টয়লেট ছাড়াই স্কুল ভবন

পাঁচতলা ভিত্তি রেখে দুইতলা বিশিষ্ট স্কুলভবনের নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে ভবনে রাখা হয়নি টয়লেটের স্থান। এমনকি ভবন নির্মাণের নকশাতেও ছিল না টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি। নারায়ণগঞ্জ নগরীর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ ও ১৫ নম্বর পাইকপাড়া বালক-বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাইকপাড়ার শাহ্ সুজা রোডে নির্মাণাধীন স্কুলভবনের কাজ প্রায় শেষ। নিচতলায় তিনটি এবং উপরে দুটি শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। তবে কোন তলাতেই নেই টয়লেট। নির্মাণাধীন স্কুলভবনের পাশে পুরোনো ভবনটিতে এখনও শ্রেণী পাঠদান চলছে। নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে স্থানান্তর হলে টয়লেট না থাকায় বিপাকে পড়বেন শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফা ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি সংবাদকে জানান, বিদ্যালয়টিতে দুই শাখায় (প্রভাতি ও দিবা) ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এখনও পুরোনো ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চললেও নতুন ভবন নির্মাণ হলে সেদিকে স্থানান্তর হতে হবে। নতুন ভবনে ‘ওয়াশব্লক’ বা টয়লেট রাখা হয়নি। এমনকি সেজন্য জায়গাও রাখা হয়নি। সেক্ষেত্রে নতুন ভবনে স্থানান্তর হওয়ার পর শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়বে। ‘বাচ্চারা কোথায় যাবে, আমরাই বা কোথায় যাবো?’, বলেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় ভবনে টয়লেট না থাকা নিয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন টয়লেট ছাড়াই নির্মাণ হয়ে থাকে। মূলত ভবন নির্মাণের জন্য অর্থায়ন করে থাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে এলজিইডি। তবে তাদের ভবন নির্মাণের নকশায় টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি থাকে না। কেন না বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর টয়লেটসহ ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজটি করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ থাকে। প্ল্যান অনুযায়ী কোথায় শ্রেণীকক্ষ হবে আর কোথায় টয়লেট এবং পানির স্থান রাখা হবে সেসব বিষয় মাথায় রেখে নকশা তৈরি করা হয়। সেক্ষেত্রে অন্তত ৩৩ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিমাণ জমি পাওয়া যায় ভবন নির্মাণের জন্য। পর্যাপ্ত জমি না থাকলে ‘নিট বেজ ডিজাইন’ করা হয়। অর্থ্যাৎ যতটুকু জমি আছে সে অনুযায়ী ভবন ও ভবনের কোন স্থানে টয়লেট হবে সেই নকশা করা হয়। পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ৭ শতাংশ জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টয়লেটের স্থান রেখে নকশা করা হয়নি।

এলজিইডির সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী রমজান হোসেন সংবাদকে বলেন, ৮৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পের অনুমোদন হয়। করোনার কারণে ২০২১ সালে কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ হয়ে গেছে। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ভবনে টয়লেট না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে টয়লেট নির্মাণের কাজ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। টয়লেটের জন্য ভবনের উত্তর পাশে ৭-৮ ফুট জায়গা আছে। সেখানে টয়লেট নির্মাণ করা যাবে।

এদিকে শিক্ষা অফিস জানায়, অন্তত ১৬ ফুট না হলে টয়লেটের কাজ করে না জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, টাকা দেয় মন্ত্রণালয় কিন্তু ভবনের নকশা তো করেন প্রকৌশলীরা। নকশা করার সময় টয়লেট করার বিষয়টি তো তাদের মাথায় রাখার প্রয়োজন ছিল। ‘নিট বেজ ডিজাইন’ করলেই আর এই সমস্যায় পড়তে হতো না।

সেক্ষেত্রে সমাধান কী জানতে চাইলে শিক্ষা অফিস বলছে, যতটুকু জায়গা থাকে ততটুকুতেই পরবর্তীতে ভবন উন্নয়ন খাত থেকে বরাদ্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় টয়লেট নির্মাণ করা হয়। উপজেলার এমন অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ভবন নির্মাণের পর পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় এই প্রক্রিয়ায় টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এমনও হয়েছে যে নতুন ভবনে পাঠদান শুরু হওয়ার অনেক পরে টয়লেট নির্মাণ হয়েছে।

তবে এই জটিলতা নিরসনে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামিনা নার্গিস। তিনি সংবাদকে বলেন, পাইকপাড়ার স্কুলটির প্রকল্প আগের। বর্তমানে স্কুলভবনের প্রতি ফ্লোরেই (তলা) টয়লেটের জায়গা রেখে প্রকল্প হচ্ছে।

বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২ , ১৪ বৈশাখ ১৪২৮ ২৫ রমাদ্বান ১৪৪৩

