শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ পদ শূন্য

ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম

শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ দীঘদিন ধরে ফাঁকা রয়েছে। শীর্ষ পদগুলোতে কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিচের পদের কর্মকর্তাদের ‘রুটিন ও চলতি’ দায়িত্ব দিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা না থাকায় রুটিন কাজের বাইরে কোন কাজ করতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শীর্ষ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা বিরোধে জড়াচ্ছে। চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ছে। দর্শনার্থীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ নীতিগত কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না রুটিন দায়িত্বের কর্মকর্তারা।

শূন্য পদগুলো হলোÑ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও দুটি সদস্যের পদ, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক জানিয়েছেন, তারা শূন্যপদগুলোর সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।

ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদটি প্রায় আড়াই মাস ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। তিনি ‘দক্ষতা’র সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম সামলাচ্ছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় এ পদটি শূন্য হয়। পরে বোর্ডের সচিব তপন কুমার সরকার গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে।

গত মাসে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম অবসরোত্তর ছুটিতে গেছেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য হয়। চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন সংস্থাটির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান।

এনসিটিবির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এ সংস্থায় চেয়ারম্যান ছাড়াও চারজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তারা অর্থ, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাক্রম ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। চার সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন সদস্য এনসিটিবিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন অধ্যাপক মশিউজ্জামান (শিক্ষাক্রম) ও অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম)। অন্য দুটি সদস্যপদ শূন্য থাকায় এ দুই সদস্যই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের শিক্ষাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। গত মাস থেকে এ কলেজের অধ্যক্ষ পদটি শূন্য। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে অধ্যক্ষ্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এটিএম মইনুল হোসেন। গত ২৪ মার্চ অধ্যাপক আইকে সেলিমুল্লাহ খন্দকার অবসরোত্তর ছুটিতে গেলে অধ্যক্ষ পদটি শূন্য হয়।

ঢাকার দুটি কলেজের দুই বিতর্কিত অধ্যক্ষ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের পদে বসতে নানা মহলে তদবির করছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ওই দুই বিতর্কিত অধ্যক্ষের বেপরোয়া তদবিরের কারণে শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নে বিলম্ব ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২ , ১৪ বৈশাখ ১৪২৮ ২৫ রমাদ্বান ১৪৪৩

শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ পদ শূন্য

ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ দীঘদিন ধরে ফাঁকা রয়েছে। শীর্ষ পদগুলোতে কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিচের পদের কর্মকর্তাদের ‘রুটিন ও চলতি’ দায়িত্ব দিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা না থাকায় রুটিন কাজের বাইরে কোন কাজ করতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শীর্ষ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা বিরোধে জড়াচ্ছে। চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ছে। দর্শনার্থীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ নীতিগত কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না রুটিন দায়িত্বের কর্মকর্তারা।

শূন্য পদগুলো হলোÑ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও দুটি সদস্যের পদ, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক জানিয়েছেন, তারা শূন্যপদগুলোর সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।

ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদটি প্রায় আড়াই মাস ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। তিনি ‘দক্ষতা’র সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম সামলাচ্ছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় এ পদটি শূন্য হয়। পরে বোর্ডের সচিব তপন কুমার সরকার গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে।

গত মাসে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম অবসরোত্তর ছুটিতে গেছেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য হয়। চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন সংস্থাটির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান।

এনসিটিবির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এ সংস্থায় চেয়ারম্যান ছাড়াও চারজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তারা অর্থ, পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাক্রম ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। চার সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন সদস্য এনসিটিবিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন অধ্যাপক মশিউজ্জামান (শিক্ষাক্রম) ও অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম)। অন্য দুটি সদস্যপদ শূন্য থাকায় এ দুই সদস্যই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের শিক্ষাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। গত মাস থেকে এ কলেজের অধ্যক্ষ পদটি শূন্য। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে অধ্যক্ষ্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এটিএম মইনুল হোসেন। গত ২৪ মার্চ অধ্যাপক আইকে সেলিমুল্লাহ খন্দকার অবসরোত্তর ছুটিতে গেলে অধ্যক্ষ পদটি শূন্য হয়।

ঢাকার দুটি কলেজের দুই বিতর্কিত অধ্যক্ষ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের পদে বসতে নানা মহলে তদবির করছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ওই দুই বিতর্কিত অধ্যক্ষের বেপরোয়া তদবিরের কারণে শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নে বিলম্ব ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।