এক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওলট-পালট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে ঘিরে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতেও। ইতোমধ্যে দুই দলেরই একাধিক নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলের নির্দেশনা অমান্যের।

গত ৩০ নভেম্বর নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।

নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুুল আলম খন্দকার খোরশেদের নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে রবিউল হোসেনকে। রবিউল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধাকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল। তবে তার আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এই নেতা। পদত্যাগের আগে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ূন কবীর মৃধা। ‘আমাকে বহিষ্কার করবেন, করেন?’ লিখে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি। কিন্তু পরে পদ থেকে নিজেই পদত্যাগ করেন তিনি। হুমায়ূন কবীর সাংসদ শামীম ওসমান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।

আওয়ামী লীগের আরও এক নেতা নাসিক ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুুল করিম বাবুকেও সতর্ক করেছে দল। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন তিনি। তিনি নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন, স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষুব্ধ হয় দল। পরে আবদুল করিম দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে দল তার বিরুদ্ধে আর ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলর নৌকাবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন দলেরই নেতারা।

এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নারায়ণগঞ্জে আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসলে দেখতে পান যে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী একাধিক নেতা সেখানে অনুপস্থিত। ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের খোঁজ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনুপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের নেতারা শামীম ওসমানের অনুসারী। এই ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় শনিবার (৮ জানুয়ারি) মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

পরিবর্তন হয়েছে বিএনপিতেও। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তৈমুর আলম খন্দকারকে তিনটি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তৈমুর আলমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য পদ থেকে। তৈমুরের পক্ষে কাজ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ড থেকেও। আর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে মহানগর যুবদলের আওতাধীন তিনটি থানা ও ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি।

আরও খবর
গবেষণায় সময় দিতে চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আ’লীগের সংলাপ ১৭ জানুয়ারি
জনগণ কখনো গডফাদারকে গ্রহণ করেনি : আইভী
মাউশিতে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম অভিযান চলছে দুদকের
তীব্র শীতের কারণে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ লক্ষাধিকের, মৃত্যু ১৬
সরকার এখনই লকডাউন দেয়ার কথা ভাবছে না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবি, চার দিন পর ৬ লাশ উদ্ধার
পিপিপি ভিত্তিতে নির্মাণ হবে চার লেনের মহাসড়ক
গারো কিশোরী ধর্ষণ মামলায় ৫ আসামি রিমান্ডে
জামালপুরে মা-মেয়েকে খুন করা হয় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুন
প্রতিবন্ধী আরফাতুলের স্বপ্ন পুড়ে ছাই করে দিল সন্ত্রাসীরা
৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ : লন্ডনে বঙ্গবন্ধু

সোমবার, ১০ জানুয়ারী ২০২২ , ২৬ পৌষ ১৪২৮ ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওলট-পালট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে ঘিরে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতেও। ইতোমধ্যে দুই দলেরই একাধিক নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলের নির্দেশনা অমান্যের।

গত ৩০ নভেম্বর নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।

নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুুল আলম খন্দকার খোরশেদের নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে রবিউল হোসেনকে। রবিউল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধাকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল। তবে তার আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এই নেতা। পদত্যাগের আগে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ূন কবীর মৃধা। ‘আমাকে বহিষ্কার করবেন, করেন?’ লিখে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি। কিন্তু পরে পদ থেকে নিজেই পদত্যাগ করেন তিনি। হুমায়ূন কবীর সাংসদ শামীম ওসমান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।

আওয়ামী লীগের আরও এক নেতা নাসিক ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুুল করিম বাবুকেও সতর্ক করেছে দল। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন তিনি। তিনি নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন, স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষুব্ধ হয় দল। পরে আবদুল করিম দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে দল তার বিরুদ্ধে আর ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলর নৌকাবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন দলেরই নেতারা।

এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নারায়ণগঞ্জে আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসলে দেখতে পান যে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী একাধিক নেতা সেখানে অনুপস্থিত। ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের খোঁজ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনুপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের নেতারা শামীম ওসমানের অনুসারী। এই ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় শনিবার (৮ জানুয়ারি) মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

পরিবর্তন হয়েছে বিএনপিতেও। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তৈমুর আলম খন্দকারকে তিনটি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তৈমুর আলমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য পদ থেকে। তৈমুরের পক্ষে কাজ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ড থেকেও। আর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে মহানগর যুবদলের আওতাধীন তিনটি থানা ও ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি।