ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, নবাবপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলা, শাঁখারি বাজার, তাঁতীবাজার, ধোলাইখাল, লক্ষ্মীবাজার, ফরাশগঞ্জ, সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা, লালবাগ, চকবাজার, মুরগিটোলাসহ বিভিন্ন এলাকার ছাদগুলো সাজানো হয় রঙিন পর্দা দিয়ে। তার সঙ্গে লাইটিং। দিনভর ছিল ঘুড়ি ওড়ানো ও সুতো কাটার খেলা।

গতকাল সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকায় ঘুড়ির দামও ছিল চড়া। সাধারণ ঘুড়ি যা আগে বিক্রি হতো ৫-৬ টাকা তা দাম বেড়ে বিক্রি হয়েয়ে ২০ টাকায়। অন্যান্য ঘুড়ির দামও ছিল ৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য বাঁশের নাটাইসহ পিতল ও লোহার নাটাই দেখা যায়। সাধারণ নাটাইয়ের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। পিতল ও লোহার নাটাই কিনিতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। সাকরাইনের অন্যতম উপাদান হচ্ছে আতশবাজি। কার্যক্ষমতা ও সাইজ বুঝে প্রতি পিস আতশবাজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সাকরাইনের দিনে পুরান ঢাকার আকাশ দখলে নেয় ফানুস। প্রতিটি ফানুসের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। ফানুস থেকে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা এবং আতশবাজি থেকে বিকট শব্দদূষণ হওয়ায় এসব বিক্রি ও ব্যবহারে ছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে এই নিষেধাজ্ঞা মানতে দেখা যায়নি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের।

আরও দেখা যায়, পুরান ঢাকার প্রতিটি এলাকার বাসার ছাদেই গতকাল ছিল সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজনা। দুপুরের পর থেকেই আকাশে বুকে বাড়তে থাকে ঘুড়ির সংখ্যা। সঙ্গে বাজতে থাকে বিভিন্ন বিদেশি গান। সঙ্গে শুরু হয় ডিজে পার্টি। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আশপাশের অনেক মানুষ। এর মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেও অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী পুরান ঢাকায় উৎসবটি ঘুড়ি উড়িয়ে পালন করার কথা। সময়ের বিবর্তনে ঘুড়ি ওড়ানোর চেয়ে ছাদে ছাদে ডিজে পার্টি করে ও বিদেশি গান বাজিয়ে উদযাপন করা হয় দিবসটি। এতে ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্যবাহী দেশীয় সংস্কৃতি বিলুপ্তির মুখে। একই সঙ্গে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে অনেক বিভাগেরই ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। আবার কেউ কেউ চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আতশবাজি এবং গানের অতিরিক্ত শব্দে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

সাকরাইন ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত। পৌষ মাসের শেষদিন সারা ভারতবর্ষে সংক্রান্তি হিসেবে এ উৎসব উদযাপিত হয়। তবে পুরান ঢাকায় পৌষ সংক্রান্তি বা সাকরাইন সর্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত।

শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২ , ০১ মাঘ ১৪২৮ ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব

image

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, নবাবপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলা, শাঁখারি বাজার, তাঁতীবাজার, ধোলাইখাল, লক্ষ্মীবাজার, ফরাশগঞ্জ, সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা, লালবাগ, চকবাজার, মুরগিটোলাসহ বিভিন্ন এলাকার ছাদগুলো সাজানো হয় রঙিন পর্দা দিয়ে। তার সঙ্গে লাইটিং। দিনভর ছিল ঘুড়ি ওড়ানো ও সুতো কাটার খেলা।

গতকাল সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকায় ঘুড়ির দামও ছিল চড়া। সাধারণ ঘুড়ি যা আগে বিক্রি হতো ৫-৬ টাকা তা দাম বেড়ে বিক্রি হয়েয়ে ২০ টাকায়। অন্যান্য ঘুড়ির দামও ছিল ৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য বাঁশের নাটাইসহ পিতল ও লোহার নাটাই দেখা যায়। সাধারণ নাটাইয়ের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। পিতল ও লোহার নাটাই কিনিতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। সাকরাইনের অন্যতম উপাদান হচ্ছে আতশবাজি। কার্যক্ষমতা ও সাইজ বুঝে প্রতি পিস আতশবাজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সাকরাইনের দিনে পুরান ঢাকার আকাশ দখলে নেয় ফানুস। প্রতিটি ফানুসের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। ফানুস থেকে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা এবং আতশবাজি থেকে বিকট শব্দদূষণ হওয়ায় এসব বিক্রি ও ব্যবহারে ছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে এই নিষেধাজ্ঞা মানতে দেখা যায়নি বিক্রেতা ও ক্রেতাদের।

আরও দেখা যায়, পুরান ঢাকার প্রতিটি এলাকার বাসার ছাদেই গতকাল ছিল সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজনা। দুপুরের পর থেকেই আকাশে বুকে বাড়তে থাকে ঘুড়ির সংখ্যা। সঙ্গে বাজতে থাকে বিভিন্ন বিদেশি গান। সঙ্গে শুরু হয় ডিজে পার্টি। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আশপাশের অনেক মানুষ। এর মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেও অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী পুরান ঢাকায় উৎসবটি ঘুড়ি উড়িয়ে পালন করার কথা। সময়ের বিবর্তনে ঘুড়ি ওড়ানোর চেয়ে ছাদে ছাদে ডিজে পার্টি করে ও বিদেশি গান বাজিয়ে উদযাপন করা হয় দিবসটি। এতে ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্যবাহী দেশীয় সংস্কৃতি বিলুপ্তির মুখে। একই সঙ্গে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে অনেক বিভাগেরই ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। আবার কেউ কেউ চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আতশবাজি এবং গানের অতিরিক্ত শব্দে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

সাকরাইন ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত। পৌষ মাসের শেষদিন সারা ভারতবর্ষে সংক্রান্তি হিসেবে এ উৎসব উদযাপিত হয়। তবে পুরান ঢাকায় পৌষ সংক্রান্তি বা সাকরাইন সর্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত।