ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুলের বিচার চান নির্যাতিতরা

নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ৭নং হোগলাপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ফরিদের বিচার চেয়েছেন।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘নৌকা সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অপরাধে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ও তার গুন্ডা বাহিনীর অগ্নিসংযোগ, শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানি’র প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান হয়।

লিখিত বক্তব্যে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দীপক কুমার মাঝি বলেন, আমরা জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হোগলাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম পেশী শক্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনির শংকরকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়।

এরপর থেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করেছিল তাদের ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়। হিন্দু ও নিরীহ মুসলিমদের ওপর ‘গুন্ডা বাহিনী ও কিশোর গ্যাং’য়ের মাধ্যমে অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল বা প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করায় বিভিন্নভাবে আমাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের ডেকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। গত ২৫ মার্চ ফরিদুল ইসলাম কিশোর গ্যাং দ্বারা আমাদের হত্যার উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাজারে হামলা চালায়। ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ সদস্যরা এসে আমাদের রক্ষা করে। গভীর রাতে পোড়া গন্ধে ও শব্দে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে বাইরে তাকিয়ে দেখে আমাদের বসতঘরের পাশের কাঠের গুদামে আগুন জ্বলছে।

দীপক কুমার মাঝি আরও বলেন, আমি, আমার স্ত্রী ও আমার বৃদ্ধ মায়ের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা পাশের ডোবা থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে সরেজমিন এসে তারা পর্যবেক্ষণ করেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় এখন বাড়িঘর, পরিবার ও এলাকা ছেড়ে ভবঘুরে জীবনযাপন করছি। এলাকায় গেলে আমাকে হত্যা ও গুম করবে বলে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করছি। সেই সঙ্গে এলাকায় গিয়ে পুনরায় জনগণের সেবা করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

নির্যাতনের শিকার শিবু রায় বলেন, আমরা জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। আমার বাবা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আমাকে এই চেয়ারম্যানের গুন্ডা বাহিনী ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমি পানি চাইলে আমাকে জোর করে প্রস্রাব পান করায়। পরে তারা আমাকে মৃত ভেবে নদীর পাড়ে ফেলে গেলে স্থানীয় লোকজন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খুলনা হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আমি ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে যাই। এই চেয়ারম্যান ও তার গুন্ডা বাহিনী প্রকাশ্যে বাজারে আমার বাবাকে ধুতি খুলে নেয়ার হুমকি দেয় এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ও জীবননাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করলে তেমন কোন প্রতিকার পাইনি।

জহর খান বলেন, আমি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আমি শেখ হাসিনার নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর নৌকার সমর্থনে ইউপি নির্বাচনে কাজ করায় ওই চেয়ারম্যান আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তারা আমার দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন কর্মী হিসেবে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

রবিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২২ , ০৪ বৈশাখ ১৪২৮ ১৫ রমাদ্বান ১৪৪৩

ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুলের বিচার চান নির্যাতিতরা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার ৭নং হোগলাপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ফরিদের বিচার চেয়েছেন।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘নৌকা সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অপরাধে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ও তার গুন্ডা বাহিনীর অগ্নিসংযোগ, শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানি’র প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান হয়।

লিখিত বক্তব্যে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দীপক কুমার মাঝি বলেন, আমরা জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হোগলাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম পেশী শক্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনির শংকরকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়।

এরপর থেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করেছিল তাদের ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়। হিন্দু ও নিরীহ মুসলিমদের ওপর ‘গুন্ডা বাহিনী ও কিশোর গ্যাং’য়ের মাধ্যমে অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল বা প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করায় বিভিন্নভাবে আমাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের ডেকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। গত ২৫ মার্চ ফরিদুল ইসলাম কিশোর গ্যাং দ্বারা আমাদের হত্যার উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাজারে হামলা চালায়। ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ সদস্যরা এসে আমাদের রক্ষা করে। গভীর রাতে পোড়া গন্ধে ও শব্দে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে বাইরে তাকিয়ে দেখে আমাদের বসতঘরের পাশের কাঠের গুদামে আগুন জ্বলছে।

দীপক কুমার মাঝি আরও বলেন, আমি, আমার স্ত্রী ও আমার বৃদ্ধ মায়ের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা পাশের ডোবা থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে সরেজমিন এসে তারা পর্যবেক্ষণ করেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় এখন বাড়িঘর, পরিবার ও এলাকা ছেড়ে ভবঘুরে জীবনযাপন করছি। এলাকায় গেলে আমাকে হত্যা ও গুম করবে বলে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করছি। সেই সঙ্গে এলাকায় গিয়ে পুনরায় জনগণের সেবা করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

নির্যাতনের শিকার শিবু রায় বলেন, আমরা জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। আমার বাবা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আমাকে এই চেয়ারম্যানের গুন্ডা বাহিনী ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমি পানি চাইলে আমাকে জোর করে প্রস্রাব পান করায়। পরে তারা আমাকে মৃত ভেবে নদীর পাড়ে ফেলে গেলে স্থানীয় লোকজন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খুলনা হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আমি ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে যাই। এই চেয়ারম্যান ও তার গুন্ডা বাহিনী প্রকাশ্যে বাজারে আমার বাবাকে ধুতি খুলে নেয়ার হুমকি দেয় এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ও জীবননাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করলে তেমন কোন প্রতিকার পাইনি।

জহর খান বলেন, আমি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আমি শেখ হাসিনার নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর নৌকার সমর্থনে ইউপি নির্বাচনে কাজ করায় ওই চেয়ারম্যান আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তারা আমার দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন কর্মী হিসেবে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।