ডিজিটাল বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি সেটি বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া কোন আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং আওয়ামী লীগ একটি অগ্রসরমাণ বিশ্ব কর্মসূচিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োগ করার বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। কার্যত মানব সভ্যতা কৃষিযুগ থেকে শিল্পযুগের তিনটি স্তর পার হয়ে ডিজিটাল যুগে পা রেখেছে। একে বলা যায় মানব সভ্যতার ডিজিটাল রূপান্তর। এই রূপান্তরের ফলে দুনিয়াটি অতি দ্রুত গতিতে পরিণত হচ্ছে একটি ডিজিটাল প্লানেটে। এই ডিজিটাল প্লানেটের ডিজিটাল যুগটি হলো একটি নতুন সমাজ, একটি নতুন সভ্যতা, একটি নতুন অর্থনীতি, একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা; তথা একটি রূপান্তরিত ডিজিটাল জীবনধারা। যুগটিও অবশ্যই ডিজিটাল। এই ডিজিটাল যুগ হচ্ছে প্রচলিত শিল্পযুগের বদলে ডিজিটাল যুগ প্রতিষ্ঠা করা।

খুব সহজেই ডিজিটাল যুগের আগের সময়টিকে আমরা তথ্য যুগ বলতে পারি। কারণ, তথ্যযুগটি হলো প্রচলিত ধারার শিল্পবিপ্লবের তৃতীয় স্তর। তার লক্ষ্য ছিল তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা। তথ্যযুগের পরের যুগটা ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল যুগ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনার সময় এমন ধারণাই ছিল যে, তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শুধু অর্থনীতির চাকা ঘুরবে। তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলাই প্রধানত এর লক্ষ্য ছিল। আমরা যেমন একটি স্বল্প আয়ের দেশে থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল যুগের কথা বলেছিলাম। কিন্তু, দিনে দিনে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু অর্থনীতি নয়, শুধু সমৃদ্ধি বা উন্নয়ন নয়, এমনকি শুধু রাজনীতি বা সামাজিকতার ধারা নয়, কিংবা তথ্যপ্রযুক্তিই নয় বরং এটি প্রকৃতার্থেই একটি নতুন জীবনধারা, একটি নতুন সভ্যতা বা একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা। ডিজিটাল যুগের পরিণতিতে যেখানে মানব সভ্যতা পৌঁছাবে সেই সমাজটির নাম ডিজিটাল সমাজ। একই সঙ্গে এই কথাটিও বলা দরকার যে, মানবসভ্যতার ডিজিটাল যুগ বা তথ্যযুগে যাওয়ার আকাক্সক্ষাটি শুধু আমাদের একার নয়, কোন একটি জাতি বা গোষ্ঠীরও নয়। এটি সমগ্র বিশ্ববাসীর কামনা।

সমগ্র বিশ্ববাসীর স্বপ্নটি ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তথ্য সমাজ সম্মেলনে মানব জাতির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় এভাবে: We, the representatives of the peoples of the world, assembled in Geneva from 10-12 December 2003 for the first phase of the World Summit on the Information Society, declare our common desire and commitment to build a people centred, inclusive and development-oriented Information Society, where everyone can create, access, utilize and share information and knowledge, enabling individuals, communities and peoples to achieve their full potential in promoting their sustainable development and improving their quality of life, premised on the purposes and principles of the Charter of the United Nations and respecting fully and upholding the Universal Declaration of Human Rights.

বিশ্ববাসীর এই ঘোষণা থেকে তথ্য সমাজ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কতগুলো বৈশিষ্ট্যকে যদি চিহ্নিত করা হয় তবে সেগুলো হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ হচ্ছে জনগণকেন্দ্রিকতা; জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার আলোকে জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকেই সম্পৃক্ত করার উন্নয়নমুখী একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সৃজনশীল থেকে সৃষ্টি করতে পারবে; তথ্য ও জ্ঞানে অবাধ প্রবেশাধিকার পাবে; ব্যক্তি-সম্প্রদায় ও জনগণের ক্ষমতায়ন হবে যার ফলে সবাই সব তথ্য ও জ্ঞান ব্যবহার করতে পারবে এবং অন্যের সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারবে।

এই ঘোষণার দুই বছর পর ২০০৫ সালে তিউনিসে এর ফলোআপ হয় এবং জেনেভা ঘোষণাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে ২০০৩ সালের ঘোষণার অনেক আগে থেকেই দুনিয়ার অনেক দেশ তাদের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করে চলেছে। উন্নত দেশসমূহ তো বটেই উন্নয়নশীল দেশগুলোও সামগ্রিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

প্রেক্ষিত বাংলাদেশ : তথ্য সমাজ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলায় বাংলাদেশের পরিকল্পিত পদক্ষেপ খুব সাম্প্রতিক কালের। খুব স্পষ্ট করে বললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৮ বছরের শাসনকালের মাঝেই সীমিত। কিন্তু আমরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই তবে দেখব যে, বিশ্বের অন্যতম পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যাত্রাটা খুব দেরিতে শুরু হয়নি। সেই ১৮৫৩ সালে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে টেলিগ্রাফ বোর্ড চালু করে। প্রায় এক শতাব্দী পরে ১৯৬২ সালে সেই বোর্ডে পাকিস্তান- টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ধারাবাহিকভাবেই টেলিফোন খাতের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর মতো এর অব্যাহত যাত্রা চালু থাকে। তবে স্থায়ী টেলিফোনের ক্ষেত্রে এই বোর্ডের অগ্রযাত্রা মোটেই উল্লেখযোগ্য বা সন্তোষজনক ছিল না। তবে ফোন প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে মোবাইলে। অন্যদিকে টেলিগ্রাফ এখন প্রযুক্তিগত কারণেই অচল হয়ে পড়েছে। আজকাল কারও টেলিগ্রাফ পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় না। ডাকযুগেরও প্রায় অবসান হয়ে গেছে। আজকাল কেউ চিঠিপত্র ডাকযোগে আদান প্রদান করতে চায় না। ফলে পোস্ট অফিসগুলো এখন ভিন্নতর সেবা প্রদানের মাধ্যমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ডাক ও স্থায়ী ফোনকে প্রযুক্তির নতুন ধারার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

