সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

সাতক্ষীরার বাস টার্মিনালে ভোট না হওয়ার জেরে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরে রবি ও জাহিদ গ্রুপের লোকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুর হয়েছে দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকা অফিস। সার্বিক পরিস্থিতিতে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ৬ রুটে বাস চলাচল। এতে দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রীসাধারণের। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাস টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

তবে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম দিন দশেক আগে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশন নং ৪০৩৭/২২। ভোটার তালিকায় কারচুপি, মৃত ও অশ্রমিকদের শ্রমিক বানানোসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয় পিটিশনে। গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীমের বেঞ্চ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক জানান, এ নিয়ে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। হামলা হয় দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকা অফিসে।

গতকাল দুপুর বারোটার দিকে বাস টার্মিনালের ভেতরে রবি গ্রুপের শ্রমিক রতন ও মাসুম হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে জাহিদ গ্রুপের আক্তার হোসেন, টিপু, শাহাজাহান হোসেন ও মিলন হোসেন। পরে রবি গ্রুপের শ্রমিকরা পাল্টা হামলা চালায় জাহিদ গ্রুপের লোকজনের ওপর। এতে টিপু ও আক্তার হোসেন আহত হন। এর জের ধরে জাহিদ গ্রুপের লোকজন ইট-পাটকেল ছোড়ে বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদের সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক কালের চিত্র অফিসে। এতে পত্রিকার সাইনবোর্ড ও অফিস কক্ষের বাইরের থাইগ্লাস ভাঙচুর হয়।

এ বিষয়ে দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার ম্যানেজার গাজী হাবিব জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে কিছু রিপোর্ট দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে গতকাল বেলা একটার দিকে জাহিদ গ্রুপের শ্রমিক নেতা মিলন হোসেনের নেতৃত্বে পত্রিকা অফিসে হামলা হয়। তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পত্রিকা অফিসের দরজা ও জানালার গ্লাসসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। ইট মেরে ছিড়ে দেয় পত্রিকা অফিসের সাইনবোর্ড।

এছাড়া পত্রিকা অফিসের ডিসকভার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে হামলাকারী শ্রমিকরা। এ বিষয়ে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে গ-গোলের খবর শুনে টার্মিনালে আসি। এসে শুনি, রবির লোকজনের হাতে শ্রমিক টিপু ও আক্তার আহত হয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম জানান, নির্বাচনের স্থগিতাদেশ হওয়া আমাদের জন্য কাল হয়েছে। আমাদের যেখানে-সেখানে মারছে, অথছ প্রশাসন কেউ কিছু করছে না। বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, উচ্চতর আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। অথচ বিষয়টি মানতে পারছে না একটি গ্রুপ। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন তাদের পক্ষে একযোগে কাজ করছে। এমনকি সড়কে বাস রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকদের একটি অংশ। এ অবস্থায় পুলিশের সামনেই তারা মিছিলও বের করেছে। এদিকে, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরা-খুলনা, সাতক্ষীরা-যশোরসহ ৬টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। কালিগঞ্জ থেকে খুলনাগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, কালিগঞ্জ থেকে বাস সাতক্ষীরায় আটকে গেল। তাহলে জরুরি কাজে খুলনায় যাওয়ার কি হবে? শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কেন বাস বন্ধ থাকবে, এমন প্রশ্ন রেখে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। সদর থানার ওসি গোলাম কবির জানান, টার্মিনালের পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান ওসি।

সোমবার, ০৪ এপ্রিল ২০২২ , ২১ চৈত্র ১৪২৮ ০১ রমাদ্বান ১৪৪৩

সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা

image

সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালে শ্রমিক সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ -সংবাদ

সাতক্ষীরার বাস টার্মিনালে ভোট না হওয়ার জেরে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরে রবি ও জাহিদ গ্রুপের লোকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুর হয়েছে দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকা অফিস। সার্বিক পরিস্থিতিতে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ৬ রুটে বাস চলাচল। এতে দুর্ভোগ বাড়ে যাত্রীসাধারণের। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাস টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

তবে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম দিন দশেক আগে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশন নং ৪০৩৭/২২। ভোটার তালিকায় কারচুপি, মৃত ও অশ্রমিকদের শ্রমিক বানানোসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয় পিটিশনে। গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীমের বেঞ্চ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক জানান, এ নিয়ে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। হামলা হয় দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকা অফিসে।

গতকাল দুপুর বারোটার দিকে বাস টার্মিনালের ভেতরে রবি গ্রুপের শ্রমিক রতন ও মাসুম হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে জাহিদ গ্রুপের আক্তার হোসেন, টিপু, শাহাজাহান হোসেন ও মিলন হোসেন। পরে রবি গ্রুপের শ্রমিকরা পাল্টা হামলা চালায় জাহিদ গ্রুপের লোকজনের ওপর। এতে টিপু ও আক্তার হোসেন আহত হন। এর জের ধরে জাহিদ গ্রুপের লোকজন ইট-পাটকেল ছোড়ে বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদের সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক কালের চিত্র অফিসে। এতে পত্রিকার সাইনবোর্ড ও অফিস কক্ষের বাইরের থাইগ্লাস ভাঙচুর হয়।

এ বিষয়ে দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার ম্যানেজার গাজী হাবিব জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে কিছু রিপোর্ট দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে গতকাল বেলা একটার দিকে জাহিদ গ্রুপের শ্রমিক নেতা মিলন হোসেনের নেতৃত্বে পত্রিকা অফিসে হামলা হয়। তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পত্রিকা অফিসের দরজা ও জানালার গ্লাসসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। ইট মেরে ছিড়ে দেয় পত্রিকা অফিসের সাইনবোর্ড।

এছাড়া পত্রিকা অফিসের ডিসকভার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে হামলাকারী শ্রমিকরা। এ বিষয়ে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে গ-গোলের খবর শুনে টার্মিনালে আসি। এসে শুনি, রবির লোকজনের হাতে শ্রমিক টিপু ও আক্তার আহত হয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম জানান, নির্বাচনের স্থগিতাদেশ হওয়া আমাদের জন্য কাল হয়েছে। আমাদের যেখানে-সেখানে মারছে, অথছ প্রশাসন কেউ কিছু করছে না। বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, উচ্চতর আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। অথচ বিষয়টি মানতে পারছে না একটি গ্রুপ। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন তাদের পক্ষে একযোগে কাজ করছে। এমনকি সড়কে বাস রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকদের একটি অংশ। এ অবস্থায় পুলিশের সামনেই তারা মিছিলও বের করেছে। এদিকে, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরা-খুলনা, সাতক্ষীরা-যশোরসহ ৬টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। কালিগঞ্জ থেকে খুলনাগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, কালিগঞ্জ থেকে বাস সাতক্ষীরায় আটকে গেল। তাহলে জরুরি কাজে খুলনায় যাওয়ার কি হবে? শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কেন বাস বন্ধ থাকবে, এমন প্রশ্ন রেখে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। সদর থানার ওসি গোলাম কবির জানান, টার্মিনালের পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান ওসি।