জবিতে শ্রেণীকক্ষ সংকট : ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শ্রেণীকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। এক বিভাগের শিক্ষার্থীরা অন্য বিভাগের শ্রেণীকক্ষ ধার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোয় সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ। আবার কয়েক বিভাগের শিক্ষকরা একই সঙ্গে একই রুম শেয়ার করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর এ সংকট আরও প্রকট হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীন ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউিট থাকলেও সে তুলনায় ক্লাসরুম নেই। বিভাগগুলোর নিজস্ব ক্লাসরুম থাকলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রত্যেকটি বিভাগে কমপক্ষে ৫টি করে ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকলেও ক্লাসরুম রয়েছে সর্বোচ্চ ২-৩টি। যার ফলে এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা ওই ক্লাসরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে ক্লাস রুমে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তিবোধ করেন। এদিকে ১৩ তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলেও ভবনটির ১০ম থেকে ১৩তম পর্যন্ত ৪টি তলা ফাঁকা পড়ে থাকলেও সেখানে নতুন কোন বিভাগকে স্থানান্তর করা হয়নি। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচতলায় করোনাকালীন বন্ধের আগে ছয়টি ক্লাসরুম ছিল। সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগের দুটি কক্ষ, গণিত বিভাগের একটি, রসায়ন বিভাগের একটি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একটি শ্রেণীকক্ষ ও একটি সেমিনার কক্ষ ছিল। পরে রফিক ভবনের নিচতলায় সংস্কার করে একপাশে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, কাউন্সিলিং সেন্টার ও অন্যপাশে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস করা হয়। যার ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে একটি মাত্র ক্লাসরুম।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রফিক ভবনের নিচতলায় দুইটা ক্লাসরুমে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস হওয়ার পর অবশিষ্ট ক্লাসরুমের সংখ্যা মাত্র একটি। এতে করে বিভাগের ৫টি ব্যাচের ক্লাস করার জন্য ক্লাসরুম মাত্র একটি। এই একটি ক্লাসরুমে তাদের ৫টি ব্যাচের ক্লাস-পরীক্ষা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। নিয়মিত ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিঘœ ঘটছে। এছাড়াও পরিসংখ্যান বিভাগের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া নাম মাত্র একটি ল্যাব রয়েছে যেখানে বিশ জনের বেশি ক্লাস করা যায় না। যেখানে বেশিরভাগ কম্পিউটারই নষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনে রয়েছে তিনটি বিভাগ- সংগীত, নাট্যকলা ও চারুকলা। তিনটি বিভাগেই রয়েছে তীব্র শ্রেণীকক্ষ সংকট। এই তিন বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের সময় তীব্র সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। নাট্যকলায় বর্তমান মাস্টার্স ও নতুন ব্যাচসহ একইসঙ্গে ৮টি ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকলেও বিভাগের ক্লাসরুম মাত্র ৪টি। এক ব্যাচের ব্যবহারিক থাকলে আরেক ব্যাচ ক্লাস করতে পারে না। ক্লাস শিডিউল থাকলেও বাতিল হয়।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রেণীকক্ষ সংকটের পাশাপাশি বর্ষাকালে কক্ষে পানি ঢুকে যায়, উপর থেকে পলেস্তারা খসে নিচে পড়ে। বিভাগটিতে শিক্ষকদের বসার জন্যেও পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকদের একাধিক কক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ মাত্র একটি। বাকি দুটি রুম উন্মুক্ত লাইব্রেরির জন্য ব্যবহার করে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রেণীকক্ষ ধার করে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শামস্ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের শ্রেণীকক্ষ সংকট চরম পর্যায়ে। খুব কষ্ট করে আমাদের ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারি না, কষ্ট লাগে। আমাদের বিভাগের কয়েকটি রুম স্টোরের কথা বলে তালা মেরে রাখা হয়েছে। অসংখ্যবার আমরা রুমের জন্য আবেদন করেছি, সাড়া পাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্ষ বরাদ্দ হবে। আমরা চেষ্টা করছি এটা সমাধান করার। এই সংকট সমাধান করা রাতারাতির কোন বিষয় নয়। গত ৫ জানুয়ারি ডিন ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শ্রেণীকক্ষ কোন বিভাগের একার না। দুপুরের পর আমাদের অনেক বিভাগের ক্লাস থাকে না। সে সময় ওই শ্রেণীকক্ষগুলোতে অন্য বিভাগের ক্লাস দেয়া যায় কি-না সেটা ভাবছি। উপাচার্য মহোদয় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জবিতে