অন্যদিকে বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে প্রথম রেডিওর সূচনা হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে। তখন এর অবস্থান ছিল ঢাকার পুরোনো অংশে। এখন যেখানে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ সেখানে একটি লাল দালানে একসময়ে রেডিও অফিস ছিল। পরে এটি শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়াও বর্তমান রাজউক ভবন থেকে বাংলাদেশের ঢাকা টিভির সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে। একই সময়ে বাংলাদেশে কম্পিউটার আসে। পরমাণু শক্তি কমিশনে সেই কম্পিউটারটি বসার পর ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ, আরও কিছু বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে এর সীমিত পর্যায়ের বিস্তার ঘটে। সারা দুনিয়াতেই তখন বিষয়টি এমন ছিল যে, কম্পিউটার প্রযুক্তি ধারণ করার জন্য বৃহৎ পুঁজি, বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন হতো। সেই সময়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যও প্রয়োজন হতো বিশেষজ্ঞ। তবুও এই উপমহাদেশে কম্পিউটারের যুগ আসার সময়টাতে আমাদেরই নেতৃত্ব ছিল। কারণ, আমরাই এই অঞ্চলের প্রথম কম্পিউটার স্থাপন করি। কিন্তু কালক্রমে আমরা সেই নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারিনি।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টাতে কম্পিউটার চর্চার ধারাটা দুনিয়াতেই সীমিত পর্যায়ের ছিল। মেইনফ্রেম কম্পিউটারের জমানা ছিল তখন। অতি স্বল্পসংখ্যক মানুষ কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমাদের দেশের বিষয়েও সেটি চরম সত্য ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শাসনকালে ব্যবসা বাণিজ্যে অনগ্রসর এই অঞ্চলে তাই কম্পিউটারের প্রসারের সুযোগ ছিল সীমিত। পাকিস্তানিদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গিয়েছিল টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড। সরকারি রেডিও-টিভি ছিল। আর ছিল বৃহৎ কম্পিউটারের কিছু স্থাপনা। তখনই বঙ্গবন্ধু টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ সংস্থাটিকে নতুন করে গড়ে তোলেন, বেতবুনিয়ায় ভূউপগ্রহ কেন্দ্র তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। আইটিইউ-এর সদস্যপদ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক অর্জিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের নানা পর্যায়ে টেলিকম সেবার সম্প্রসারণ ঘটতে শুরু করে। কাজটি তখন মোটেই সহজ ছিল না। কারণ, আমাদের যেটুকু অবকাঠামো ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটুকুও ধ্বংস হয়ে যায়। একেবারে শূন্য থেকে গড়ে তুলতে হয় দেশটিকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলে টেলিফোন সেবার সম্প্রসারণ বলতে গেলে হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালে দুনিয়াতে পিসির আবির্ভাব ঘটেনি। ফলে সেই সময়ে কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কোন অবদান রাখার সুযোগ ছিল না। যে সুযোগটি ছিল সেটি হচ্ছে টেলিকম খাতের। বঙ্গবন্ধু সেই খাতের বিপর্যস্ত অবস্থাটি কাটিয়ে ওঠার বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৭৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটারের আবির্ভাবের পর এর দাম কমে যাওয়া এবং অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন গ্রোগ্রামের সহজীকরণের ফলে উন্নত বিশ্বের সাধারণ মানুষ কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহী হতে থাকে। বাংলাদেশে তখন সেই আবিষ্কারের ঢেউ লাগেনি। কোনভাবে এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার বা বিকশিত করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অ্যাপলের পর পিসির বিপ্লবটা ঘটে ১৯৮১ সালে আইবিএম পিসির আবির্ভাবের মাধ্যমে। বাংলাদেশে এর কিছুটা প্রভাব পড়ে। এরপর ১৯৮৪ সালে মেকিন্টোস জন্ম নেয়। বলা যেতে পারে, এরপর দুনিয়া পিসির যুগে দাপটের সঙ্গে প্রবেশ করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে আমাদের শাসকরা এই প্রযুক্তির প্রতি নজর দেয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

জিয়ার শাসনকালে সব প্রযুক্তিকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি ভিসিপি বা ভিসিআর পর্যন্ত সেই সময়ে নিষিদ্ধ ছিল। কম্পিউটারসহ সব ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ওপর ছিল সর্বোচ্চ পরিমাণের কর ও বিক্রয় কর। ধরে নেয়া হয়েছিল যে, এগুলো তথাকথিত বিলাসসামগ্রী। ফলে কালক্রমে সত্তরের দশকে পিসির আবির্ভাবের পর আমরা পিছিয়ে পড়তে থাকি। বিশেষ করে, ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমাদের পিছিয়ে পড়াটা ছিল খুবই দুঃখজনক। ভারত সেই সময়ে অগ্রযাত্রার নতুন পথে হাটা শুরু করে।

এই কথাটিও মনে রাখা দরকার যে, জিয়ার প্রযুক্তিবিমুখীনতার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে প্রযুক্তির প্রতি কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের পক্ষে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ অন্তত ৮৭ সালের পর দেশে মেকিন্টোস পিসির যে বিপ্লব ঘটে তাতে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ ছিল। ১৯৯১ সালে বেগম জিয়ার সরকারও এক্ষেত্রে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে যুক্ত হওয়াটা সেই সময়কার সরকারের অজ্ঞতার জন্য হয়নি। একটি জাতির অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে রাখার এমন চরমতম খারাপ সিদ্ধান্ত আর একটিও হতে পারে না।

