নতুন দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা ও জয়যাত্রা’ নিয়ে

সমুদ্রে নৌবাহিনীর যুদ্ধ মহড়া

সারি সারি যুদ্ধ জাহাজ। নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু। যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা; এবং ‘জয়যাত্রা’। আকাশপথে হেলিকপ্টার। টার্গেট দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা শত্রু দেশের আক্রমণ প্রতিহত করে ভূখ- রক্ষা। যুদ্ধ জাহাজ থেকে সফল মিসাইল নিক্ষেপ করে শত্রুপক্ষের জাহাজকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। সার্ফেস টু সার্ফেস (ভূমি থেকে ভূমিতে) মিসাইল নিক্ষেপ এবং মেশিনগানের গুলিতে ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টারক। প্রতিহত করা হয়েছে শত্রুপক্ষের সাবমিরন আক্রমণও। এভাবে কল্পনিক যুদ্ধ মহাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ রক্ষা, বিপদগ্রস্ত জাহাজ রক্ষা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং সমুদ্র পথে শত্রুপক্ষের প্রবেশ ঠেকাতে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

নৌ-বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ভূখ- রক্ষায় পাল্টা আক্রমণ বাংলাদেশ নৌবাহিনী। যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজ এবং হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে মিসাইল। সার্ফেস টু সার্ফেস মিসাইল আক্রমণের পাশাপাশি হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন থেকেও আক্রমণে পরাজিত করা হয়েছে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে। এভাবে কাল্পনিক যুদ্ধে সমুদ্র পথ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা জানান দেয়া হয়েছে নৌবাহিনীর বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া এক্সারসাইজ সেফ গার্ড-২০২১ এর মাধ্যমে। সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ প্রতিপাদ্য বিষয়ে গত ১৫ দিনব্যাপী এ মহড়ায় গতকাল চূড়ান্ত বিজয় আসে।

এক্সারসাইজ সেফগার্ড কাল্পনিক যুদ্ধ মহড়ায় এবার যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন। নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমিরন পুড়ো মহড়ায় যুদ্ধ জাহাজগুলোকে সার্বিক যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। আকাশ পথে ছিল হেলিকপ্টারও।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া ‘এক্সারসাইজ সেফগার্ড-২০২১’ গতকাল সমাপনি দিনে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে বানৌজা সমুদ্র অভিযান থেকে মহড়াসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৫ দিনব্যাপী আয়োজিত এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইন সুইপার, প্যাট্রল ক্রাফট, মিসাইল বোটসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ। নৌবাহিনীর মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ার ক্রাফট ও হেলিকপ্টারও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাসমূহ এ মহড়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত এ যুদ্ধ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল নৌবহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিস্টিকস অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ-স্থাপনাসমূহের প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি।

নৌবাহিনীর এ বার্ষিক মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ। চূড়ান্ত দিনের মহড়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ হতে মিসাইল উৎক্ষেপণ, বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ, সাবমেরিন বিধ্বংসী রকেট ডেপথ চার্জ নিক্ষেপণ, ভিবিএসএস ও নৌকমান্ডো মহড়া এবং নৌ-যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল।

প্রধান অতিথি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা রয়েছে। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও যেকোন দুর্যোগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তাসহ জনসাধারণকে যে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২ , ২৯ পৌষ ১৪২৮ ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নতুন দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা ও জয়যাত্রা’ নিয়ে

সমুদ্রে নৌবাহিনীর যুদ্ধ মহড়া

image

বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর সামুদ্রিক মহড়ায় মিসাইল ফায়ারিং

সারি সারি যুদ্ধ জাহাজ। নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু। যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা; এবং ‘জয়যাত্রা’। আকাশপথে হেলিকপ্টার। টার্গেট দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা শত্রু দেশের আক্রমণ প্রতিহত করে ভূখ- রক্ষা। যুদ্ধ জাহাজ থেকে সফল মিসাইল নিক্ষেপ করে শত্রুপক্ষের জাহাজকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। সার্ফেস টু সার্ফেস (ভূমি থেকে ভূমিতে) মিসাইল নিক্ষেপ এবং মেশিনগানের গুলিতে ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টারক। প্রতিহত করা হয়েছে শত্রুপক্ষের সাবমিরন আক্রমণও। এভাবে কল্পনিক যুদ্ধ মহাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ রক্ষা, বিপদগ্রস্ত জাহাজ রক্ষা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং সমুদ্র পথে শত্রুপক্ষের প্রবেশ ঠেকাতে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

নৌ-বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ভূখ- রক্ষায় পাল্টা আক্রমণ বাংলাদেশ নৌবাহিনী। যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজ এবং হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে মিসাইল। সার্ফেস টু সার্ফেস মিসাইল আক্রমণের পাশাপাশি হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন থেকেও আক্রমণে পরাজিত করা হয়েছে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে। এভাবে কাল্পনিক যুদ্ধে সমুদ্র পথ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা জানান দেয়া হয়েছে নৌবাহিনীর বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া এক্সারসাইজ সেফ গার্ড-২০২১ এর মাধ্যমে। সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ প্রতিপাদ্য বিষয়ে গত ১৫ দিনব্যাপী এ মহড়ায় গতকাল চূড়ান্ত বিজয় আসে।

এক্সারসাইজ সেফগার্ড কাল্পনিক যুদ্ধ মহড়ায় এবার যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন। নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমিরন পুড়ো মহড়ায় যুদ্ধ জাহাজগুলোকে সার্বিক যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। আকাশ পথে ছিল হেলিকপ্টারও।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া ‘এক্সারসাইজ সেফগার্ড-২০২১’ গতকাল সমাপনি দিনে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে বানৌজা সমুদ্র অভিযান থেকে মহড়াসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৫ দিনব্যাপী আয়োজিত এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইন সুইপার, প্যাট্রল ক্রাফট, মিসাইল বোটসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ। নৌবাহিনীর মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ার ক্রাফট ও হেলিকপ্টারও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাসমূহ এ মহড়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। মোট চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত এ যুদ্ধ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল নৌবহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিস্টিকস অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ-স্থাপনাসমূহের প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি।

নৌবাহিনীর এ বার্ষিক মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ। চূড়ান্ত দিনের মহড়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ হতে মিসাইল উৎক্ষেপণ, বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ, সাবমেরিন বিধ্বংসী রকেট ডেপথ চার্জ নিক্ষেপণ, ভিবিএসএস ও নৌকমান্ডো মহড়া এবং নৌ-যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল।

প্রধান অতিথি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা রয়েছে। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও যেকোন দুর্যোগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তাসহ জনসাধারণকে যে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।