সাড়ে ৪ বছর অনুপস্থিত মেডিকেল অফিসার

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ১নং ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন এমএলএসএস এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন এফডব্লিউভি ও একজন আয়ার দায়িত্ব পালন করার কথা।

অথচ ১নং লাখাই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে কলমে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন। তাও গত সাড়ে ৪ বছরের বেশি সময় যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। যদিও কাগজে কলমে তাকে ২ বছর ধরে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে সপ্তাহে ২ দিন রোগী দেখছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী নজরুল ইসলাম।

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা জামান জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের পরপরই অনুপস্থিত ডাক্তারদের ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

একাধিকবার শোকজ করার পর কোনো উত্তর না দেওয়ায় এবং দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পদটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হয়নি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার কাজই হলো কর্তৃপক্ষকে জানানো। কর্মস্থলে অনুপস্থিত ডাক্তারদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার অফিস সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জন্টু লাল দাস জানান, ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন ২০১৪ সালের ৭ই আগস্ট কর্মস্থলে যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালের ১৬ই আগস্ট থেকে অনুপস্থিত। যদিও তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপস্থিত, তবে এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। পূর্বতন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুমের বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন অনুপস্থিত যা ২০১৯ সালের ২১শে জুলাই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল হক জানান, সারা বাংলাদেশেই চিকিৎসক সঙ্কট। আমাদের এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া কিছুই করার নেই। পদটি আদৌ শূন্য ঘোষণা করা হবে কিনা তার ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

লাখাই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র

সাড়ে ৪ বছর অনুপস্থিত মেডিকেল অফিসার

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ১নং ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন এমএলএসএস এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন এফডব্লিউভি ও একজন আয়ার দায়িত্ব পালন করার কথা।

অথচ ১নং লাখাই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে কলমে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন। তাও গত সাড়ে ৪ বছরের বেশি সময় যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। যদিও কাগজে কলমে তাকে ২ বছর ধরে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে সপ্তাহে ২ দিন রোগী দেখছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী নজরুল ইসলাম।

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা জামান জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের পরপরই অনুপস্থিত ডাক্তারদের ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

একাধিকবার শোকজ করার পর কোনো উত্তর না দেওয়ায় এবং দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পদটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হয়নি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার কাজই হলো কর্তৃপক্ষকে জানানো। কর্মস্থলে অনুপস্থিত ডাক্তারদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার অফিস সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক জন্টু লাল দাস জানান, ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন ২০১৪ সালের ৭ই আগস্ট কর্মস্থলে যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালের ১৬ই আগস্ট থেকে অনুপস্থিত। যদিও তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপস্থিত, তবে এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। পূর্বতন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুমের বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডা. নাহিদ চৌধুরী সুমন অনুপস্থিত যা ২০১৯ সালের ২১শে জুলাই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল হক জানান, সারা বাংলাদেশেই চিকিৎসক সঙ্কট। আমাদের এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া কিছুই করার নেই। পদটি আদৌ শূন্য ঘোষণা করা হবে কিনা তার ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।