বেগুন মহার্ঘ্য দামে সেঞ্চুরি

আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত একটি কথা আছে যে, “যার নাই গুণ তার নাম বেগুন” কিন্তু এই কথাটি ভুল কারণ রমজান মাস এলেই কদর বাড়ে বেগুনের। তারপর বেগুনির। বেগুনের গুণ আর বাজার দর সব হাড়ে হাড়ে বুঝে মানুষ রমজান মাসে।

সারাবছর বেগুনের যে দাম থাকে রমজান মাস এলেই তা কখনো দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যায়। শুধু মানুষের বেগুনির চাহিদা মেটাতেই প্রতিদিনই বেগুনের বহুল ব্যবহার করা হয়। আর এই জন্যেই রমজান মাসেই নওগাঁর বদলগাছীর বাজারে বেগুন এক লাফে ১০০টাকায় গিয়ে ঠেকলো। ক্রেতাদের অভিযোগ রমজান মাসে ইফতারিতে বেগুনির চাহিদা থাকায় সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়িয়েছে পাইকাররা। তবে পাইকাররা দায় চাপাচ্ছেন খুচরা বিক্রেতাদের ওপর।

সরেজমিনে গত রোববার (১৭, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল) বদলগাছী উপজেলার সদর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে প্রতি কেজি বেগুন ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুইদিন আগেও গত শুক্রবারে এই বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। বাজারে প্রচুর বেগুন থাকার পরও দ্বিগুণ দাম হাঁকিয়ে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

বদলগাছী বাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ বলেন, ‘দুদিন আগেও পাইকারি বাজারে বেগুন কিনতে হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন কেনার পর শ্রমিক খরচ ও পরিবহন খরচ আছে। তাই প্রতি কেজি ১০০টাকায় বিক্রি করছি ।

আরেক বিক্রেতা হারুন বলেন, রোজার শুরুতে বেগুন বিক্রি করেছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর এখন বেগুনের দামে আগুন। প্রতি পাল্লা বেগুন কিনছি ৪০০ টাকায়। এই বেগুন কেজিতে ১০০ টাকা বিক্রি করে লাভ হয় সামান্য। আর দাম বাড়ার কারণে বেগুন বিক্রি কম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বদলগাছীর মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, ‘ বেগুনের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে এটি খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ দেখি না। তাই সবজির তালিকা থেকে বেগুন বাদ দিয়েই বাজার করলাম।’ মানবতার দেওয়ালের প্রতিষ্ঠাতা হীরক বলেন , বদলগাছীতে বাজার নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং কমিটি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সব পণ্য বিক্রি করছে। বাজারে আসা ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, কোনো ব্যবসায়ীর ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো সূযোগ নেই। তবে রমজান উপলক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

অপরদিকে উপজেলার সচেতন মহল বলছেন, বাজারে কোনো মনিটরিং করা হয় না বলেই বজারে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মতো দরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রয় করছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২ , ০৮ বৈশাখ ১৪২৮ ১৯ রমাদ্বান ১৪৪৩

বেগুন মহার্ঘ্য দামে সেঞ্চুরি

প্রতিনিধি ,বদলগাছী (নওগাঁ)

আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত একটি কথা আছে যে, “যার নাই গুণ তার নাম বেগুন” কিন্তু এই কথাটি ভুল কারণ রমজান মাস এলেই কদর বাড়ে বেগুনের। তারপর বেগুনির। বেগুনের গুণ আর বাজার দর সব হাড়ে হাড়ে বুঝে মানুষ রমজান মাসে।

সারাবছর বেগুনের যে দাম থাকে রমজান মাস এলেই তা কখনো দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যায়। শুধু মানুষের বেগুনির চাহিদা মেটাতেই প্রতিদিনই বেগুনের বহুল ব্যবহার করা হয়। আর এই জন্যেই রমজান মাসেই নওগাঁর বদলগাছীর বাজারে বেগুন এক লাফে ১০০টাকায় গিয়ে ঠেকলো। ক্রেতাদের অভিযোগ রমজান মাসে ইফতারিতে বেগুনির চাহিদা থাকায় সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়িয়েছে পাইকাররা। তবে পাইকাররা দায় চাপাচ্ছেন খুচরা বিক্রেতাদের ওপর।

সরেজমিনে গত রোববার (১৭, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল) বদলগাছী উপজেলার সদর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে প্রতি কেজি বেগুন ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুইদিন আগেও গত শুক্রবারে এই বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। বাজারে প্রচুর বেগুন থাকার পরও দ্বিগুণ দাম হাঁকিয়ে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

বদলগাছী বাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ বলেন, ‘দুদিন আগেও পাইকারি বাজারে বেগুন কিনতে হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন কেনার পর শ্রমিক খরচ ও পরিবহন খরচ আছে। তাই প্রতি কেজি ১০০টাকায় বিক্রি করছি ।

আরেক বিক্রেতা হারুন বলেন, রোজার শুরুতে বেগুন বিক্রি করেছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর এখন বেগুনের দামে আগুন। প্রতি পাল্লা বেগুন কিনছি ৪০০ টাকায়। এই বেগুন কেজিতে ১০০ টাকা বিক্রি করে লাভ হয় সামান্য। আর দাম বাড়ার কারণে বেগুন বিক্রি কম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বদলগাছীর মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, ‘ বেগুনের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে এটি খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ দেখি না। তাই সবজির তালিকা থেকে বেগুন বাদ দিয়েই বাজার করলাম।’ মানবতার দেওয়ালের প্রতিষ্ঠাতা হীরক বলেন , বদলগাছীতে বাজার নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং কমিটি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সব পণ্য বিক্রি করছে। বাজারে আসা ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, কোনো ব্যবসায়ীর ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো সূযোগ নেই। তবে রমজান উপলক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

অপরদিকে উপজেলার সচেতন মহল বলছেন, বাজারে কোনো মনিটরিং করা হয় না বলেই বজারে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মতো দরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রয় করছে।