টয়লেট ছাড়াই স্কুল ভবন

প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

image

পাঁচতলা ভিত্তি রেখে দুইতলা বিশিষ্ট স্কুলভবনের নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে ভবনে রাখা হয়নি টয়লেটের স্থান। এমনকি ভবন নির্মাণের নকশাতেও ছিল না টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি। নারায়ণগঞ্জ নগরীর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ ও ১৫ নম্বর পাইকপাড়া বালক-বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাইকপাড়ার শাহ্ সুজা রোডে নির্মাণাধীন স্কুলভবনের কাজ প্রায় শেষ। নিচতলায় তিনটি এবং উপরে দুটি শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। তবে কোন তলাতেই নেই টয়লেট। নির্মাণাধীন স্কুলভবনের পাশে পুরোনো ভবনটিতে এখনও শ্রেণী পাঠদান চলছে। নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে স্থানান্তর হলে টয়লেট না থাকায় বিপাকে পড়বেন শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফা ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি সংবাদকে জানান, বিদ্যালয়টিতে দুই শাখায় (প্রভাতি ও দিবা) ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এখনও পুরোনো ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চললেও নতুন ভবন নির্মাণ হলে সেদিকে স্থানান্তর হতে হবে। নতুন ভবনে ‘ওয়াশব্লক’ বা টয়লেট রাখা হয়নি। এমনকি সেজন্য জায়গাও রাখা হয়নি। সেক্ষেত্রে নতুন ভবনে স্থানান্তর হওয়ার পর শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়বে। ‘বাচ্চারা কোথায় যাবে, আমরাই বা কোথায় যাবো?’, বলেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় ভবনে টয়লেট না থাকা নিয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন টয়লেট ছাড়াই নির্মাণ হয়ে থাকে। মূলত ভবন নির্মাণের জন্য অর্থায়ন করে থাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে এলজিইডি। তবে তাদের ভবন নির্মাণের নকশায় টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি থাকে না। কেন না বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর টয়লেটসহ ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজটি করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ থাকে। প্ল্যান অনুযায়ী কোথায় শ্রেণীকক্ষ হবে আর কোথায় টয়লেট এবং পানির স্থান রাখা হবে সেসব বিষয় মাথায় রেখে নকশা তৈরি করা হয়। সেক্ষেত্রে অন্তত ৩৩ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিমাণ জমি পাওয়া যায় ভবন নির্মাণের জন্য। পর্যাপ্ত জমি না থাকলে ‘নিট বেজ ডিজাইন’ করা হয়। অর্থ্যাৎ যতটুকু জমি আছে সে অনুযায়ী ভবন ও ভবনের কোন স্থানে টয়লেট হবে সেই নকশা করা হয়। পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ৭ শতাংশ জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টয়লেটের স্থান রেখে নকশা করা হয়নি।

এলজিইডির সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী রমজান হোসেন সংবাদকে বলেন, ৮৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পের অনুমোদন হয়। করোনার কারণে ২০২১ সালে কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ হয়ে গেছে। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ভবনে টয়লেট না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে টয়লেট নির্মাণের কাজ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। টয়লেটের জন্য ভবনের উত্তর পাশে ৭-৮ ফুট জায়গা আছে। সেখানে টয়লেট নির্মাণ করা যাবে।

এদিকে শিক্ষা অফিস জানায়, অন্তত ১৬ ফুট না হলে টয়লেটের কাজ করে না জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, টাকা দেয় মন্ত্রণালয় কিন্তু ভবনের নকশা তো করেন প্রকৌশলীরা। নকশা করার সময় টয়লেট করার বিষয়টি তো তাদের মাথায় রাখার প্রয়োজন ছিল। ‘নিট বেজ ডিজাইন’ করলেই আর এই সমস্যায় পড়তে হতো না।

সেক্ষেত্রে সমাধান কী জানতে চাইলে শিক্ষা অফিস বলছে, যতটুকু জায়গা থাকে ততটুকুতেই পরবর্তীতে ভবন উন্নয়ন খাত থেকে বরাদ্দ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় টয়লেট নির্মাণ করা হয়। উপজেলার এমন অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ভবন নির্মাণের পর পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় এই প্রক্রিয়ায় টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এমনও হয়েছে যে নতুন ভবনে পাঠদান শুরু হওয়ার অনেক পরে টয়লেট নির্মাণ হয়েছে।

তবে এই জটিলতা নিরসনে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামিনা নার্গিস। তিনি সংবাদকে বলেন, পাইকপাড়ার স্কুলটির প্রকল্প আগের। বর্তমানে স্কুলভবনের প্রতি ফ্লোরেই (তলা) টয়লেটের জায়গা রেখে প্রকল্প হচ্ছে।