রাজধানীতে অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না

‘জীবন যায় যাক, মাস্ক কেন পরতে হবে’ এমন নীতিবাক্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে রাজধানী ঢাকার অসচেতন মানুষেরা। এত উদাসীন তারা সরকারি বিধিনিষেধ মানতে এমনকি তোয়াক্কাও করে চলে না। যেটি গতকাল রাজধানীতে আবারও দেখা গেল। দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রতিরোধে সরকার যে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে, এর প্রথম দিন ছিল গতকাল। বিধিনিষেধে ঘরের বাইরে সর্বত্র অবশ্যই মুখে মাস্ক পরিধান করার নির্দেশনা রয়েছে। মাস্ক না পরলে আর্থিক জরিমানা এমনকি জেলও হতে পারে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বাজার-মার্কেট, খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এসব স্থানে হাতে গোনা দু-চারজন সচেতন ব্যক্তি ছাড়া কারো মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সরেজমিন চিত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বাসাবো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মার্কেট-রেস্তোরাঁ, বাজার-চায়ের দোকানসহ অন্য স্থানে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা। তবে হাতে গোনা দু-চারজনকে মুখে মাস্ক লাগাতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ থুতনির নিচে মাস্ক লাগিয়ে চলাফেরা করছেন। বৌদ্ধমন্দির সংলগ্ন হারুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে উপচেপড়া ভিড় ছিল ক্রেতাদের। তাদের দু-একজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অন্যদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ বিষয়ে ওই হোটেলের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ক্রেতারা যেন মাস্ক পরে হোটেলে আসেন, সেজন্য আমরা নোটিশ লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কেউ যদি না মানে আমরা জবরদস্তি করে মানাতে পারবো না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদের না এ কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এদিকে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দুপুর ১২টায় রাজধানীর শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাস ১১ জনের নামে মামলা এবং তাদের কাছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড করেছেন। পৌনে দুই ঘণ্টার এ অভিযানে প্রায় ৬০ জনকে টেবিলে ডেকে নেন সঞ্জীব দাস। তাদের প্রত্যেকেরই মাস্ক পরতে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে সঞ্জীব দাস বলেন, অভিযানে পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীরা মাস্ক পরছেন কি-না তা দেখছি। সার্বিকভাবে আমরা দেখেছি অনেকে মাস্ক ছাড়া বের হয়েছেন, কেউ কেউ আবার মাস্ক পকেটে রাখছেন। কয়েকজনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাস্ক পরবে এ মর্মে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে। অপরাধ বিবেচনায় অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য সবাইকে সতর্ক করা। কইভাবে গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ বা বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছে না। কিছু মানুষ এ বিষয়ে অসচেতন হলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের আচরণ আরও উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ভ্যাকসিন সনদ আছে কি-না তা যাচাই করছে না হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। তারা কেবল নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা গেছে, বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে হোটেল ও রেস্তোরাঁর লোকদের ভ্যাকসিন সনদ দেখাতে হবে এ তথ্য অধিকাংশ লোকই জানে না তেমনি সাধারণ মানুষও বিধিনিষেধের বিষয়ে সচেতন নন। এর ফলে খাবার খেতে বা নিতে আসা মানুষজন ভ্যাকসিন সনদ সঙ্গে আনছেন না আর দোকান মালিকরাও সেটি দেখার তাগিদ অনুভব করছেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশ ঊর্ধ্বমুখী। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার দুই শতাংশের নিচে থাকলেও ১ জানুয়ারির পর থেকে অব্যাহতভাবে বেড়ে তা ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির পরামর্শ অনুসারে ১১ দফার বিধিনিষেধের নির্দেশনা জারি করে সরকার।

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২২ , ৩০ পৌষ ১৪২৮ ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিধিনিষেধ

রাজধানীতে অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না

‘জীবন যায় যাক, মাস্ক কেন পরতে হবে’ এমন নীতিবাক্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে রাজধানী ঢাকার অসচেতন মানুষেরা। এত উদাসীন তারা সরকারি বিধিনিষেধ মানতে এমনকি তোয়াক্কাও করে চলে না। যেটি গতকাল রাজধানীতে আবারও দেখা গেল। দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রতিরোধে সরকার যে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে, এর প্রথম দিন ছিল গতকাল। বিধিনিষেধে ঘরের বাইরে সর্বত্র অবশ্যই মুখে মাস্ক পরিধান করার নির্দেশনা রয়েছে। মাস্ক না পরলে আর্থিক জরিমানা এমনকি জেলও হতে পারে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বাজার-মার্কেট, খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এসব স্থানে হাতে গোনা দু-চারজন সচেতন ব্যক্তি ছাড়া কারো মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সরেজমিন চিত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বাসাবো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মার্কেট-রেস্তোরাঁ, বাজার-চায়ের দোকানসহ অন্য স্থানে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা। তবে হাতে গোনা দু-চারজনকে মুখে মাস্ক লাগাতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ থুতনির নিচে মাস্ক লাগিয়ে চলাফেরা করছেন। বৌদ্ধমন্দির সংলগ্ন হারুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে উপচেপড়া ভিড় ছিল ক্রেতাদের। তাদের দু-একজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অন্যদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ বিষয়ে ওই হোটেলের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ক্রেতারা যেন মাস্ক পরে হোটেলে আসেন, সেজন্য আমরা নোটিশ লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কেউ যদি না মানে আমরা জবরদস্তি করে মানাতে পারবো না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদের না এ কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এদিকে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দুপুর ১২টায় রাজধানীর শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাস ১১ জনের নামে মামলা এবং তাদের কাছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড করেছেন। পৌনে দুই ঘণ্টার এ অভিযানে প্রায় ৬০ জনকে টেবিলে ডেকে নেন সঞ্জীব দাস। তাদের প্রত্যেকেরই মাস্ক পরতে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে সঞ্জীব দাস বলেন, অভিযানে পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীরা মাস্ক পরছেন কি-না তা দেখছি। সার্বিকভাবে আমরা দেখেছি অনেকে মাস্ক ছাড়া বের হয়েছেন, কেউ কেউ আবার মাস্ক পকেটে রাখছেন। কয়েকজনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাস্ক পরবে এ মর্মে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে। অপরাধ বিবেচনায় অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য সবাইকে সতর্ক করা। কইভাবে গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ বা বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছে না। কিছু মানুষ এ বিষয়ে অসচেতন হলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের আচরণ আরও উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ভ্যাকসিন সনদ আছে কি-না তা যাচাই করছে না হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। তারা কেবল নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা গেছে, বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে হোটেল ও রেস্তোরাঁর লোকদের ভ্যাকসিন সনদ দেখাতে হবে এ তথ্য অধিকাংশ লোকই জানে না তেমনি সাধারণ মানুষও বিধিনিষেধের বিষয়ে সচেতন নন। এর ফলে খাবার খেতে বা নিতে আসা মানুষজন ভ্যাকসিন সনদ সঙ্গে আনছেন না আর দোকান মালিকরাও সেটি দেখার তাগিদ অনুভব করছেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশ ঊর্ধ্বমুখী। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার দুই শতাংশের নিচে থাকলেও ১ জানুয়ারির পর থেকে অব্যাহতভাবে বেড়ে তা ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির পরামর্শ অনুসারে ১১ দফার বিধিনিষেধের নির্দেশনা জারি করে সরকার।