করোনা : সংক্রমণ ৪৯ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে

দেশের ৪৯ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। বাকি ১৫ জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কারও করোনা শনাক্ত হয়নি; যদিও দুই জেলায় এদিন কারও নমুনা পরীক্ষা হয়নি। গত ১ জানুয়ারিও ন্যূনতম ৪৪ জেলায় কোন সংক্রমণ ছিল না। দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ‘ক্রমবর্ধমান’ হারে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’। চাপ বাড়বে হাসপাতালে। গত ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি এই সাত দিনেই দেশে করোনা সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহে সংক্রমণ ১৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে দুই হাজার ৯ শতাধিক মানুষের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হারও প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ওমিক্রনের প্রভাবেই সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে বলে ধারণা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

দেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৩৩ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্তের প্রমাণ মেলেছে।

ওমিক্রনের গণসংক্রমণ শুরু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন গতকাল দুপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বুলেটিনে বলেন, সব মহাদেশে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ে সব চেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হচ্ছে। ওমিক্রনের পাশাপাশি ডেলটা ভাইরাস-দুটোই কিন্তু অবস্থান করছে। সংক্রমণ হঠাৎ করে মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট তারই সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ‘বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন’ (বিসিপিএস) ভবনে এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) শুরু হয়েছে।

দেশে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ‘কিছুটা হয়েছে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত। কাজেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এভাবে রোগী বাড়লে দেশ ‘বেকায়দায়’ পড়বে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ‘বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন’ (বিসিপিএস) ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, কয়েক দিন আগেও সংক্রমণের হার ছিল দুই শতাংশের কাছাকাছি। ১১ জানুয়ারি সেটা প্রায় ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আজ (গতকাল) হয়তো আরও বাড়বে। এই হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনে হাসপাতালে রোগী বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, রোগীদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়ে গেছে। আর এভাবে হাসপাতালে তিন-চারগুণ রোগী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থা, চিকিৎসক-নার্সদের ওপর চাপ পড়বে, মৃত্যুর হারও বাড়বে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২০ হাজার শয্যা তৈরি রেখেছিল জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আরও ২০ হাজার শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যদি ৪০ হাজার রোগী হয়, তাহলে রাখা যাবে। কিন্তু যদি এক লাখ হয়, তাহলে কোথায় থাকবে? এখন মৃত্যুর হার কম আছে, কারণ হলো টিকা নেয়া আছে। কিন্তু আক্রান্তেরর সংখ্যা যদি তিনগুণ-চারগুণ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু বেকায়দায় পড়তে হবে।

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে তিনজনের ওমিক্রন শনাক্ত

দৈনিক সংবাদের যশোর অফিস জানিয়েছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে তিনজনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। তাদের একজন ভারতীয় ও অন্যজন বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত করে। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ওসিক্রন খুবই দ্রুত সংক্রমণশীল। তিনি জানান, ওমক্রিন শনাক্তের কাজ জিনোম সেন্টারে অব্যাহত থাকবে। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে ওমিক্রন শনাক্তকারী গবেষক দলের সদস্যরা হলেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসান মো. আল-ইমরান, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শোভন লাল সরকার, এএসএম রুবাইয়াতুল আলম, প্রভাষক শামিনুর রহমান, গবেষণা সহকারী প্রশান্ত কুমার দাস, আলী আহসান সেতু ও তৌকির আহম্মেদ প্রমুখ।

ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে রোগী

স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, গত ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে শতাংশের হিসাবে প্রায় দ্বিগুণ রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল চার দশমিক ২০ শতাংশ, ১১ জানুয়ারি এসে আট দশমিক ৯৭ শতাংশ সংক্রমণ হয়েছে। এ হিসাবে সাত দিনে শনাক্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংক্রমণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপর থেকে এটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা শুধু একই ধারায় বৃদ্ধি হচ্ছে তা না, প্রোগ্রেসিভলি (ক্রমবর্ধমান) বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং (উদ্বেগজনক)।’

তিনি জানান, পুরো ডিসেম্বরে চার হাজার ৫৮৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ জানুয়ারির মাত্র ১১ দিনে ১২ হাজার ৮৫০ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে উল্লেখ করে রোবেদ আমিন বলেন, গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে ১০ শতাংশের বেশি পরীক্ষা বেড়েছে। সাত দিনে দেড় লাখ টেস্ট হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৪ জন।

