ফের বাড়লো ডলারের দাম, এক ডলারের জন্য গুনতে হবে ৮৬ টাকা

দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়ে শুরু হয়েছে তৃতীয় ঢেউ। এরমধ্যে আমদানি বেড়েছে বহু গুণে। এতে প্রচুুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে সরকারের। এরমধ্যে ফের কমলো ডলারের বিপরিতে টাকার মান। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এক ডলারের জন্য ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা খরচ করতে হয়েছিল। গত রোববার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকায়। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দরে। খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯১ টাকায়।

বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক গত রোববার ৯০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯০ টাকা ৩০ পয়সায়। ব্যাংকের বাইরে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে প্রতি ডলার ৯১ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ৫ আগস্ট থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। বাড়তে বাড়তে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ওই একই দর ছিল। রোববার থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১ দশমিক ৪১ শতাংশ দর হারিয়েছে।

আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে টাকা। তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এতে উদ্বেগের কোন কারণ নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষকরা।

ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববারও ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও দর বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের রোববার পর্যন্ত (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত) সব মিলিয়ে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে যে দরে ডলার বিক্রি বা কেনে তাকে আন্তব্যাংক লেনদেন ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলোও একে অন্যের কাছ থেকে এই রেটে ডলার কেনাবেচা করে থাকে। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে সাড়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যবধান কখনোই এক থেকে-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। রিজার্ভে পর্যাপ্ত ডলার জমা আছে। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে ডলার বাজারে ছাড়া হবে।’

অথচ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের নেমে এসেছে। গত রোববার দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সবশেষ গত নভেম্বর মাসে ৭৮৫ কোটি ৪৬ লাখ (৭.৮৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ যা এক মাসের হিসাবে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ছয় মাসের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, এই ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ কম। তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২ , ২৭ পৌষ ১৪২৮ ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ফের বাড়লো ডলারের দাম, এক ডলারের জন্য গুনতে হবে ৮৬ টাকা

image

দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়ে শুরু হয়েছে তৃতীয় ঢেউ। এরমধ্যে আমদানি বেড়েছে বহু গুণে। এতে প্রচুুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে সরকারের। এরমধ্যে ফের কমলো ডলারের বিপরিতে টাকার মান। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এক ডলারের জন্য ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা খরচ করতে হয়েছিল। গত রোববার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকায়। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দরে। খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯১ টাকায়।

বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক গত রোববার ৯০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯০ টাকা ৩০ পয়সায়। ব্যাংকের বাইরে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে প্রতি ডলার ৯১ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ৫ আগস্ট থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। বাড়তে বাড়তে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ওই একই দর ছিল। রোববার থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১ দশমিক ৪১ শতাংশ দর হারিয়েছে।

আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে টাকা। তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এতে উদ্বেগের কোন কারণ নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষকরা।

ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববারও ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও দর বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের রোববার পর্যন্ত (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত) সব মিলিয়ে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে যে দরে ডলার বিক্রি বা কেনে তাকে আন্তব্যাংক লেনদেন ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলোও একে অন্যের কাছ থেকে এই রেটে ডলার কেনাবেচা করে থাকে। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে সাড়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যবধান কখনোই এক থেকে-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। রিজার্ভে পর্যাপ্ত ডলার জমা আছে। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে ডলার বাজারে ছাড়া হবে।’

অথচ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের নেমে এসেছে। গত রোববার দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সবশেষ গত নভেম্বর মাসে ৭৮৫ কোটি ৪৬ লাখ (৭.৮৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ যা এক মাসের হিসাবে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ছয় মাসের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, এই ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ কম। তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।