয়াজ (মূলকাটা) পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। মূলকাটা পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করা যায় না তাই আশানুরূপ দাম না পেলেও পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে কৃষকদের বলে জানান তিনি।

পাবনার সুজানগর উপজেলার পেঁয়াজের পাইকারি বেপারী রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এছাড়া বড় পাইকারদের কাছে এখনও আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কম বলে জানান তিনি। তবে এ দাম থাকলে কৃষকের লোকসান হবে না বলে জানান তিনি। মূলকাটা পেঁয়াজ পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ করা যায় না তাই কৃষকদের স্বার্থে পেঁয়াজের মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর চারা পেঁয়াজ ও কন্দ পেঁয়াজ মিলে প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৭ লাখ ৫ হাজার টনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পেঁয়াজ আবাদের অগ্রগতি দেখে আশা করা যাচ্ছে পিয়াজের আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

পেঁয়াজের বর্তমান বাজার দর ঠিক থাকলে কৃষকদের লোকসান হবে না। কারণ এ বছর উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় এবং পেঁয়াজ আবাদে কৃষকদের নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ করে লাভবান হবে বলে আশা করেন তিনি।

পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে এখনও পুরোপুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না ফলে প্রয়োজন অনুসারে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এখন পেঁয়াজের কোন সংকট নেই বলে জানান তিনি।

রবিবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২২ , ২৫ পৌষ ১৪২৮ ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

তৈরি বীজ দিয়ে পেঁয়াজ আবাদ

image

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামের তৈরি বীজ দিয়ে পেঁয়াজের আবাদ -সংবাদ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজকে গত বছর পেঁয়াজের আবাদ করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কারণ চড়া দামে পেঁয়াজের বীজ কিনে পেঁয়াজ রোপণ করতে হয় তাকে। এতে পেঁয়াজ আবাদের খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেও আশানুরূপ লাভ করতে পারেননি তিনি।

গত বছর হতাশ হলেও এ বছর মনের আনন্দে পেঁয়াজ আবাদে মাঠে নেমেছেন তিনি। কারণ এ বছর তার ঘরেই রয়েছে পেঁয়াজের বীজ। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় আধা মণ পেঁয়াজের বীজ প্রস্তুত করে রেখেছিলেন আর তাই নিজের ঘরের বীজ দিয়ে এবার মনের আনন্দে পেঁয়াজ আবাদে মাঠে নেমেছেন তিনি। আশা করছেন এ বছর পেঁয়াজ আবাদ করে অনেক লাভবান হবেন তিনি।

তিনি বলেন, গত বছর এক কেজি পেঁয়াজের বীজ কিনতে হয়েছিল তাকে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। এত চড়া দামে পেঁয়াজের বীজ কিনে ২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ হয়। বিশাল অঙ্কের খরচ করে গত বছর ১০ লাখ টাকার বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেননি তিনি। আজিজ বলেন, প্রথমে নিজের জমিতে তৈরি করা বীজ দিয়ে পেঁয়াজের চারার ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও বীজের ভালো রেজাল্ট পাওয়ায় আশাবাদী হয়েছেন তিনি। গত বছরে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এক কেজি বীজের চারা প্রয়োজন হয় কিন্তু এ বছর মাত্র ৬০০/৭০০ গ্রাম বীজের চারা দিয়েই এক বিঘা জমির আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে পেঁয়াজ আবাদে বীজের খরচ পুরোটাই বেঁচে গেছে। প্রথম দফায় ১১ বিঘা জমিতে নিজের বীজ দিয়ে আবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ায় আরও ৮/১০ বিঘা আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত কিছু বীজ বিক্রিও করেছে সে। তার মতো সাঁথিয়া ও সুজানগরের প্রায় প্রতিটি পেঁয়াজ চাষির ঘরেই এ বছর নিজেদের তৈরি পেঁয়াজের বীজ রয়েছে। আর নিজেদের বীজ দিয়ে পেঁয়াজ আবাদ করে সফল হয়েছেন সবাই।

কৃষি বিভাগ জানায় গত বছরের পেঁয়াজ বীজের চড়া মুল্যের কারণে অনেকেই পেঁয়াজ আবাদ করতে হিমশিম খায় আর এ কারণেই এ বছর কৃষকরা নিজেদের তৈরি করা বীজ থেকে পেঁয়াজ আবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে পেঁয়াজ আবাদের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পেঁয়াজ আবাদের পরিমাণও বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইদ্রিস আলী জানালেন, গত বছর পাবনায় ৪৪ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ আবাদ করে ৬ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পেয়াজ উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের উৎপাদনকে এ বছরের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইতোমধ্যে ৩১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ আবাদ শেষ হয়েছে গতকাল পর্যন্ত। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই চলবে পেঁয়াজ আবাদ, ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে যখন একদিকে চারা পেঁয়াজ আবাদ করতে ব্যস্ত কৃষকরা তখন আরেকদিকে মূলকাটা পেঁয়াজ (কন্দ পেঁয়াজ) ঘরে তুলছে কৃষকরা। বাজারে এসেছে নতুন পেঁয়াজ (মূলকাটা) তবে, এ বছর মূলকাটা পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানায় অক্টোবর নভেম্বর মাসে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করা হয় এবং ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে এ পেঁয়াজ বাজারে আসে। চারা পেঁয়াজ উঠার আগ পর্যন্ত মূলকাটা পেঁয়াজ দেশের পেঁয়াজের চাহিদা মেটায়। গত বছর পেঁয়াজের দাম চড়া থাকায় ৯ হাজার ৩০৫ হেক্টর কন্দ পেঁয়াজ আবাদ করে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। গত বছরের অর্জনকে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ বছর ৮ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে আবাদ কমলেও এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান ইদ্রিস আলী।

ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ জমির পেঁয়াজ কাটা হয়েছে আর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পেঁয়াজ কাটা চলবে, ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই মূলকাটা পেঁয়াজ ঘরে তুলে তারপর চারা পেঁয়াজ আবাদ করবে। এদিকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছে না কৃষকরা।

পাবনার সুজানগর উপজেলার উলাট গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, গত বছর এ সময় এক মণ মূলকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। কিন্তু এ বছর এক মণ নতুন পেঁয়াজ (মূলকাটা) পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। মূলকাটা পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করা যায় না তাই আশানুরূপ দাম না পেলেও পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে কৃষকদের বলে জানান তিনি।

পাবনার সুজানগর উপজেলার পেঁয়াজের পাইকারি বেপারী রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এছাড়া বড় পাইকারদের কাছে এখনও আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কম বলে জানান তিনি। তবে এ দাম থাকলে কৃষকের লোকসান হবে না বলে জানান তিনি। মূলকাটা পেঁয়াজ পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ করা যায় না তাই কৃষকদের স্বার্থে পেঁয়াজের মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর চারা পেঁয়াজ ও কন্দ পেঁয়াজ মিলে প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৭ লাখ ৫ হাজার টনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পেঁয়াজ আবাদের অগ্রগতি দেখে আশা করা যাচ্ছে পিয়াজের আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

পেঁয়াজের বর্তমান বাজার দর ঠিক থাকলে কৃষকদের লোকসান হবে না। কারণ এ বছর উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় এবং পেঁয়াজ আবাদে কৃষকদের নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ করে লাভবান হবে বলে আশা করেন তিনি।

পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে এখনও পুরোপুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না ফলে প্রয়োজন অনুসারে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এখন পেঁয়াজের কোন সংকট নেই বলে জানান তিনি।