এর আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ছয় হাজার রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় পরের সপ্তাহে ১৬৯ দশমিক ১২ শতাংশ রোগী বেড়েছে।

সাত দিনে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে মৃত্যু ২০ শতাংশ কম।

অর্ধশত জেলায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি দেশের অন্তত ৪৪টি জেলায় কারও দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ওইদিন সারা দেশে ৩৭০ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর।

এর ১১ দিনের মাথায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে দুই হাজার ৯ শতাধিক রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এই ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৪৯টি জেলায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিন সংক্রমণ মেলেনি ১৫টি জেলায়। জেলাগুলো হলো কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি, চাপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, ভোলা ও পিরোজপুর এবং সুনামগঞ্জ। এই ১৫ জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এদিন কারও নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা ও রাঙ্গামাটি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ জানুয়ারি বিকেলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এতে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়।

ওই তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ও রাঙ্গামাটি জেলা সংক্রমণের রেড জোন অর্থাৎ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে ছয় জেলা এবং কম ঝুঁকি অর্থাৎ সবুজ জোনে রয়েছে দেশের ৫৪ জেলা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, উচ্চঝুঁকিতে থাকা ঢাকায় নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রাঙ্গামাটিতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ।

মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় থাকা জেলাগুলো হলো রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, রংপুর ও নাটোর। এসব জেলায় সংক্রমণের হার পাঁচ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে।

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা ও রাঙ্গামাটিকে রেড জোন ঘোষণা করা হলো কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সপ্তাহভিত্তিক নিয়মিত বিশ্লেষণের চিত্র। সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝার জন্য, বিশ্লেষণের জন্য এটা করা হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিভিন্ন জেলায় শনাক্ত করা হয় এবং সে অনুযায়ী আমরা লজিস্টিক সাপোর্ট, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং সতর্কবার্তা দেয়ার কাজ করে থাকি। এটা জাতীয় পর্যায়ে রেড বা গ্রিন জোন পর্যায়ের কিছু না। ইন্টারপ্রিটেশনটা (ব্যাখা) এ রকম নয়। জেলায় রোগী কম বা বেশি পাওয়া সাপেক্ষে এমন ডিজাইন করা হয়।’

ওই তালিকা সর্ম্পকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবহিত নন জানিয়ে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানি না এটা ওয়েবসাইটে কেন দেয়া হয়েছে। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ আমরা কেউ এটা জানি না। সাধারণত এটা প্রকাশ করা হয় না। এটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করবে। জাতীয় পর্যায়ে এ রকম কোন বিষয়ই ঘটেনি।’

এই চিত্র অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘মানুষকে কষ্টে ফেলবে। মানুষ এই নিউজ দেখলেই রেড জোন-গ্রিন জোন নির্ধারণ করবে, অযথা কেনাকাটা, দোড়ঝাঁপ শুরু করবে। এর কোন যুক্তি নেই। সত্যি সত্যি যখন রেড জোন-গ্রিন আমরা করবো, তখন পাবলিকলি ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানাবো।’

শনাক্ত ছাড়াল ১৬ লাখ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনা শনাক্ত ১৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ৯১৬ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে; যা আগের দিনের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।

এর আগে একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর; ওইদিন তিন হাজার ১৬৭ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছিল।

২৪ ঘণ্টায় রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ এক হাজার ৩০৫ জনে।

একদিনে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ হাজার ১১১ জনে।

একদিনে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৬৪ জনের। পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ৩১ আগস্টের পর এটি সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। ওইদিন শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০১টি। এ হিসাবে নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী করোনা শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শনাক্ত রোগীদের মধ্যে একদিনে দেশে সেরে উঠেছেন ২৭৪ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৭ জন। এই হিসাবে দেশে এখন চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৪১ জন; যা আগের দিন ১৮ হাজার ৮৯৫ জন ছিল।

একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুই হাজার ৪৩৪ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট শনাক্তের প্রায় ৮৩ শতাংশ।

গত একদিনে মৃত্যু হওয়া চারজনের দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী ছিলেন। তাদের একজন কুমিল্লার এবং তিনজন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের বয়স ৭০ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ছিল ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনা : সংক্রমণ ৪৯ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে

ওমিক্রনের গণসংক্রমণ শুরু

দেশের ৪৯ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। বাকি ১৫ জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কারও করোনা শনাক্ত হয়নি; যদিও দুই জেলায় এদিন কারও নমুনা পরীক্ষা হয়নি। গত ১ জানুয়ারিও ন্যূনতম ৪৪ জেলায় কোন সংক্রমণ ছিল না। দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ‘ক্রমবর্ধমান’ হারে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’। চাপ বাড়বে হাসপাতালে। গত ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি এই সাত দিনেই দেশে করোনা সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহে সংক্রমণ ১৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে দুই হাজার ৯ শতাধিক মানুষের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হারও প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ওমিক্রনের প্রভাবেই সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে বলে ধারণা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

দেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৩৩ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্তের প্রমাণ মেলেছে।

ওমিক্রনের গণসংক্রমণ শুরু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন গতকাল দুপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বুলেটিনে বলেন, সব মহাদেশে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ে সব চেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হচ্ছে। ওমিক্রনের পাশাপাশি ডেলটা ভাইরাস-দুটোই কিন্তু অবস্থান করছে। সংক্রমণ হঠাৎ করে মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট তারই সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ‘বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন’ (বিসিপিএস) ভবনে এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) শুরু হয়েছে।

দেশে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ‘কিছুটা হয়েছে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করোনা রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত। কাজেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এভাবে রোগী বাড়লে দেশ ‘বেকায়দায়’ পড়বে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ‘বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জন’ (বিসিপিএস) ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, কয়েক দিন আগেও সংক্রমণের হার ছিল দুই শতাংশের কাছাকাছি। ১১ জানুয়ারি সেটা প্রায় ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আজ (গতকাল) হয়তো আরও বাড়বে। এই হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনে হাসপাতালে রোগী বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, রোগীদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়ে গেছে। আর এভাবে হাসপাতালে তিন-চারগুণ রোগী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থা, চিকিৎসক-নার্সদের ওপর চাপ পড়বে, মৃত্যুর হারও বাড়বে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২০ হাজার শয্যা তৈরি রেখেছিল জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আরও ২০ হাজার শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যদি ৪০ হাজার রোগী হয়, তাহলে রাখা যাবে। কিন্তু যদি এক লাখ হয়, তাহলে কোথায় থাকবে? এখন মৃত্যুর হার কম আছে, কারণ হলো টিকা নেয়া আছে। কিন্তু আক্রান্তেরর সংখ্যা যদি তিনগুণ-চারগুণ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু বেকায়দায় পড়তে হবে।

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে তিনজনের ওমিক্রন শনাক্ত

দৈনিক সংবাদের যশোর অফিস জানিয়েছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে তিনজনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। তাদের একজন ভারতীয় ও অন্যজন বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত করে। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ওসিক্রন খুবই দ্রুত সংক্রমণশীল। তিনি জানান, ওমক্রিন শনাক্তের কাজ জিনোম সেন্টারে অব্যাহত থাকবে। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে ওমিক্রন শনাক্তকারী গবেষক দলের সদস্যরা হলেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসান মো. আল-ইমরান, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শোভন লাল সরকার, এএসএম রুবাইয়াতুল আলম, প্রভাষক শামিনুর রহমান, গবেষণা সহকারী প্রশান্ত কুমার দাস, আলী আহসান সেতু ও তৌকির আহম্মেদ প্রমুখ।

ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে রোগী

স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, গত ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে শতাংশের হিসাবে প্রায় দ্বিগুণ রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল চার দশমিক ২০ শতাংশ, ১১ জানুয়ারি এসে আট দশমিক ৯৭ শতাংশ সংক্রমণ হয়েছে। এ হিসাবে সাত দিনে শনাক্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংক্রমণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপর থেকে এটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা শুধু একই ধারায় বৃদ্ধি হচ্ছে তা না, প্রোগ্রেসিভলি (ক্রমবর্ধমান) বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং (উদ্বেগজনক)।’

তিনি জানান, পুরো ডিসেম্বরে চার হাজার ৫৮৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ জানুয়ারির মাত্র ১১ দিনে ১২ হাজার ৮৫০ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে উল্লেখ করে রোবেদ আমিন বলেন, গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে ১০ শতাংশের বেশি পরীক্ষা বেড়েছে। সাত দিনে দেড় লাখ টেস্ট হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৪ জন।