আশির দশকে কার্যত সরকারের নিষ্ক্রিয়তার মাঝেও আমরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াই সেই দশকের শেষের দিকে। ১৯৮৭ সালের ১৬ মে কম্পিউটারে বাংলা প্রয়োগ করে পত্রিকা বের করার আগ পর্যন্ত আমাদের পিসি চর্চা ছিল খুবই সীমিত। বিশেষজ্ঞ কিছু মানুষ পিসির জগতে নড়াচড়া করতেন। খুব স্বল্পসংখ্যক লোক এগুলো ব্যবহার করত। এই প্রযুক্তি শিক্ষা ও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা থমকে থাকার মতো অবস্থাতেই বসবাস করতাম। তবে সাতাশির পর আমরা অনেকটা পথ অতিক্রম করেছি। সেই সময়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হওয়া মেকিন্টোস কম্পিউটারের সহজ ইন্টারফেস ও মাতৃভাষা ব্যবহারের সুযোগ আমাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। এর ফলে বিগত শতকেই আমরা আমাদের মুদ্রণ ও প্রকাশনায় বিপ্লবটা সম্পন্ন করি। ২০০০ সালের আগেই দেশের উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন স্তর পর্যন্ত মুদ্রণ ও প্রকাশনায় কম্পিউটারের প্রয়োগে সম্পন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে, এর হাত ধরে অতি সাধারণ শিক্ষায় জড়িত তরুণ-তরুণীরা কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকারীতে পরিণত হওয়ার ফলে এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়। অন্যদিকে বিগত শতকেই বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ঘটে এবং আমরা মোবাইল বিপ্লবের সূচনা করি। বিগত শতকেই অফিস আদালতে কম্পিউটারের প্রবেশ ঘটে এবং এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটারের প্রবেশ ঘটে।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

ঢাকা। ২৬ মার্চ, ২০১৯।

আপডেট: ১০ জানুয়ারি, ২০২২।

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২ , ২৭ পৌষ ১৪২৮ ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ডিজিটাল বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি সেটি বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া কোন আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং আওয়ামী লীগ একটি অগ্রসরমাণ বিশ্ব কর্মসূচিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োগ করার বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। কার্যত মানব সভ্যতা কৃষিযুগ থেকে শিল্পযুগের তিনটি স্তর পার হয়ে ডিজিটাল যুগে পা রেখেছে। একে বলা যায় মানব সভ্যতার ডিজিটাল রূপান্তর। এই রূপান্তরের ফলে দুনিয়াটি অতি দ্রুত গতিতে পরিণত হচ্ছে একটি ডিজিটাল প্লানেটে। এই ডিজিটাল প্লানেটের ডিজিটাল যুগটি হলো একটি নতুন সমাজ, একটি নতুন সভ্যতা, একটি নতুন অর্থনীতি, একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা; তথা একটি রূপান্তরিত ডিজিটাল জীবনধারা। যুগটিও অবশ্যই ডিজিটাল। এই ডিজিটাল যুগ হচ্ছে প্রচলিত শিল্পযুগের বদলে ডিজিটাল যুগ প্রতিষ্ঠা করা।

খুব সহজেই ডিজিটাল যুগের আগের সময়টিকে আমরা তথ্য যুগ বলতে পারি। কারণ, তথ্যযুগটি হলো প্রচলিত ধারার শিল্পবিপ্লবের তৃতীয় স্তর। তার লক্ষ্য ছিল তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা। তথ্যযুগের পরের যুগটা ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল যুগ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনার সময় এমন ধারণাই ছিল যে, তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শুধু অর্থনীতির চাকা ঘুরবে। তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলাই প্রধানত এর লক্ষ্য ছিল। আমরা যেমন একটি স্বল্প আয়ের দেশে থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল যুগের কথা বলেছিলাম। কিন্তু, দিনে দিনে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু অর্থনীতি নয়, শুধু সমৃদ্ধি বা উন্নয়ন নয়, এমনকি শুধু রাজনীতি বা সামাজিকতার ধারা নয়, কিংবা তথ্যপ্রযুক্তিই নয় বরং এটি প্রকৃতার্থেই একটি নতুন জীবনধারা, একটি নতুন সভ্যতা বা একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা। ডিজিটাল যুগের পরিণতিতে যেখানে মানব সভ্যতা পৌঁছাবে সেই সমাজটির নাম ডিজিটাল সমাজ। একই সঙ্গে এই কথাটিও বলা দরকার যে, মানবসভ্যতার ডিজিটাল যুগ বা তথ্যযুগে যাওয়ার আকাক্সক্ষাটি শুধু আমাদের একার নয়, কোন একটি জাতি বা গোষ্ঠীরও নয়। এটি সমগ্র বিশ্ববাসীর কামনা।

সমগ্র বিশ্ববাসীর স্বপ্নটি ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তথ্য সমাজ সম্মেলনে মানব জাতির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় এভাবে: We, the representatives of the peoples of the world, assembled in Geneva from 10-12 December 2003 for the first phase of the World Summit on the Information Society, declare our common desire and commitment to build a people centred, inclusive and development-oriented Information Society, where everyone can create, access, utilize and share information and knowledge, enabling individuals, communities and peoples to achieve their full potential in promoting their sustainable development and improving their quality of life, premised on the purposes and principles of the Charter of the United Nations and respecting fully and upholding the Universal Declaration of Human Rights.

বিশ্ববাসীর এই ঘোষণা থেকে তথ্য সমাজ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কতগুলো বৈশিষ্ট্যকে যদি চিহ্নিত করা হয় তবে সেগুলো হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ হচ্ছে জনগণকেন্দ্রিকতা; জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার আলোকে জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকেই সম্পৃক্ত করার উন্নয়নমুখী একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সৃজনশীল থেকে সৃষ্টি করতে পারবে; তথ্য ও জ্ঞানে অবাধ প্রবেশাধিকার পাবে; ব্যক্তি-সম্প্রদায় ও জনগণের ক্ষমতায়ন হবে যার ফলে সবাই সব তথ্য ও জ্ঞান ব্যবহার করতে পারবে এবং অন্যের সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারবে।

এই ঘোষণার দুই বছর পর ২০০৫ সালে তিউনিসে এর ফলোআপ হয় এবং জেনেভা ঘোষণাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে ২০০৩ সালের ঘোষণার অনেক আগে থেকেই দুনিয়ার অনেক দেশ তাদের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করে চলেছে। উন্নত দেশসমূহ তো বটেই উন্নয়নশীল দেশগুলোও সামগ্রিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

প্রেক্ষিত বাংলাদেশ : তথ্য সমাজ বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলায় বাংলাদেশের পরিকল্পিত পদক্ষেপ খুব সাম্প্রতিক কালের। খুব স্পষ্ট করে বললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৮ বছরের শাসনকালের মাঝেই সীমিত। কিন্তু আমরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই তবে দেখব যে, বিশ্বের অন্যতম পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যাত্রাটা খুব দেরিতে শুরু হয়নি। সেই ১৮৫৩ সালে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে টেলিগ্রাফ বোর্ড চালু করে। প্রায় এক শতাব্দী পরে ১৯৬২ সালে সেই বোর্ডে পাকিস্তান- টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ধারাবাহিকভাবেই টেলিফোন খাতের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর মতো এর অব্যাহত যাত্রা চালু থাকে। তবে স্থায়ী টেলিফোনের ক্ষেত্রে এই বোর্ডের অগ্রযাত্রা মোটেই উল্লেখযোগ্য বা সন্তোষজনক ছিল না। তবে ফোন প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে মোবাইলে। অন্যদিকে টেলিগ্রাফ এখন প্রযুক্তিগত কারণেই অচল হয়ে পড়েছে। আজকাল কারও টেলিগ্রাফ পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় না। ডাকযুগেরও প্রায় অবসান হয়ে গেছে। আজকাল কেউ চিঠিপত্র ডাকযোগে আদান প্রদান করতে চায় না। ফলে পোস্ট অফিসগুলো এখন ভিন্নতর সেবা প্রদানের মাধ্যমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ডাক ও স্থায়ী ফোনকে প্রযুক্তির নতুন ধারার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

