রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষ ১৭ জানুয়ারি

আইন, অধ্যাদেশ, সার্চ কমিটি কোন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা হবে বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। কারণ নতুন কমিশনের অধীনেই আগামী বছর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি গঠনের লক্ষ্যে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে একটি আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। যে আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। গত পাঁচ দশকে কোন সরকারই এ সংক্রান্ত আইন করেনি।

গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে ‘সার্চ কমিটি’ করে ইসি গঠন করেছেন। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা ওই দুটো (রাকিব উদ্দিন ও নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন) কমিশনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ব্যর্থতার ব্যাপক সমালোচনা।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান (নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন) কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি।

চলমান সংলাপে অংশ নিয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল ‘আইন প্রণয়ন’ করে নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি সংলাপে যাবে না বলে দিয়েছে। তবে আইন প্রণয়ন তাদেরও দাবি। সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রসঙ্গও তুলেছেন কেউ কেউ।

এবার প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) আইন করে কমিশন গঠনের কথা বলেছে। সরকারি জোটের শরীক এবং সরকার ঘেঁষা দলগুলোও একই দাবি জানিয়েছে।

সংলাপে অংশ নেয়া, অংশ না নেয়া- বাম সংগঠনগুলোর দাবি আইন করে কমিশন গঠনের। বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন প্রণয়ণের কথা বলেছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের এক দাবি, এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল আওয়ামী লীগেও কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ইসির মেয়াদ প্রায় শেষ। হাতে যে সময় আছে, তাতে আইন প্রণয়ন করে ইসি গঠনের সুযোগ নেই। পরবর্তিতে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। জবাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘আইন করতে একদিন লাগে’।

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের আইন এক রাতেই তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে মেনন আরও বলেন, ইসি গঠনে আইন প্রণয়নে এখনও সময় আছে। নতুন বছরে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী।

পরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। সরকার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী সরকার কাজ করবে। গত ২০ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ওই দিন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এবারের সংলাপ শেষ হবে। গত দুই মেয়াদে ইসি গঠনের সংলাপ শেষে ‘সার্চ কমিটি’ করে দেয়া হয়েছিল। এবারও তাই করা হবে বলে মনে করেন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং বাম সংগঠনের নেতারা।

ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দলের এক নেতা সংবাদকে বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করে দেবেন। ওই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে ইসির জন্য নাম চাইবে। সার্চ কমিটিতে কারা থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারককে আহ্বায়ক করা হবে। সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের একজন বিচারক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) থাকতে পারেন। এছাড়া একজন নারীসহ বিশিষ্ট দুইজন নাগরিককে সার্চ কমিটির সদস্য করা হতে পারে।’

এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পাটির (জেপি) প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়ের মধ্যে দিয়ে ১৭টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে।

এর আগে সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংলাপের আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি। এছাড়া বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ সংলাপে অংশ নেবে না। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ইসি গঠনের বদলে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছে।

এদিকে, ইসি গঠনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি জোটের শরীক দল গণতন্ত্রী পার্টি। রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে দলের নেতারা বলেছেন, ওই কাউন্সিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করবেন।

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২ , ২৭ পৌষ ১৪২৮ ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষ ১৭ জানুয়ারি

আইন, অধ্যাদেশ, সার্চ কমিটি কোন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা হবে বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। কারণ নতুন কমিশনের অধীনেই আগামী বছর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি গঠনের লক্ষ্যে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে একটি আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। যে আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। গত পাঁচ দশকে কোন সরকারই এ সংক্রান্ত আইন করেনি।

গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে ‘সার্চ কমিটি’ করে ইসি গঠন করেছেন। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা ওই দুটো (রাকিব উদ্দিন ও নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন) কমিশনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ব্যর্থতার ব্যাপক সমালোচনা।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান (নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন) কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি।

চলমান সংলাপে অংশ নিয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল ‘আইন প্রণয়ন’ করে নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি সংলাপে যাবে না বলে দিয়েছে। তবে আইন প্রণয়ন তাদেরও দাবি। সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রসঙ্গও তুলেছেন কেউ কেউ।

এবার প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) আইন করে কমিশন গঠনের কথা বলেছে। সরকারি জোটের শরীক এবং সরকার ঘেঁষা দলগুলোও একই দাবি জানিয়েছে।

সংলাপে অংশ নেয়া, অংশ না নেয়া- বাম সংগঠনগুলোর দাবি আইন করে কমিশন গঠনের। বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন প্রণয়ণের কথা বলেছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের এক দাবি, এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল আওয়ামী লীগেও কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ইসির মেয়াদ প্রায় শেষ। হাতে যে সময় আছে, তাতে আইন প্রণয়ন করে ইসি গঠনের সুযোগ নেই। পরবর্তিতে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। জবাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘আইন করতে একদিন লাগে’।

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের আইন এক রাতেই তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে মেনন আরও বলেন, ইসি গঠনে আইন প্রণয়নে এখনও সময় আছে। নতুন বছরে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী।

পরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। সরকার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী সরকার কাজ করবে। গত ২০ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ওই দিন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এবারের সংলাপ শেষ হবে। গত দুই মেয়াদে ইসি গঠনের সংলাপ শেষে ‘সার্চ কমিটি’ করে দেয়া হয়েছিল। এবারও তাই করা হবে বলে মনে করেন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং বাম সংগঠনের নেতারা।

ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দলের এক নেতা সংবাদকে বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করে দেবেন। ওই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে ইসির জন্য নাম চাইবে। সার্চ কমিটিতে কারা থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারককে আহ্বায়ক করা হবে। সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের একজন বিচারক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) থাকতে পারেন। এছাড়া একজন নারীসহ বিশিষ্ট দুইজন নাগরিককে সার্চ কমিটির সদস্য করা হতে পারে।’

এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পাটির (জেপি) প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়ের মধ্যে দিয়ে ১৭টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে।

এর আগে সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংলাপের আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি। এছাড়া বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ সংলাপে অংশ নেবে না। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ইসি গঠনের বদলে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছে।

এদিকে, ইসি গঠনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি জোটের শরীক দল গণতন্ত্রী পার্টি। রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে দলের নেতারা বলেছেন, ওই কাউন্সিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করবেন।