এর আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ছয় হাজার রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় পরের সপ্তাহে ১৬৯ দশমিক ১২ শতাংশ রোগী বেড়েছে।

সাত দিনে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে মৃত্যু ২০ শতাংশ কম।

অর্ধশত জেলায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি দেশের অন্তত ৪৪টি জেলায় কারও দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ওইদিন সারা দেশে ৩৭০ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর।

এর ১১ দিনের মাথায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে দুই হাজার ৯ শতাধিক রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এই ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৪৯টি জেলায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিন সংক্রমণ মেলেনি ১৫টি জেলায়। জেলাগুলো হলো কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি, চাপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, ভোলা ও পিরোজপুর এবং সুনামগঞ্জ। এই ১৫ জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এদিন কারও নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা ও রাঙ্গামাটি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ জানুয়ারি বিকেলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এতে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়।

ওই তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ও রাঙ্গামাটি জেলা সংক্রমণের রেড জোন অর্থাৎ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে ছয় জেলা এবং কম ঝুঁকি অর্থাৎ সবুজ জোনে রয়েছে দেশের ৫৪ জেলা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, উচ্চঝুঁকিতে থাকা ঢাকায় নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রাঙ্গামাটিতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ।

মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় থাকা জেলাগুলো হলো রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, রংপুর ও নাটোর। এসব জেলায় সংক্রমণের হার পাঁচ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে।

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা ও রাঙ্গামাটিকে রেড জোন ঘোষণা করা হলো কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সপ্তাহভিত্তিক নিয়মিত বিশ্লেষণের চিত্র। সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝার জন্য, বিশ্লেষণের জন্য এটা করা হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিভিন্ন জেলায় শনাক্ত করা হয় এবং সে অনুযায়ী আমরা লজিস্টিক সাপোর্ট, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং সতর্কবার্তা দেয়ার কাজ করে থাকি। এটা জাতীয় পর্যায়ে রেড বা গ্রিন জোন পর্যায়ের কিছু না। ইন্টারপ্রিটেশনটা (ব্যাখা) এ রকম নয়। জেলায় রোগী কম বা বেশি পাওয়া সাপেক্ষে এমন ডিজাইন করা হয়।’

ওই তালিকা সর্ম্পকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবহিত নন জানিয়ে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানি না এটা ওয়েবসাইটে কেন দেয়া হয়েছে। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ আমরা কেউ এটা জানি না। সাধারণত এটা প্রকাশ করা হয় না। এটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করবে। জাতীয় পর্যায়ে এ রকম কোন বিষয়ই ঘটেনি।’

এই চিত্র অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘মানুষকে কষ্টে ফেলবে। মানুষ এই নিউজ দেখলেই রেড জোন-গ্রিন জোন নির্ধারণ করবে, অযথা কেনাকাটা, দোড়ঝাঁপ শুরু করবে। এর কোন যুক্তি নেই। সত্যি সত্যি যখন রেড জোন-গ্রিন আমরা করবো, তখন পাবলিকলি ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানাবো।’

শনাক্ত ছাড়াল ১৬ লাখ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনা শনাক্ত ১৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ৯১৬ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে; যা আগের দিনের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।

এর আগে একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর; ওইদিন তিন হাজার ১৬৭ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছিল।

২৪ ঘণ্টায় রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ এক হাজার ৩০৫ জনে।

একদিনে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ হাজার ১১১ জনে।

একদিনে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৬৪ জনের। পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ৩১ আগস্টের পর এটি সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। ওইদিন শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০১টি। এ হিসাবে নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী করোনা শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শনাক্ত রোগীদের মধ্যে একদিনে দেশে সেরে উঠেছেন ২৭৪ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৭ জন। এই হিসাবে দেশে এখন চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৪১ জন; যা আগের দিন ১৮ হাজার ৮৯৫ জন ছিল।

একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুই হাজার ৪৩৪ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট শনাক্তের প্রায় ৮৩ শতাংশ।

গত একদিনে মৃত্যু হওয়া চারজনের দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী ছিলেন। তাদের একজন কুমিল্লার এবং তিনজন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের বয়স ৭০ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ছিল ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।