অন্যদিকে বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে প্রথম রেডিওর সূচনা হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে। তখন এর অবস্থান ছিল ঢাকার পুরোনো অংশে। এখন যেখানে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ সেখানে একটি লাল দালানে একসময়ে রেডিও অফিস ছিল। পরে এটি শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়াও বর্তমান রাজউক ভবন থেকে বাংলাদেশের ঢাকা টিভির সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে। একই সময়ে বাংলাদেশে কম্পিউটার আসে। পরমাণু শক্তি কমিশনে সেই কম্পিউটারটি বসার পর ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ, আরও কিছু বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে এর সীমিত পর্যায়ের বিস্তার ঘটে। সারা দুনিয়াতেই তখন বিষয়টি এমন ছিল যে, কম্পিউটার প্রযুক্তি ধারণ করার জন্য বৃহৎ পুঁজি, বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ বিনিয়োগ প্রয়োজন হতো। সেই সময়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যও প্রয়োজন হতো বিশেষজ্ঞ। তবুও এই উপমহাদেশে কম্পিউটারের যুগ আসার সময়টাতে আমাদেরই নেতৃত্ব ছিল। কারণ, আমরাই এই অঞ্চলের প্রথম কম্পিউটার স্থাপন করি। কিন্তু কালক্রমে আমরা সেই নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারিনি।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টাতে কম্পিউটার চর্চার ধারাটা দুনিয়াতেই সীমিত পর্যায়ের ছিল। মেইনফ্রেম কম্পিউটারের জমানা ছিল তখন। অতি স্বল্পসংখ্যক মানুষ কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমাদের দেশের বিষয়েও সেটি চরম সত্য ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শাসনকালে ব্যবসা বাণিজ্যে অনগ্রসর এই অঞ্চলে তাই কম্পিউটারের প্রসারের সুযোগ ছিল সীমিত। পাকিস্তানিদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গিয়েছিল টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড। সরকারি রেডিও-টিভি ছিল। আর ছিল বৃহৎ কম্পিউটারের কিছু স্থাপনা। তখনই বঙ্গবন্ধু টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ সংস্থাটিকে নতুন করে গড়ে তোলেন, বেতবুনিয়ায় ভূউপগ্রহ কেন্দ্র তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। আইটিইউ-এর সদস্যপদ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক অর্জিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের নানা পর্যায়ে টেলিকম সেবার সম্প্রসারণ ঘটতে শুরু করে। কাজটি তখন মোটেই সহজ ছিল না। কারণ, আমাদের যেটুকু অবকাঠামো ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটুকুও ধ্বংস হয়ে যায়। একেবারে শূন্য থেকে গড়ে তুলতে হয় দেশটিকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলে টেলিফোন সেবার সম্প্রসারণ বলতে গেলে হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালে দুনিয়াতে পিসির আবির্ভাব ঘটেনি। ফলে সেই সময়ে কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কোন অবদান রাখার সুযোগ ছিল না। যে সুযোগটি ছিল সেটি হচ্ছে টেলিকম খাতের। বঙ্গবন্ধু সেই খাতের বিপর্যস্ত অবস্থাটি কাটিয়ে ওঠার বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৭৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটারের আবির্ভাবের পর এর দাম কমে যাওয়া এবং অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন গ্রোগ্রামের সহজীকরণের ফলে উন্নত বিশ্বের সাধারণ মানুষ কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহী হতে থাকে। বাংলাদেশে তখন সেই আবিষ্কারের ঢেউ লাগেনি। কোনভাবে এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার বা বিকশিত করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অ্যাপলের পর পিসির বিপ্লবটা ঘটে ১৯৮১ সালে আইবিএম পিসির আবির্ভাবের মাধ্যমে। বাংলাদেশে এর কিছুটা প্রভাব পড়ে। এরপর ১৯৮৪ সালে মেকিন্টোস জন্ম নেয়। বলা যেতে পারে, এরপর দুনিয়া পিসির যুগে দাপটের সঙ্গে প্রবেশ করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে আমাদের শাসকরা এই প্রযুক্তির প্রতি নজর দেয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

