নদী ড্রেজিং বন্ধ থাকলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন

হুমকিতে রূপপুর প্রকল্প বাঁধ

কেপিআইভুক্ত এলাকায় বালু উত্তোলন বা নদী ড্রেজিং করা নিষেধ থাকা সত্ত্বেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মানদী থেকে ড্রেজার লাগিয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ ধসের পাশাপাশি কেপিআই তালিকাভুক্ত হাডিঞ্জব্রিজ ও লালন শাহ সেতু হুমকির মুখে পড়তে পারে। কেপিআই’র নিয়মানুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, হাডিঞ্জব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর এলাকার উভয় পাড়ে ৫ কিমি, করে ১০ কিমির মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন বা ড্রেজিং করা নিষেধ রয়েছে। অথচ রূপপুর প্রকল্প ও লালন সেতুর মাত্র ৩শ’ মিটারের মধ্যেই দেদারসে প্রকাশ্যে দিবালোকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এছাড়াও লক্ষ¥ীকু-া ইউনিয়নে শুকিয়ে যাওয়া পদ্মার শাখা নদীর চর থেকেও অবৈধভাবে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর প্রশাসন ও নৌ পুলিশ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিষয়টি জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভুমিকা পালন করছেন। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মা নদীর উভয় পাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করার ফলে কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনার ঝুঁকি বাড়ছে। নদীর তীর জুড়ে ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু প্রতিবছর শুল্ক মৌসুমে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীর লক্ষিকুন্ডা, কামালপুর, দাদাপুর, পাকশী, সাঁড়া, মাজদিয়া, আড়মবাড়িয়া, নলগাড়ি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৪ ধারার ‘খ’ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকায় বালু ও মাটি তোলা যাবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে সরকারিভাবে বালু উত্তোলনের ইজারাদাররা। ঈশ্বরদীর একটি বালুমহালের ইজারাদার আহম্মেদ কনস্ট্রাকশনের সাইদুর রহমান জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভেড়ামারার ক্ষমতাধর কতিপয় ব্যক্তি। এইসব বিষয় প্রকাশ্যে ঘটলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয় নেয়নি নৌ পুলিশ। বরং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় বালু ও মাটি কাটার মহাউৎসব চলছে।

নৌ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের নৌ পুলিশের এস আই রিয়াদের কাছে এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। ঈশ্বরদীর সদ্য বিদায়ী সহকারি কমিশনার। (ভূমি) শেখ মেহেদি ইসলাম বলেন, রূপপুর প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর চর থেকে মাটি কাটা পুরাপেুরি অবৈধ।

এসব অবৈধ কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আইনগত ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে পাবনা পানি উন্নয়ন বােের্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ নদী পাড়ের বাড়ি ঘরসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নদী ড্রেজিং বন্ধ থাকলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন

হুমকিতে রূপপুর প্রকল্প বাঁধ

প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী (পাবনা)

image

ঈশ্বরদী (পাবনা) : এভাবেই নদীর তীর থেকে বালু কেটে বিক্রির জন্য নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে -সংবাদ

কেপিআইভুক্ত এলাকায় বালু উত্তোলন বা নদী ড্রেজিং করা নিষেধ থাকা সত্ত্বেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মানদী থেকে ড্রেজার লাগিয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ ধসের পাশাপাশি কেপিআই তালিকাভুক্ত হাডিঞ্জব্রিজ ও লালন শাহ সেতু হুমকির মুখে পড়তে পারে। কেপিআই’র নিয়মানুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, হাডিঞ্জব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর এলাকার উভয় পাড়ে ৫ কিমি, করে ১০ কিমির মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন বা ড্রেজিং করা নিষেধ রয়েছে। অথচ রূপপুর প্রকল্প ও লালন সেতুর মাত্র ৩শ’ মিটারের মধ্যেই দেদারসে প্রকাশ্যে দিবালোকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এছাড়াও লক্ষ¥ীকু-া ইউনিয়নে শুকিয়ে যাওয়া পদ্মার শাখা নদীর চর থেকেও অবৈধভাবে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর প্রশাসন ও নৌ পুলিশ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিষয়টি জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভুমিকা পালন করছেন। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মা নদীর উভয় পাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করার ফলে কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনার ঝুঁকি বাড়ছে। নদীর তীর জুড়ে ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু প্রতিবছর শুল্ক মৌসুমে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীর লক্ষিকুন্ডা, কামালপুর, দাদাপুর, পাকশী, সাঁড়া, মাজদিয়া, আড়মবাড়িয়া, নলগাড়ি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৪ ধারার ‘খ’ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকায় বালু ও মাটি তোলা যাবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে সরকারিভাবে বালু উত্তোলনের ইজারাদাররা। ঈশ্বরদীর একটি বালুমহালের ইজারাদার আহম্মেদ কনস্ট্রাকশনের সাইদুর রহমান জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভেড়ামারার ক্ষমতাধর কতিপয় ব্যক্তি। এইসব বিষয় প্রকাশ্যে ঘটলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয় নেয়নি নৌ পুলিশ। বরং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় বালু ও মাটি কাটার মহাউৎসব চলছে।

নৌ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের নৌ পুলিশের এস আই রিয়াদের কাছে এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। ঈশ্বরদীর সদ্য বিদায়ী সহকারি কমিশনার। (ভূমি) শেখ মেহেদি ইসলাম বলেন, রূপপুর প্রকল্প সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর চর থেকে মাটি কাটা পুরাপেুরি অবৈধ।

এসব অবৈধ কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আইনগত ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে পাবনা পানি উন্নয়ন বােের্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ নদী পাড়ের বাড়ি ঘরসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।