রাষ্ট্রপতির সংলাপে যায়নি বিএনপি

নির্দলীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠিত না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা সম্ভব নয় বলে মনে করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। এ জন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন, নির্বাচন কমিশন আইনসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছে দলটি। নতুন ইসি গঠন নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় এনপিপির একটি প্রতিনিধি দল। এর আগে বিকেলে বিএনপির সংলাপে বসার কথা থাকলেও তা বর্জন করেছে দলটি।

বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিতে নিরপেক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের নেয়ার কথা বলেছি। কোন নাম প্রস্তাব করেছেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোন নাম প্রস্তাব করিনি। আমরা বললে ‘দলীয়’ বলতে পারে।

শেখ ছালাউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের কথা আমরা বলেছি। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও একটা আইন হয়নি এটা আমাদের এক ধরনের ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে, মারামারি হচ্ছে। তাই দলীয় প্রতীক না দেয়ার কথা বলেছি। রাষ্ট্রপতিও এই বিষয়টিতে একমত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির কাছে এনপিপির পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাই ম-ল। প্রস্তাবে দলটি বলেছে, রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করবেন, তাতে দলের আস্থা আছে।

প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেÑ

সব দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন; নির্দলীয় নিরপেক্ষ সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন; সংবিধান মতে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং বিশ্বের অন্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও যেন নির্বাচন কমিশন বাস্তবেই স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিতকরণ; অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। তাই বর্তমান বাস্তবতায় সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন।

সংলাপে এনপিপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস খালেকুজ্জামান খান, মো. ইদ্রিস চৌধুরী, মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, আশা সিদ্দিকা ও সৈয়দ মাহমুদুল হক।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে সংলাপের বিষয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি এনপিপি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে সহায়ক হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্তি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

আজ ৩ দলের সংলাপ

আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাকের পার্টি, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং রাত ৮টায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি।

ইসি গঠনে সংলাপের উদ্দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রথম দিন ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেন রাষ্ট্র্রপতি। চলমান সংলাপে গতকাল (১৫তম দিন) পর্যন্ত এনপিপিসহ ২০টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেলে বিএনপির সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও দলটি বঙ্গভবনে যায়নি। এ নিয়ে মোট সাতটি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে।

আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংলাপের কথা রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপ শেষ হবে। গঠন করা হবে সার্চ কমিটি। বর্তমান ইসির আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই রাষ্ট্রপতি একটি নতুন ইসি গঠন করবেন, যার অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাষ্ট্রপতির সংলাপে যায়নি বিএনপি

নির্দলীয় সার্চ কমিটির প্রস্তাব এনপিপির

নির্দলীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠিত না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা সম্ভব নয় বলে মনে করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। এ জন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন, নির্বাচন কমিশন আইনসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছে দলটি। নতুন ইসি গঠন নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় এনপিপির একটি প্রতিনিধি দল। এর আগে বিকেলে বিএনপির সংলাপে বসার কথা থাকলেও তা বর্জন করেছে দলটি।

বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিতে নিরপেক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের নেয়ার কথা বলেছি। কোন নাম প্রস্তাব করেছেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোন নাম প্রস্তাব করিনি। আমরা বললে ‘দলীয়’ বলতে পারে।

শেখ ছালাউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের কথা আমরা বলেছি। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও একটা আইন হয়নি এটা আমাদের এক ধরনের ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে, মারামারি হচ্ছে। তাই দলীয় প্রতীক না দেয়ার কথা বলেছি। রাষ্ট্রপতিও এই বিষয়টিতে একমত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির কাছে এনপিপির পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাই ম-ল। প্রস্তাবে দলটি বলেছে, রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করবেন, তাতে দলের আস্থা আছে।

প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেÑ

সব দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন; নির্দলীয় নিরপেক্ষ সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন; সংবিধান মতে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং বিশ্বের অন্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও যেন নির্বাচন কমিশন বাস্তবেই স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিতকরণ; অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। তাই বর্তমান বাস্তবতায় সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন।

সংলাপে এনপিপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস খালেকুজ্জামান খান, মো. ইদ্রিস চৌধুরী, মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, আশা সিদ্দিকা ও সৈয়দ মাহমুদুল হক।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে সংলাপের বিষয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি এনপিপি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে সহায়ক হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্তি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

আজ ৩ দলের সংলাপ

আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাকের পার্টি, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং রাত ৮টায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি।

ইসি গঠনে সংলাপের উদ্দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রথম দিন ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেন রাষ্ট্র্রপতি। চলমান সংলাপে গতকাল (১৫তম দিন) পর্যন্ত এনপিপিসহ ২০টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেলে বিএনপির সংলাপে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও দলটি বঙ্গভবনে যায়নি। এ নিয়ে মোট সাতটি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে।

আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংলাপের কথা রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপ শেষ হবে। গঠন করা হবে সার্চ কমিটি। বর্তমান ইসির আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই রাষ্ট্রপতি একটি নতুন ইসি গঠন করবেন, যার অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।