নৌকার বাইরে যাবার উপায় নেই, বললেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নানা কারণেই আলোচনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান। নির্বাচনে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। খোদ সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অভিযোগ, শামীম ওসমান নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে তৈমুর আলমের পক্ষে কাজ করছেন। তবে গতকাল দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি। এইখানে খেলার চেষ্টা করবেন না। কলাগাছ না আমগাছ সেটা বিবেচ্য বিষয় না। এইটা আমাদের স্বাধীনতার নৌকা। সুতরাং নৌকার বাইরে যাবার কোন উপায় নেই। আমার বাবা মৃত্যুর সময় আমাদের ভাই-বোনের হাত শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেইখানে আর কোন কথা থাকতে পারে না।’

একজন সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে বিধিনিষেধ থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারেননি বলে জানান। তবে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি নামি নাই। সেভাবে নামতে পারি নাই। তবে আজকে থেকে নামলাম।’

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে নৌকা ‘ডোবানোর মতো ক্ষমতা’ বিএনপি-জামাতের নাই। তিনি আরও বলেন, ‘মিছিল-মিটিং বা পোস্টারে ভোট আসে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। কাউকে দোষারোপ করে কাজ করা যায় না। সামনে অনেক কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। কোন চাপে পড়ে এই সংবাদ সম্মেলন করছেন কি-না জানতে চাইলে শামীম ওসমান নিজের মুঠোফোন দেখে একটি ইংরেজি উক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজেই ঝড়। কারও কোন চাপ নাই। আর কারও চাপে মাথানত করার মানুষ আমি না।’

‘গডফাদার’ তকমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কারও গডফাদার মন চাইলে সে বলতে পারেন। আই ডোন্ট কেয়ার। এইসব গালি খেতে খেতে এই পর্যন্ত আসছি। উনি কী বলতেছেন সেইটা তার ব্যাপার। তবে ১৬ তারিখ খেলা হবে। খেলায় আমরাই জিতবো।’

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন শামীম ওসমান। এক পর্যায়ে নিজের বাবা-মাকে নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আবেগাপ্লুুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছি। জীবনের সবচেয়ে কষ্টের একটা সংবাদ সম্মেলন করলাম। একজনের কাছে অনুরোধ করবো, অন্ততপক্ষে আল্লাহর কাছে মাফ চান। তাহলে একটু শান্তি পাই। কারণ শয়তানে শয়তানি করতে পারে। মানুষের সেইটা করা উচিত না। আমি তো মানুষ। আমি তো রোবট না।’

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ, মহানগর আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমানসহ শামীম ওসমান অনুসারী শতাধিক নেতাকর্মী।

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২ , ২৭ পৌষ ১৪২৮ ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নৌকার বাইরে যাবার উপায় নেই, বললেন শামীম ওসমান

‘জীবনের সবচেয়ে কষ্টের একটা সংবাদ সম্মেলন করলাম’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নানা কারণেই আলোচনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান। নির্বাচনে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। খোদ সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অভিযোগ, শামীম ওসমান নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে তৈমুর আলমের পক্ষে কাজ করছেন। তবে গতকাল দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি। এইখানে খেলার চেষ্টা করবেন না। কলাগাছ না আমগাছ সেটা বিবেচ্য বিষয় না। এইটা আমাদের স্বাধীনতার নৌকা। সুতরাং নৌকার বাইরে যাবার কোন উপায় নেই। আমার বাবা মৃত্যুর সময় আমাদের ভাই-বোনের হাত শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেইখানে আর কোন কথা থাকতে পারে না।’

একজন সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে বিধিনিষেধ থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারেননি বলে জানান। তবে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি নামি নাই। সেভাবে নামতে পারি নাই। তবে আজকে থেকে নামলাম।’

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে নৌকা ‘ডোবানোর মতো ক্ষমতা’ বিএনপি-জামাতের নাই। তিনি আরও বলেন, ‘মিছিল-মিটিং বা পোস্টারে ভোট আসে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। কাউকে দোষারোপ করে কাজ করা যায় না। সামনে অনেক কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। কোন চাপে পড়ে এই সংবাদ সম্মেলন করছেন কি-না জানতে চাইলে শামীম ওসমান নিজের মুঠোফোন দেখে একটি ইংরেজি উক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজেই ঝড়। কারও কোন চাপ নাই। আর কারও চাপে মাথানত করার মানুষ আমি না।’

‘গডফাদার’ তকমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কারও গডফাদার মন চাইলে সে বলতে পারেন। আই ডোন্ট কেয়ার। এইসব গালি খেতে খেতে এই পর্যন্ত আসছি। উনি কী বলতেছেন সেইটা তার ব্যাপার। তবে ১৬ তারিখ খেলা হবে। খেলায় আমরাই জিতবো।’

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন শামীম ওসমান। এক পর্যায়ে নিজের বাবা-মাকে নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আবেগাপ্লুুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছি। জীবনের সবচেয়ে কষ্টের একটা সংবাদ সম্মেলন করলাম। একজনের কাছে অনুরোধ করবো, অন্ততপক্ষে আল্লাহর কাছে মাফ চান। তাহলে একটু শান্তি পাই। কারণ শয়তানে শয়তানি করতে পারে। মানুষের সেইটা করা উচিত না। আমি তো মানুষ। আমি তো রোবট না।’

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ, মহানগর আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমানসহ শামীম ওসমান অনুসারী শতাধিক নেতাকর্মী।