অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব : সিইসি

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, ‘আপনারা ন্যায্য ভোট করতে পারবেন না। যদি ৫০ শতাংশও সুষ্ঠু ভোট করতে পারেন, তাহলে আপনাদের স্যালুট।’

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বেলা ১১টা ১৫মিনিটে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়ে বৈঠকে ইত্তেফাক সম্পাদক এসব কথা বলেন।

ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, সারাদেশে একদিনে নির্বাচন না করে বিভিন্ন জেলা ভাগ করে নির্বাচন করতে পারলে ভালো হয়। পর্যায়ক্রমে কয়েকদিনে নির্বাচন করলে ভোট সুষ্ঠু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বেশিরভাগই দায়িত্ব পালন করেন প্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনরা। যে জেলায় নির্বাচন হয়, সে জেলার সরকারি কর্মকর্তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করেন। যদি এরকমই হয় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকে।’

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা কেউই অসীম নই। তবে অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই নির্বাচন কমিশনে নিযুক্ত হয়েছি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়ার প্রয়োজন থেকেই সংলাপ করা হচ্ছে। এ সংলাপটি করছি শুধু শোনার জন্য। সংলাপের যে ফলাফল সেগুলো আমরা লিপিবদ্ধ করেছি। এরপর আমরা ইন্টারনালি এই মতামতগুলো বোঝার ও জানার চেষ্টা করব।’

‘সংলাপে কোন কোন বিষয়গুলোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে, আমরা সেগুলা চিহ্নিত করব। মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে পারলে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যেতে পারব। এ চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি।’

‘অনেকে মনে করছেন অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ দ্রুত হচ্ছে কি-না? আসলে সংলাপের পর আমাদের নিজেদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন আছে। আজ এটা অনেকেই স্বীকার করেছেন। তাছাড়া আজকের সংলাপে অনেকে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন, আমরা এগুলো লিপিবদ্ধ করেছি।’

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘এখনও এ বিষয়ে কিছু বলার পরিস্থিতি হয়নি। আমরা আরও শুনবো এবং সবসময়ই আশাবাদী। আমাদের প্রয়াসের কোন ত্রুটি থাকবে না। মানুষের সাধ্য, প্রচেষ্টা সৌহার্দ্য থাকতে পারে। আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে একটি সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চেষ্টা করব। নির্বাচনে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো সংলাপে আলোচনা হয়েছে যা আমরা শুনেছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আপনারা সরকারকে প্রস্তাব দেবেন কি-না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলব না। আমরা আইন ও সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করব বলে শপথ নিয়েছি। আপনারা যেগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়। তারা তাদের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। সবার মতামতই আমরা পর্যালোচনা করব।’

গতকাল ইসির সংলাপে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ ২৩ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে নির্বাচন কমিশনের তৃতীয় দফার সংলাপে ২৩ সম্পাদকসহ ৩৪ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ১১ জন সংলাপে উপস্থিত হননি।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, আনিসুল

হক প্রথম আলো, সোহরাব হাসান প্রথম আলো, অজয় দাস গুপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক, দুলাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মানবকণ্ঠ, হাশেম রেজা সম্পাদক আমার সংবাদ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিভু রঞ্জন সরকার সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ডেইলি অবজারভার অনলাইন ইনচার্জ কাজী আবদুল হান্নান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল, ভোরের ডাক সম্পাদক কেএম বেলায়েত হোসেন, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রতিদিনের সংবাদ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, আজকের পত্রিকা সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ডেইলি স্টারের এক্সিকিউটিভ এডিটর সৈয়দ আশফাকুল হক, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।

ইসির আমন্ত্রণ পেয়েও আসেননি, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, জাগরণ সম্পাদক আবেদ খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২ , ২৪ চৈত্র ১৪২৮ ০৫ রমাদ্বান ১৪৪৩

সম্পাদক-সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব : সিইসি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, ‘আপনারা ন্যায্য ভোট করতে পারবেন না। যদি ৫০ শতাংশও সুষ্ঠু ভোট করতে পারেন, তাহলে আপনাদের স্যালুট।’

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বেলা ১১টা ১৫মিনিটে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়ে বৈঠকে ইত্তেফাক সম্পাদক এসব কথা বলেন।

ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, সারাদেশে একদিনে নির্বাচন না করে বিভিন্ন জেলা ভাগ করে নির্বাচন করতে পারলে ভালো হয়। পর্যায়ক্রমে কয়েকদিনে নির্বাচন করলে ভোট সুষ্ঠু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বেশিরভাগই দায়িত্ব পালন করেন প্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনরা। যে জেলায় নির্বাচন হয়, সে জেলার সরকারি কর্মকর্তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করেন। যদি এরকমই হয় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকে।’

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা কেউই অসীম নই। তবে অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই নির্বাচন কমিশনে নিযুক্ত হয়েছি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়ার প্রয়োজন থেকেই সংলাপ করা হচ্ছে। এ সংলাপটি করছি শুধু শোনার জন্য। সংলাপের যে ফলাফল সেগুলো আমরা লিপিবদ্ধ করেছি। এরপর আমরা ইন্টারনালি এই মতামতগুলো বোঝার ও জানার চেষ্টা করব।’

‘সংলাপে কোন কোন বিষয়গুলোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে, আমরা সেগুলা চিহ্নিত করব। মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে পারলে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যেতে পারব। এ চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি।’

‘অনেকে মনে করছেন অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ দ্রুত হচ্ছে কি-না? আসলে সংলাপের পর আমাদের নিজেদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন আছে। আজ এটা অনেকেই স্বীকার করেছেন। তাছাড়া আজকের সংলাপে অনেকে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন, আমরা এগুলো লিপিবদ্ধ করেছি।’

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘এখনও এ বিষয়ে কিছু বলার পরিস্থিতি হয়নি। আমরা আরও শুনবো এবং সবসময়ই আশাবাদী। আমাদের প্রয়াসের কোন ত্রুটি থাকবে না। মানুষের সাধ্য, প্রচেষ্টা সৌহার্দ্য থাকতে পারে। আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে একটি সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চেষ্টা করব। নির্বাচনে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো সংলাপে আলোচনা হয়েছে যা আমরা শুনেছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আপনারা সরকারকে প্রস্তাব দেবেন কি-না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলব না। আমরা আইন ও সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করব বলে শপথ নিয়েছি। আপনারা যেগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়। তারা তাদের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। সবার মতামতই আমরা পর্যালোচনা করব।’

গতকাল ইসির সংলাপে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ ২৩ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে নির্বাচন কমিশনের তৃতীয় দফার সংলাপে ২৩ সম্পাদকসহ ৩৪ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ১১ জন সংলাপে উপস্থিত হননি।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, আনিসুল

হক প্রথম আলো, সোহরাব হাসান প্রথম আলো, অজয় দাস গুপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক, দুলাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মানবকণ্ঠ, হাশেম রেজা সম্পাদক আমার সংবাদ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিভু রঞ্জন সরকার সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ডেইলি অবজারভার অনলাইন ইনচার্জ কাজী আবদুল হান্নান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামাল, ভোরের ডাক সম্পাদক কেএম বেলায়েত হোসেন, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, প্রতিদিনের সংবাদ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, আজকের পত্রিকা সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ডেইলি স্টারের এক্সিকিউটিভ এডিটর সৈয়দ আশফাকুল হক, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।

ইসির আমন্ত্রণ পেয়েও আসেননি, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, জাগরণ সম্পাদক আবেদ খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।