এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২২

জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, ঋণের ফাঁদে পড়বে না বাংলাদেশ

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে পড়বে না বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ‘সঠিক পথেই’ আছে। গতকাল প্রকাশ করা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২২ (এডিও) এ তথ্য জানানো হয়। ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। সেই হিসেবে এডিবির প্রাক্কলন কিছুটা কম। অবশ্য বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর আইএমএফ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এডিবি বলছে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর জিডিপি ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। এডিও তুলে ধরেন সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট চুন চান হোং। বিফ্রিং পরিচালনা করেন এডিবির বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দবার।

এ বিষয়ে এডিমন গিন্টিং বলেন, ‘বাংলাদেশ মধ্য আয়ের ফাঁদ এবং ঋণের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুধু ভ্যাট নির্ভর হয়ে থাকলে চলবে না। কর জাল বাড়াতে হবে।

আউটলুকে বলা হয়, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বের অর্থনীতি আক্রান্ত। তেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জলবায়ু পরিবর্তন ও চলমান করোনা মহামারী থেকে উত্তরণে বেসরকারি খাতের অংশ গ্রহণ দরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া শুধু তৈরি পোশাক খাতে ওপর নির্ভরশীল না থেকে রপ্তানি বহুমুখী করতে হবে।

মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যবস্থাপনায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এডিবি এরইমধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ আকারে ২২০ কোটি ডলার এবং সহায়তা হিসেবে ৭২৩ কোটি ডলার দিয়েছে। এছাড়া ২০২২-২০২৪ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল যোগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি, যা প্রয়োজনে ৫৪০ কোটি ডলার বাড়ানো হতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২ , ২৪ চৈত্র ১৪২৮ ০৫ রমাদ্বান ১৪৪৩

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২২

জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, ঋণের ফাঁদে পড়বে না বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে পড়বে না বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ‘সঠিক পথেই’ আছে। গতকাল প্রকাশ করা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২২ (এডিও) এ তথ্য জানানো হয়। ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। সেই হিসেবে এডিবির প্রাক্কলন কিছুটা কম। অবশ্য বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর আইএমএফ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এডিবি বলছে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর জিডিপি ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। এডিও তুলে ধরেন সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট চুন চান হোং। বিফ্রিং পরিচালনা করেন এডিবির বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দবার।

এ বিষয়ে এডিমন গিন্টিং বলেন, ‘বাংলাদেশ মধ্য আয়ের ফাঁদ এবং ঋণের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুধু ভ্যাট নির্ভর হয়ে থাকলে চলবে না। কর জাল বাড়াতে হবে।

আউটলুকে বলা হয়, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বের অর্থনীতি আক্রান্ত। তেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জলবায়ু পরিবর্তন ও চলমান করোনা মহামারী থেকে উত্তরণে বেসরকারি খাতের অংশ গ্রহণ দরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া শুধু তৈরি পোশাক খাতে ওপর নির্ভরশীল না থেকে রপ্তানি বহুমুখী করতে হবে।

মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যবস্থাপনায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এডিবি এরইমধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ আকারে ২২০ কোটি ডলার এবং সহায়তা হিসেবে ৭২৩ কোটি ডলার দিয়েছে। এছাড়া ২০২২-২০২৪ মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল যোগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি, যা প্রয়োজনে ৫৪০ কোটি ডলার বাড়ানো হতে পারে।