শ্রেণীকক্ষ সংকট : ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শ্রেণীকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। এক বিভাগের শিক্ষার্থীরা অন্য বিভাগের শ্রেণীকক্ষ ধার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোয় সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ। আবার কয়েক বিভাগের শিক্ষকরা একই সঙ্গে একই রুম শেয়ার করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর এ সংকট আরও প্রকট হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীন ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউিট থাকলেও সে তুলনায় ক্লাসরুম নেই। বিভাগগুলোর নিজস্ব ক্লাসরুম থাকলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রত্যেকটি বিভাগে কমপক্ষে ৫টি করে ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকলেও ক্লাসরুম রয়েছে সর্বোচ্চ ২-৩টি। যার ফলে এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা ওই ক্লাসরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে ক্লাস রুমে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তিবোধ করেন। এদিকে ১৩ তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলেও ভবনটির ১০ম থেকে ১৩তম পর্যন্ত ৪টি তলা ফাঁকা পড়ে থাকলেও সেখানে নতুন কোন বিভাগকে স্থানান্তর করা হয়নি। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচতলায় করোনাকালীন বন্ধের আগে ছয়টি ক্লাসরুম ছিল। সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগের দুটি কক্ষ, গণিত বিভাগের একটি, রসায়ন বিভাগের একটি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একটি শ্রেণীকক্ষ ও একটি সেমিনার কক্ষ ছিল। পরে রফিক ভবনের নিচতলায় সংস্কার করে একপাশে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, কাউন্সিলিং সেন্টার ও অন্যপাশে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস করা হয়। যার ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে একটি মাত্র ক্লাসরুম।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রফিক ভবনের নিচতলায় দুইটা ক্লাসরুমে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস হওয়ার পর অবশিষ্ট ক্লাসরুমের সংখ্যা মাত্র একটি। এতে করে বিভাগের ৫টি ব্যাচের ক্লাস করার জন্য ক্লাসরুম মাত্র একটি। এই একটি ক্লাসরুমে তাদের ৫টি ব্যাচের ক্লাস-পরীক্ষা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। নিয়মিত ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিঘœ ঘটছে। এছাড়াও পরিসংখ্যান বিভাগের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া নাম মাত্র একটি ল্যাব রয়েছে যেখানে বিশ জনের বেশি ক্লাস করা যায় না। যেখানে বেশিরভাগ কম্পিউটারই নষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনে রয়েছে তিনটি বিভাগ- সংগীত, নাট্যকলা ও চারুকলা। তিনটি বিভাগেই রয়েছে তীব্র শ্রেণীকক্ষ সংকট। এই তিন বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের সময় তীব্র সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। নাট্যকলায় বর্তমান মাস্টার্স ও নতুন ব্যাচসহ একইসঙ্গে ৮টি ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকলেও বিভাগের ক্লাসরুম মাত্র ৪টি। এক ব্যাচের ব্যবহারিক থাকলে আরেক ব্যাচ ক্লাস করতে পারে না। ক্লাস শিডিউল থাকলেও বাতিল হয়।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রেণীকক্ষ সংকটের পাশাপাশি বর্ষাকালে কক্ষে পানি ঢুকে যায়, উপর থেকে পলেস্তারা খসে নিচে পড়ে। বিভাগটিতে শিক্ষকদের বসার জন্যেও পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকদের একাধিক কক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ মাত্র একটি। বাকি দুটি রুম উন্মুক্ত লাইব্রেরির জন্য ব্যবহার করে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রেণীকক্ষ ধার করে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শামস্ শাহরিয়ার বলেন, আমাদের শ্রেণীকক্ষ সংকট চরম পর্যায়ে। খুব কষ্ট করে আমাদের ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারি না, কষ্ট লাগে। আমাদের বিভাগের কয়েকটি রুম স্টোরের কথা বলে তালা মেরে রাখা হয়েছে। অসংখ্যবার আমরা রুমের জন্য আবেদন করেছি, সাড়া পাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্ষ বরাদ্দ হবে। আমরা চেষ্টা করছি এটা সমাধান করার। এই সংকট সমাধান করা রাতারাতির কোন বিষয় নয়। গত ৫ জানুয়ারি ডিন ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শ্রেণীকক্ষ কোন বিভাগের একার না। দুপুরের পর আমাদের অনেক বিভাগের ক্লাস থাকে না। সে সময় ওই শ্রেণীকক্ষগুলোতে অন্য বিভাগের ক্লাস দেয়া যায় কি-না সেটা ভাবছি। উপাচার্য মহোদয় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।