কোভিডকালীন পুনরুদ্ধার

বড় অর্থনীতিগুলো আরও বড় হচ্ছে, বাড়ছে অসম প্রবৃদ্ধি

ধীরে ধীরে কোভিড সংক্রমণের ক্ষতি থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে সারা বিশ্ব। তবে এই উঠে দাঁড়ানোতেও ছোট অর্থনীতিগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বড় অর্থনীতির দেশগুলো। এতে বাড়ছে অসম প্রবৃদ্ধির মতো ঝুঁকি। এই বড় অর্থনীতির প্রধান দুটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই বৃহত্তম অর্থনীতির হাত ধরে ২০২১ সালে বৈশ্বিক জিডিপির আকার ৯৪ লাখ কোটি ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যদিও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে পিছিয়ে রয়েছে বাকি বিশ্ব। সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) একটি পূর্বাভাসমূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডয়েচে ভেলে।

গত বছর চীনের অর্থনীতি ২০১৯ সালের চেয়ে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বড় হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।

ওইসিডির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০১৯ সালে ১৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার থেকে ২০২১ সালে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন জিডিপি ২ শতাংশ বেড়ে ২০ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। স্বল্পোন্নত দেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য ধনী দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারও অসম থেকে গেছে। জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো শীর্ষ অর্থনীতিগুলোও এখনও কোভিডপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি।

জাপানের জিডিপি এখনও ২০১৯ সালের চেয়ে ৩ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। জার্মানির এ পিছিয়ে থাকার হার ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি এখনও মহামারীর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ছোট রয়ে গেছে।

বিশ্বজুড়ে চলমান সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত জার্মানি ও জাপানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশ্বজুড়ে কাঁচামাল ও অন্য পণ্যের চালান বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে গাড়ি শিল্প। শিপিং ও অন্য লজিস্টিক বিলম্বের ধাক্কা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে পড়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রভাব জটিল আকার ধারণ করে।

ওইসিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২ সালে এ তিন অর্থনীতি কোভিডপূর্ব পর্যায়কে ছাড়িয়ে যাবে। যদিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ভারতও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। এ হিসাবে গত বছর ভারতের জিডিপির আকার ২ লাখ ৭১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি প্রাক-কোভিডের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ কম। বিশ্বজুড়ে প্রথম লকডাউনে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়ার পর ওইসিডি জানিয়েছিল, মাত্র ছয় মাসে বৈশ্বিক জিডিপি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর পর থেকে অর্থনীতিগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আইএমএফের তথ্য অনুসারে, বিশ্ববাণিজ্য ও পরিষেবার আর্থিক মূল্য এখন ৯৪ লাখ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ জিডিপির এ আকার এক-দশমাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। ওইসিডি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতিই কেবল বৈশ্বিক জিডিপির ৩৫ শতাংশ।

উৎপাদন, নির্মাণ ও খনি চীনের বৃহত্তম শিল্পগুলোর একটি। অন্যদিকে সম্পদ ও ব্যবসায়িক পরিষেবাসহ অর্থ, বীমা ও আবাসন খাত মার্কিন অর্থনীতি মূল ভিত্তি। আইএমএফের তথ্য অনুসারে, বিশ্বের মোট জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি পাঁচ বৃহত্তম অর্থনীতির দখলে রয়েছে। গবেষণা সংস্থা ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তথ্য অনুসারে, মার্কিন জিডিপি একাই স্বল্পোন্নত ১৭০টি দেশের সম্মিলিত জিডিপির চেয়ে বেশি। ২০২১ সালে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতি ছিল লিবিয়া। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে গত বছর দেশটির অর্থনীতি ১২৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে জ্বালানি তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়া ঘানার অর্থনীতি বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০২১ সালে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পাওয়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপ ও আয়ারল্যান্ড। পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতি যথাক্রমে ৬ ও ৮ শতাংশ বাড়বে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ৫০ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বড় ছিল। ২০৫০ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার আবার দ্বিগুণ হয়ে ১৮০ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২ , ০১ মাঘ ১৪২৮ ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কোভিডকালীন পুনরুদ্ধার

বড় অর্থনীতিগুলো আরও বড় হচ্ছে, বাড়ছে অসম প্রবৃদ্ধি

সংবাদ ডেস্ক

image

ধীরে ধীরে কোভিড সংক্রমণের ক্ষতি থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে সারা বিশ্ব। তবে এই উঠে দাঁড়ানোতেও ছোট অর্থনীতিগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বড় অর্থনীতির দেশগুলো। এতে বাড়ছে অসম প্রবৃদ্ধির মতো ঝুঁকি। এই বড় অর্থনীতির প্রধান দুটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই বৃহত্তম অর্থনীতির হাত ধরে ২০২১ সালে বৈশ্বিক জিডিপির আকার ৯৪ লাখ কোটি ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যদিও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে পিছিয়ে রয়েছে বাকি বিশ্ব। সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) একটি পূর্বাভাসমূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডয়েচে ভেলে।

গত বছর চীনের অর্থনীতি ২০১৯ সালের চেয়ে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বড় হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।

ওইসিডির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০১৯ সালে ১৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার থেকে ২০২১ সালে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন জিডিপি ২ শতাংশ বেড়ে ২০ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। স্বল্পোন্নত দেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য ধনী দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারও অসম থেকে গেছে। জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো শীর্ষ অর্থনীতিগুলোও এখনও কোভিডপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি।

জাপানের জিডিপি এখনও ২০১৯ সালের চেয়ে ৩ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। জার্মানির এ পিছিয়ে থাকার হার ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি এখনও মহামারীর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ছোট রয়ে গেছে।

বিশ্বজুড়ে চলমান সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত জার্মানি ও জাপানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশ্বজুড়ে কাঁচামাল ও অন্য পণ্যের চালান বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে গাড়ি শিল্প। শিপিং ও অন্য লজিস্টিক বিলম্বের ধাক্কা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে পড়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রভাব জটিল আকার ধারণ করে।

ওইসিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২ সালে এ তিন অর্থনীতি কোভিডপূর্ব পর্যায়কে ছাড়িয়ে যাবে। যদিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ভারতও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। এ হিসাবে গত বছর ভারতের জিডিপির আকার ২ লাখ ৭১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি প্রাক-কোভিডের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ কম। বিশ্বজুড়ে প্রথম লকডাউনে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়ার পর ওইসিডি জানিয়েছিল, মাত্র ছয় মাসে বৈশ্বিক জিডিপি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর পর থেকে অর্থনীতিগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আইএমএফের তথ্য অনুসারে, বিশ্ববাণিজ্য ও পরিষেবার আর্থিক মূল্য এখন ৯৪ লাখ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ জিডিপির এ আকার এক-দশমাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। ওইসিডি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতিই কেবল বৈশ্বিক জিডিপির ৩৫ শতাংশ।

উৎপাদন, নির্মাণ ও খনি চীনের বৃহত্তম শিল্পগুলোর একটি। অন্যদিকে সম্পদ ও ব্যবসায়িক পরিষেবাসহ অর্থ, বীমা ও আবাসন খাত মার্কিন অর্থনীতি মূল ভিত্তি। আইএমএফের তথ্য অনুসারে, বিশ্বের মোট জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি পাঁচ বৃহত্তম অর্থনীতির দখলে রয়েছে। গবেষণা সংস্থা ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তথ্য অনুসারে, মার্কিন জিডিপি একাই স্বল্পোন্নত ১৭০টি দেশের সম্মিলিত জিডিপির চেয়ে বেশি। ২০২১ সালে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতি ছিল লিবিয়া। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে গত বছর দেশটির অর্থনীতি ১২৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে জ্বালানি তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়া ঘানার অর্থনীতি বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০২১ সালে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পাওয়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপ ও আয়ারল্যান্ড। পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতি যথাক্রমে ৬ ও ৮ শতাংশ বাড়বে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ৫০ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বড় ছিল। ২০৫০ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার আবার দ্বিগুণ হয়ে ১৮০ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।