হাওরের বাঁধ কি ফসল রক্ষায় কাজে আসছে

সুনামগঞ্জ জেলার হাওরে ৭২৭টি প্রকল্পে ১২১ কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজের সময়সীমা ছিল ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক মাসের বেশি সময় পরও কাজ শেষ হয়নি। পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরাঞ্চলের কৃষকের বোরো ধান রক্ষা করার জন্য নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা জরুরি। প্রায়ই দেখা যায় নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায়, কিন্তু কাজ সম্পন্ন হয় না।

কোন মৌসুমে যদি আগাম বন্যা হয় বা পাহাড়ি ঢল আসে তাহলে বিপদে পড়তে হয় কৃষকদের। যেমনটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার ফসলডুবিতে হাওর থেকে একেবারে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল তাদের। এবার শুরু থেকেই একটা আশঙ্কা ছিল। কৃষকেরা জানিয়েছেন, যেভাবে পাহাড়ি ঢল নামছে, নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তাতে এবারও ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়, চেরপুঞ্জিতে গত ৪ দিনে ৫৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অতিবৃষ্টি হলেই ঢল নামে। ফলে সুনামগঞ্জ জেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সব কটি হাওরের ফসলই এখন ঝুঁকিতে আছে। জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার নদ-নদীতেও পানি বাড়ছে। ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি নরম। বাঁধের ঢালে ঘাস লাগানোর কথা থাকলেও অনেক স্থানেই ঘাস নেই। কোনো কোনো স্থানে এখনও কাজ করছে লোকজন! এর বাইরে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাঁধ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এখানে ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ধান এখনো সবুজ, কাঁচা। এগুলো পাকতে আরও ১০-১২ দিন সময় লাগবে। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকেরা। তারা চরম আতঙ্ক আর উদ্বেগে দিন পার করছে। ইতিপূর্বে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকের রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেখানে বন্যা এলে একমাত্র বাঁধই রক্ষা করতে পারে তাদের শ্রমে-ঘামে ফলানো ‘সোনার ধান’। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধগুলো সংস্কার না করলে শুধু যে ওই এলাকার কৃষকেরই সর্বনাশ হবে তা নয়; বরং পুরো দেশই খাদ্য নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে কেন এসব বাঁধ সংস্কার বা নির্মাণ করা হয়নি। এখন বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; এর আগে কি বাকি কাজ শেষ করা যাবে?

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের এত অনাগ্রহ ও উদাসীনতার কারণ কীÑআমরা সেটা জানতে চাই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোন প্রকল্পের কাজ শেষই করা না যায়, তাহলে সময় নির্ধারণ করার দরকার কী! প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো কাজ করুক। কৃষকের ফসল ডোবে তো ডুবুক, সর্বনাশ হয় তো হোক।

আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আশাব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে
পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মিলিটারি কায়দায় কাজ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাওয়া জীবন
মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি থামানো যাবে না
রংপুরের তারাগঞ্জে পুলিশ প্রটেকশনে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা
নিরাপত্তাকর্মী-পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ছদ্মবেশে ডাকাত চক্র
উত্তীর্ণ ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন, এগিয়ে মেয়েরা
সবার সেরা খুলনার মীম
৬ বছরেও তামাককর কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি, সহজ লভ্যতায় হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
সুনামগঞ্জে আরও ২ স্থানে বাঁধ ভেঙে ফসলহানি, ঝুঁকিপূর্ণ বেশ কয়েকটি
অনলাইনে জন্মসনদ

বুধবার, ০৬ এপ্রিল ২০২২ , ২৩ চৈত্র ১৪২৮ ০৪ রমাদ্বান ১৪৪৩

হাওরের বাঁধ কি ফসল রক্ষায় কাজে আসছে

সুনামগঞ্জ জেলার হাওরে ৭২৭টি প্রকল্পে ১২১ কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজের সময়সীমা ছিল ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক মাসের বেশি সময় পরও কাজ শেষ হয়নি। পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরাঞ্চলের কৃষকের বোরো ধান রক্ষা করার জন্য নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা জরুরি। প্রায়ই দেখা যায় নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায়, কিন্তু কাজ সম্পন্ন হয় না।

কোন মৌসুমে যদি আগাম বন্যা হয় বা পাহাড়ি ঢল আসে তাহলে বিপদে পড়তে হয় কৃষকদের। যেমনটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার ফসলডুবিতে হাওর থেকে একেবারে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল তাদের। এবার শুরু থেকেই একটা আশঙ্কা ছিল। কৃষকেরা জানিয়েছেন, যেভাবে পাহাড়ি ঢল নামছে, নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তাতে এবারও ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়, চেরপুঞ্জিতে গত ৪ দিনে ৫৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অতিবৃষ্টি হলেই ঢল নামে। ফলে সুনামগঞ্জ জেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সব কটি হাওরের ফসলই এখন ঝুঁকিতে আছে। জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার নদ-নদীতেও পানি বাড়ছে। ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি নরম। বাঁধের ঢালে ঘাস লাগানোর কথা থাকলেও অনেক স্থানেই ঘাস নেই। কোনো কোনো স্থানে এখনও কাজ করছে লোকজন! এর বাইরে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাঁধ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এখানে ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ধান এখনো সবুজ, কাঁচা। এগুলো পাকতে আরও ১০-১২ দিন সময় লাগবে। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকেরা। তারা চরম আতঙ্ক আর উদ্বেগে দিন পার করছে। ইতিপূর্বে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকের রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেখানে বন্যা এলে একমাত্র বাঁধই রক্ষা করতে পারে তাদের শ্রমে-ঘামে ফলানো ‘সোনার ধান’। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধগুলো সংস্কার না করলে শুধু যে ওই এলাকার কৃষকেরই সর্বনাশ হবে তা নয়; বরং পুরো দেশই খাদ্য নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে কেন এসব বাঁধ সংস্কার বা নির্মাণ করা হয়নি। এখন বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; এর আগে কি বাকি কাজ শেষ করা যাবে?

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের এত অনাগ্রহ ও উদাসীনতার কারণ কীÑআমরা সেটা জানতে চাই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোন প্রকল্পের কাজ শেষই করা না যায়, তাহলে সময় নির্ধারণ করার দরকার কী! প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো কাজ করুক। কৃষকের ফসল ডোবে তো ডুবুক, সর্বনাশ হয় তো হোক।