পিপিপি ভিত্তিতে নির্মাণ হবে চার লেনের মহাসড়ক

যানজট নিরসনে ‘রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা’ দুইলেনের সড়ককে চারলেনে উন্নীত করা হচ্ছে। চারলেনের পাশাপাশি প্রকল্পে থাকবে দুইলেনের সার্ভিস সড়ক। ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি)’ ভিত্তিতে সড়কটি নির্মাণ করবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

হাতিরঝিল থেকে ডেমরা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিবে দুই হাজার ৯৪ কোটি টাকা। বাকি এক হাজার ২০৯ কোটি ব্যয় হবে সরকারি তহবিল থেকে।

সড়কটি নির্মাণে গতকাল ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর।

চুক্তিপত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর এবং সিসিসিসি ও সিআরবিসির পক্ষে সংস্থার কর্মকর্তা প্যাং মিং স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রওশন আরা মান্নান, সড়ক মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ ও প্রকল্পের পরিচালক এনামুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা।

সওজ সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দ্বিতীয় প্রকল্প এটি। প্রথম প্রকল্প হিসেবে ঢাকা বাইপাস প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা চারলেন প্রকল্পটি এডিবির অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়।

এই প্রকল্পটি বাস্তবারিত হলে ঢাকা শহরের রামপুরা হতে ডেমরা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক এনামুল হক সংবাদকে বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে পুরো ব্যয় বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠার। নির্মাণ শেষে ২১ বছর টোল আদায় করবে তারা। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, মূল প্রকল্প তদারকি, পরামর্শক সেবা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ইউনিটের বেতন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হবে সরকারি অর্থায়নে। তবে যানবাহন প্রতি ঠিক কী পরিমাণ টোল দিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় দুটি ব্রিজ, চারটি ইন্টারসেকশন, দুটি কালভার্ট, একটি ওভারপাস, ফুটওভার ব্রিজ ও টোলপ্লাজা নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল চার বছর। প্রকল্পের উড়ালসড়কটি চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ঢাকার কেন্দ্রে আসার বিকল্প প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি এটি যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।

আরও খবর
গবেষণায় সময় দিতে চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আ’লীগের সংলাপ ১৭ জানুয়ারি
এক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওলট-পালট
জনগণ কখনো গডফাদারকে গ্রহণ করেনি : আইভী
মাউশিতে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম অভিযান চলছে দুদকের
তীব্র শীতের কারণে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ লক্ষাধিকের, মৃত্যু ১৬
সরকার এখনই লকডাউন দেয়ার কথা ভাবছে না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবি, চার দিন পর ৬ লাশ উদ্ধার
গারো কিশোরী ধর্ষণ মামলায় ৫ আসামি রিমান্ডে
জামালপুরে মা-মেয়েকে খুন করা হয় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুন
প্রতিবন্ধী আরফাতুলের স্বপ্ন পুড়ে ছাই করে দিল সন্ত্রাসীরা
৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ : লন্ডনে বঙ্গবন্ধু

সোমবার, ১০ জানুয়ারী ২০২২ , ২৬ পৌষ ১৪২৮ ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা

পিপিপি ভিত্তিতে নির্মাণ হবে চার লেনের মহাসড়ক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

যানজট নিরসনে ‘রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা’ দুইলেনের সড়ককে চারলেনে উন্নীত করা হচ্ছে। চারলেনের পাশাপাশি প্রকল্পে থাকবে দুইলেনের সার্ভিস সড়ক। ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি)’ ভিত্তিতে সড়কটি নির্মাণ করবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

হাতিরঝিল থেকে ডেমরা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিবে দুই হাজার ৯৪ কোটি টাকা। বাকি এক হাজার ২০৯ কোটি ব্যয় হবে সরকারি তহবিল থেকে।

সড়কটি নির্মাণে গতকাল ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর।

চুক্তিপত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর এবং সিসিসিসি ও সিআরবিসির পক্ষে সংস্থার কর্মকর্তা প্যাং মিং স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রওশন আরা মান্নান, সড়ক মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ ও প্রকল্পের পরিচালক এনামুল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা।

সওজ সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দ্বিতীয় প্রকল্প এটি। প্রথম প্রকল্প হিসেবে ঢাকা বাইপাস প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা চারলেন প্রকল্পটি এডিবির অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়।

এই প্রকল্পটি বাস্তবারিত হলে ঢাকা শহরের রামপুরা হতে ডেমরা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক এনামুল হক সংবাদকে বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে পুরো ব্যয় বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠার। নির্মাণ শেষে ২১ বছর টোল আদায় করবে তারা। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, মূল প্রকল্প তদারকি, পরামর্শক সেবা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ইউনিটের বেতন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হবে সরকারি অর্থায়নে। তবে যানবাহন প্রতি ঠিক কী পরিমাণ টোল দিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় দুটি ব্রিজ, চারটি ইন্টারসেকশন, দুটি কালভার্ট, একটি ওভারপাস, ফুটওভার ব্রিজ ও টোলপ্লাজা নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল চার বছর। প্রকল্পের উড়ালসড়কটি চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ঢাকার কেন্দ্রে আসার বিকল্প প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি এটি যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।