ছবি তোলার কারণে যাত্রী ও সাংবাদিককে মারধর

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করা এমভি সুরভী-৯ লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) বাতিল করেছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। লঞ্চের ইঞ্জিনের ত্রুটি আছে কি-না তা পর্যবেক্ষণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক (নৌ-নিটা) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি সংবাদেকে বলেন, ‘গত শনিবার রাতে সুরভী-৯ লঞ্চের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি ঘটনা করা হবে। এ ছাড়া পরিবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই লঞ্চের ভয়েজ (যাত্রা) বাতিল করা হবে।’

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আগুন আতঙ্কের ঘটনায় সুরভী-৯ লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জ পাড় হলে ইঞ্জিনরুমে আগুন দেখে জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল দেন এক যাত্রী। এ সময় লঞ্চে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে চাঁদপুরের মোহনপুরে লঞ্চটি নোঙর করায় নৌ-পুলিশ।

যেসব যাত্রীরা মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে দিয়েছিল তাদের খুঁজে বের করে মারধর শুরু করে। সেই চিত্র ধারণ করতে গেলে লঞ্চের ম্যানেজার মিজানের নেতৃত্বে স্টাফরা আমাকে এবং আমার সহকর্মী ইন্ডেপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের দেওয়ান মোহনের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় আমাদের। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা আমাদের উদ্ধার করে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর সংলগ্ন মোহনপুর লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চটিকে থামিয়ে ফায়ার ব্রিগেডের সহায়তায় তল্লাশি করে কোথাও আগুনের চিহ্ন পাননি। ফলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সুরভী-৯ লঞ্চটি বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানরা ছবি তুলতে যায়। এ সময় লঞ্চের কর্মচারীরা ৯৯৯ এ কল করা ব্যক্তি, ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তি ও টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানদের ওপর হামলা চালায়।

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল জানায়, এ সময় ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সনদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। লঞ্চটির মালিক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু।

লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে দায়িত্বরত গ্রিজারম্যান আনিচুর রহমান জানায়, ‘লঞ্চ পানি দিয়ে পরিষ্কার করার সময় কিছুটা পানি অ্যাডজাস্ট পাইপে জমেছিল। ইঞ্জিন গরম হয়ে ওখানে একটু ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা লঞ্চ চালিয়ে নির্বিঘেœ বরিশাল ঘাটে পৌঁছেছে।’

এনিয়ে নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা যাত্রীদের মারধরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করছেন আর ইঞ্জিনে ক্রটির বিষয়টি তাদের টিম দেখভাল করবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন ইন্ডিপিনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান দেওয়ান মোহন ও চ্যানেল ২৪-এর ক্যামেরাম্যান রুহুল আমিন।

সোমবার, ১০ জানুয়ারী ২০২২ , ২৬ পৌষ ১৪২৮ ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সুরভী-৯ লঞ্চে আগুন আতঙ্ক

ছবি তোলার কারণে যাত্রী ও সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করা এমভি সুরভী-৯ লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) বাতিল করেছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। লঞ্চের ইঞ্জিনের ত্রুটি আছে কি-না তা পর্যবেক্ষণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক (নৌ-নিটা) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি সংবাদেকে বলেন, ‘গত শনিবার রাতে সুরভী-৯ লঞ্চের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি ঘটনা করা হবে। এ ছাড়া পরিবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই লঞ্চের ভয়েজ (যাত্রা) বাতিল করা হবে।’

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আগুন আতঙ্কের ঘটনায় সুরভী-৯ লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জ পাড় হলে ইঞ্জিনরুমে আগুন দেখে জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল দেন এক যাত্রী। এ সময় লঞ্চে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে চাঁদপুরের মোহনপুরে লঞ্চটি নোঙর করায় নৌ-পুলিশ।

যেসব যাত্রীরা মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে দিয়েছিল তাদের খুঁজে বের করে মারধর শুরু করে। সেই চিত্র ধারণ করতে গেলে লঞ্চের ম্যানেজার মিজানের নেতৃত্বে স্টাফরা আমাকে এবং আমার সহকর্মী ইন্ডেপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের দেওয়ান মোহনের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় আমাদের। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা আমাদের উদ্ধার করে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর সংলগ্ন মোহনপুর লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চটিকে থামিয়ে ফায়ার ব্রিগেডের সহায়তায় তল্লাশি করে কোথাও আগুনের চিহ্ন পাননি। ফলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সুরভী-৯ লঞ্চটি বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানরা ছবি তুলতে যায়। এ সময় লঞ্চের কর্মচারীরা ৯৯৯ এ কল করা ব্যক্তি, ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তি ও টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানদের ওপর হামলা চালায়।

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল জানায়, এ সময় ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সনদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। লঞ্চটির মালিক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু।

লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে দায়িত্বরত গ্রিজারম্যান আনিচুর রহমান জানায়, ‘লঞ্চ পানি দিয়ে পরিষ্কার করার সময় কিছুটা পানি অ্যাডজাস্ট পাইপে জমেছিল। ইঞ্জিন গরম হয়ে ওখানে একটু ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা লঞ্চ চালিয়ে নির্বিঘেœ বরিশাল ঘাটে পৌঁছেছে।’

এনিয়ে নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা যাত্রীদের মারধরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করছেন আর ইঞ্জিনে ক্রটির বিষয়টি তাদের টিম দেখভাল করবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন ইন্ডিপিনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান দেওয়ান মোহন ও চ্যানেল ২৪-এর ক্যামেরাম্যান রুহুল আমিন।