নীরব ঘাতক ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া’ : ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ

মৃত্যুঝুঁকির এই রোগ বিশ্বে অবহেলিত একটি ব্যাধি, ৯০ ভাগ চিকিৎসার বাইরে বিশেষজ্ঞ অভিমত

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বলা হয় স্লিপ এপনিয়া। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ মানুষের জন্য একটি নিরব ঘাতক। এই রোগে ঘুমের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ২ ভাগ মহিলা ও ৪ ভাগ পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশের শহরে জনসংখ্যার শতকরা ৪ দশমিক ৪৯ ভাগ পুরুষ ও মহিলা ২ দশমিক ১৪ ভাগ অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া রোগে আক্রান্ত।

গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়াবিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে এসব মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে স্পিকার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. একেএম মোশারফ হোসেন বলেন, স্লিপ এপনিয়া সারাবিশ্বে একটি অবহেলিত ঘাতকব্যাধি। এখনো স্লিপ এপনিয়ার শতকরা ৯০ ভাগ রোগী চিকিৎসার আওতার বাহিরে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এই রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আরও সচেতনতার দরকার রয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি স্লিপ

ল্যাব রয়েছে। গত ৫ বছর ধরে ওই ল্যাব থেকে সিøপ এপনিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিøপ এপনিয়ার সচেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রত্যেক চিকিৎসককে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার জন্য চিকিৎসকদের রোগীর হিস্ট্রি নিতে হবে। কম করে হলেও মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় বেশি ব্যয় করে চিকিৎসকদের উচিত রোগীর হিস্ট্রি নেয়া। এ রোগের ফলে মানুষের রেসপিরটারি, স্ট্রোক ও হার্ট এটাকের মতো জটিল রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যাদের নাক ডাকার সমস্যা, যাদের ঠিক মতো ঘুম হয় না, যার শরীর স্থ’ূলকার তারা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে যেকোন রোগীর সার্জারির দরকার হয়। সিøপ এপনিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষ জানে না। তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা হয়। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইসিইউ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বনিক সংবাদকে জানান, সিøপ এপনিয়া সাধারণত মোটা মানুষের বেশি হয়। সিøপ শব্দের অর্থ ঘুম আর এপনিয়া শব্দের অর্থ হলো শ্বাস বন্ধ। অবস্ট্রাকটিভ শব্দের অর্থ হলো বাঁধা। অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীতে বায়ু চলাচলে (অক্্িরজেন) বাঁধার সৃষ্টি হয়। এটা কখনো ২ থেকে ৪ মিনিটও হতে পারে। এতে শ্বাসনালী বন্ধ হলে অক্সিজেনের সমস্যা দেখা দিয়ে মৃত্যু হয়। যারা রাতে ঘুমাতে পারে না। তারা দিনে ঝিমাইতে থাকে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার প্রমুখ। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২ , ২৮ চৈত্র ১৪২৮ ০৯ রমাদ্বান ১৪৪৩

নীরব ঘাতক ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া’ : ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ

মৃত্যুঝুঁকির এই রোগ বিশ্বে অবহেলিত একটি ব্যাধি, ৯০ ভাগ চিকিৎসার বাইরে বিশেষজ্ঞ অভিমত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বলা হয় স্লিপ এপনিয়া। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ মানুষের জন্য একটি নিরব ঘাতক। এই রোগে ঘুমের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ২ ভাগ মহিলা ও ৪ ভাগ পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশের শহরে জনসংখ্যার শতকরা ৪ দশমিক ৪৯ ভাগ পুরুষ ও মহিলা ২ দশমিক ১৪ ভাগ অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া রোগে আক্রান্ত।

গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়াবিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে এসব মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে স্পিকার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. একেএম মোশারফ হোসেন বলেন, স্লিপ এপনিয়া সারাবিশ্বে একটি অবহেলিত ঘাতকব্যাধি। এখনো স্লিপ এপনিয়ার শতকরা ৯০ ভাগ রোগী চিকিৎসার আওতার বাহিরে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এই রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আরও সচেতনতার দরকার রয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি স্লিপ

ল্যাব রয়েছে। গত ৫ বছর ধরে ওই ল্যাব থেকে সিøপ এপনিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিøপ এপনিয়ার সচেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রত্যেক চিকিৎসককে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার জন্য চিকিৎসকদের রোগীর হিস্ট্রি নিতে হবে। কম করে হলেও মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় বেশি ব্যয় করে চিকিৎসকদের উচিত রোগীর হিস্ট্রি নেয়া। এ রোগের ফলে মানুষের রেসপিরটারি, স্ট্রোক ও হার্ট এটাকের মতো জটিল রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যাদের নাক ডাকার সমস্যা, যাদের ঠিক মতো ঘুম হয় না, যার শরীর স্থ’ূলকার তারা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে যেকোন রোগীর সার্জারির দরকার হয়। সিøপ এপনিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষ জানে না। তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা হয়। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইসিইউ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বনিক সংবাদকে জানান, সিøপ এপনিয়া সাধারণত মোটা মানুষের বেশি হয়। সিøপ শব্দের অর্থ ঘুম আর এপনিয়া শব্দের অর্থ হলো শ্বাস বন্ধ। অবস্ট্রাকটিভ শব্দের অর্থ হলো বাঁধা। অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীতে বায়ু চলাচলে (অক্্িরজেন) বাঁধার সৃষ্টি হয়। এটা কখনো ২ থেকে ৪ মিনিটও হতে পারে। এতে শ্বাসনালী বন্ধ হলে অক্সিজেনের সমস্যা দেখা দিয়ে মৃত্যু হয়। যারা রাতে ঘুমাতে পারে না। তারা দিনে ঝিমাইতে থাকে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান তরফদার প্রমুখ। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।