টিকায় ব্যাপক আগ্রহ শিক্ষার্থীদের, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষায় বাড়ছে শঙ্কা

রাজশাহীর মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা দ্বিগুণ আগ্রহে টিকা নিচ্ছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে।

এরই মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ হাজার স্কুলশিক্ষার্থী ফাইজারের টিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজও সম্পন্ন করেছে। আর এখনও দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আছে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। এখন সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ফাইজারের টিকা পাচ্ছে। এর মাধ্যমে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে অথচ বয়স ১২ বছর হয়ে গেছে এমন শিক্ষার্থীকেও করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বাইরে বেকল এই জেলার পবা ও দুর্গাপুর উপজেলা এলাকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা করোনা টিকা পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহীর অন্য সাত উপজেলায়ও এই কার্যক্রম শুরু হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এক মাস থেকে তারা স্কুল পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ হাজার শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে। প্রতিদিনই কার্যক্রম চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই প্রথম ধাপ শেষ হবে। এরপর পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রমটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গতকাল রাজশাহীর রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুলে আসেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চলমান টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এ সম্পর্কে খোঁজ নেন।

টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মাউশি মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহীসহ সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রথম ধাপ শেষ হবে।

এদিকে অমিক্রনের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে রাজশাহীর স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণ রোখার প্রধান হাতিয়ার হলো মাস্ক। তাই পথেঘাটে মাস্ক পরে থাকতেই হবে। আর শীতকালিন পূর্বেও সংক্রমণটা বেশি দেখা গেছে। সুতরাং সাবধানতার বিকল্প নেই।

করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের পর গত বছরের জুনে রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৫০ শতাংশ মানুষেরও রিপোর্ট পজিটিভ হয়েছে। ধীরে ধীরে তা কমে আসে। গত অক্টোবর, নভেম্বর-ডিসেম্বরেও রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণের হার কোন কোন দিন শূন্যে নেমেছিল। এখন আবার কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ১৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ১২ শতাংশ।

কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে না বরং কমছে। গত শুক্রবার সকালে মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রি করছিলেন খলিল মিয়া। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘করোনা তো এখন আর নাই। আর ঠা-ার দিনে মাপলার পরছি। মাস্ক পরা যায় না।’ বাজার করতে আসা ষাটোর্ধ্ব জাহিদুল ইসলামও মাস্ক পরেননি। তিনি বলেন, ‘আমি তো দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। এখন মাস্ক না পরলেও চলে। আর কত মাস্ক পরবো!’

রাজশাহীর বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জনবহুল স্থানগুলোতেও এখন বেশিরভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার কিংবা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসও আর এখন নেই। এসব অভ্যাস আবার ফিরিয়ে না আনলে সামনে বিপদ বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর সদ্য সাবেক সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, করোনার সংক্রমণ কমে আসার পরই মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অসচেতনতা শুরু হয়। এখন আবার সচেতন না হলে সামনে বিপদ। তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার আবার একটি নির্দেশনা এসেছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, এখনও রাজশাহী বিভাগে অমিক্রন শনাক্ত হয়নি। তবে করোনার শনাক্তের সংখ্যা একটু বেড়েছে। এখন পরীক্ষা কম হচ্ছে, তাতেই যে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন তাতে সংক্রমণের হারটা বেশি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন আবার সতর্ক হতে হবে। আগের নিয়মকানুন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। স্থানীয় একটি মিটিংয়েও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য রাজশাহীতেও কড়াকড়ি শুরু করা হবে।

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২ , ২৭ পৌষ ১৪২৮ ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টিকায় ব্যাপক আগ্রহ শিক্ষার্থীদের, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষায় বাড়ছে শঙ্কা

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

রাজশাহীর মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা দ্বিগুণ আগ্রহে টিকা নিচ্ছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে।

এরই মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ হাজার স্কুলশিক্ষার্থী ফাইজারের টিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজও সম্পন্ন করেছে। আর এখনও দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আছে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। এখন সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ফাইজারের টিকা পাচ্ছে। এর মাধ্যমে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে অথচ বয়স ১২ বছর হয়ে গেছে এমন শিক্ষার্থীকেও করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বাইরে বেকল এই জেলার পবা ও দুর্গাপুর উপজেলা এলাকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা করোনা টিকা পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহীর অন্য সাত উপজেলায়ও এই কার্যক্রম শুরু হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এক মাস থেকে তারা স্কুল পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ হাজার শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে। প্রতিদিনই কার্যক্রম চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই প্রথম ধাপ শেষ হবে। এরপর পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রমটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গতকাল রাজশাহীর রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুলে আসেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চলমান টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এ সম্পর্কে খোঁজ নেন।

টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মাউশি মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহীসহ সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রথম ধাপ শেষ হবে।

এদিকে অমিক্রনের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে রাজশাহীর স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণ রোখার প্রধান হাতিয়ার হলো মাস্ক। তাই পথেঘাটে মাস্ক পরে থাকতেই হবে। আর শীতকালিন পূর্বেও সংক্রমণটা বেশি দেখা গেছে। সুতরাং সাবধানতার বিকল্প নেই।

করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের পর গত বছরের জুনে রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৫০ শতাংশ মানুষেরও রিপোর্ট পজিটিভ হয়েছে। ধীরে ধীরে তা কমে আসে। গত অক্টোবর, নভেম্বর-ডিসেম্বরেও রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণের হার কোন কোন দিন শূন্যে নেমেছিল। এখন আবার কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ১৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ১২ শতাংশ।

কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে না বরং কমছে। গত শুক্রবার সকালে মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রি করছিলেন খলিল মিয়া। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘করোনা তো এখন আর নাই। আর ঠা-ার দিনে মাপলার পরছি। মাস্ক পরা যায় না।’ বাজার করতে আসা ষাটোর্ধ্ব জাহিদুল ইসলামও মাস্ক পরেননি। তিনি বলেন, ‘আমি তো দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। এখন মাস্ক না পরলেও চলে। আর কত মাস্ক পরবো!’

রাজশাহীর বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জনবহুল স্থানগুলোতেও এখন বেশিরভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার কিংবা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসও আর এখন নেই। এসব অভ্যাস আবার ফিরিয়ে না আনলে সামনে বিপদ বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর সদ্য সাবেক সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, করোনার সংক্রমণ কমে আসার পরই মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অসচেতনতা শুরু হয়। এখন আবার সচেতন না হলে সামনে বিপদ। তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার আবার একটি নির্দেশনা এসেছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, এখনও রাজশাহী বিভাগে অমিক্রন শনাক্ত হয়নি। তবে করোনার শনাক্তের সংখ্যা একটু বেড়েছে। এখন পরীক্ষা কম হচ্ছে, তাতেই যে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন তাতে সংক্রমণের হারটা বেশি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন আবার সতর্ক হতে হবে। আগের নিয়মকানুন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। স্থানীয় একটি মিটিংয়েও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য রাজশাহীতেও কড়াকড়ি শুরু করা হবে।