জিয়ার শাসনকালে সব প্রযুক্তিকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি ভিসিপি বা ভিসিআর পর্যন্ত সেই সময়ে নিষিদ্ধ ছিল। কম্পিউটারসহ সব ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ওপর ছিল সর্বোচ্চ পরিমাণের কর ও বিক্রয় কর। ধরে নেয়া হয়েছিল যে, এগুলো তথাকথিত বিলাসসামগ্রী। ফলে কালক্রমে সত্তরের দশকে পিসির আবির্ভাবের পর আমরা পিছিয়ে পড়তে থাকি। বিশেষ করে, ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমাদের পিছিয়ে পড়াটা ছিল খুবই দুঃখজনক। ভারত সেই সময়ে অগ্রযাত্রার নতুন পথে হাটা শুরু করে।

এই কথাটিও মনে রাখা দরকার যে, জিয়ার প্রযুক্তিবিমুখীনতার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে প্রযুক্তির প্রতি কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের পক্ষে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ অন্তত ৮৭ সালের পর দেশে মেকিন্টোস পিসির যে বিপ্লব ঘটে তাতে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ ছিল। ১৯৯১ সালে বেগম জিয়ার সরকারও এক্ষেত্রে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে যুক্ত হওয়াটা সেই সময়কার সরকারের অজ্ঞতার জন্য হয়নি। একটি জাতির অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে রাখার এমন চরমতম খারাপ সিদ্ধান্ত আর একটিও হতে পারে না।

আশির দশকে কার্যত সরকারের নিষ্ক্রিয়তার মাঝেও আমরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াই সেই দশকের শেষের দিকে। ১৯৮৭ সালের ১৬ মে কম্পিউটারে বাংলা প্রয়োগ করে পত্রিকা বের করার আগ পর্যন্ত আমাদের পিসি চর্চা ছিল খুবই সীমিত। বিশেষজ্ঞ কিছু মানুষ পিসির জগতে নড়াচড়া করতেন। খুব স্বল্পসংখ্যক লোক এগুলো ব্যবহার করত। এই প্রযুক্তি শিক্ষা ও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা থমকে থাকার মতো অবস্থাতেই বসবাস করতাম। তবে সাতাশির পর আমরা অনেকটা পথ অতিক্রম করেছি। সেই সময়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হওয়া মেকিন্টোস কম্পিউটারের সহজ ইন্টারফেস ও মাতৃভাষা ব্যবহারের সুযোগ আমাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। এর ফলে বিগত শতকেই আমরা আমাদের মুদ্রণ ও প্রকাশনায় বিপ্লবটা সম্পন্ন করি। ২০০০ সালের আগেই দেশের উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন স্তর পর্যন্ত মুদ্রণ ও প্রকাশনায় কম্পিউটারের প্রয়োগে সম্পন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে, এর হাত ধরে অতি সাধারণ শিক্ষায় জড়িত তরুণ-তরুণীরা কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকারীতে পরিণত হওয়ার ফলে এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়। অন্যদিকে বিগত শতকেই বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ঘটে এবং আমরা মোবাইল বিপ্লবের সূচনা করি। বিগত শতকেই অফিস আদালতে কম্পিউটারের প্রবেশ ঘটে এবং এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটারের প্রবেশ ঘটে।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

ঢাকা। ২৬ মার্চ, ২০১৯।

আপডেট: ১০ জানুয়ারি, ২০২২।