কংগ্রেসের হাত ধরলেন না প্রশান্ত কিশোর, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

ভারতের আলোচিত ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে সব জল্পনার অবসান হলো। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের হাত ধরলেন না প্রশান্ত কিশোর, যিনি পিকে নামে পরিচিত। গতকাল সকালে টুইট করে তিনি কংগ্রেসে যোগদেয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী একটি এমপাওয়ার্ড অ্যাকশন গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই গ্রুপের অংশ হয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু কংগ্রেস সভানেত্রীর প্রস্তাব প্রশান্ত কিশোর খারিজ করেছেন বলে জানান সুরজেওয়ালা।

তবে পিকে কংগ্রেস সভাপতির রাজনৈতিক সচিব বা সহ-সভাপতি হতে চেয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

কংগ্রেস নেতার টুইটের পর একই কথা জানিয়ে টুইট করেন প্রশান্ত কিশোরও। একইসঙ্গে দেশের সবচেয়ে পুরানো রাজনৈতিক দলের কাছে পিকে ‘পরামর্শ ও বিনীত মতামত’ রেখে বললেন, ‘কাঠামোগত সমস্যা ও গঠনমূলক সংস্কারের চেয়েও দলের এখন বেশি প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব বাছাই। আর এর জন্য সম্মিলিত সদিচ্ছার বেশি প্রয়োজন।’

এর আগে ২০১৭ সালে পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছিলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। পাঞ্জাবে কংগ্রেস সাফল্য পায় কিন্তু উত্তর প্রদেশে মুখ-থুবড়ে পড়ে ১৩৭ বছরের পুরানো এই রাজনৈতিক দল।

সে সময় প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তরফে হাবভাবে বোঝানো হয়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বেশিরভাগ পরামর্শ মানতে চাননি। প্রিয়াঙ্কাকেন্দ্রিক প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তখন প্রিয়াঙ্কার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আসন ভাগ করে জোট গঠন। সেই নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের মূল কারিগর ধরা হয় প্রিয়াঙ্কাকে।

কিন্তু সেই জোট বিজেপির কাছে মুখ-খুবড়ে পড়ে। সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে খারাপ ফলের পর ফের প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কংগ্রেসের গাঁটছড়া বাধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত একমাসে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন পিকে। নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বৈঠকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করেন সোনিয়া।

প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে গত কয়েকদিনে দফায় দফায় কংগ্রেস সভানেত্রী ও অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনার পারদ চড়ছিল। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে পিকে নাকি নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন। সূত্রের খবর, পিকেকে তার সঙ্গে আগের সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার পরামর্শ দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু তাতে রাজি হননি ভোটকৌশলী।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের আভিমত, এর আগে তৃণমূলসহ অন্য দলকে নির্বাচনে সাহায্য করতে গিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছিলেন ভোটকৌশলী পিকে। সেইসব দল সেখানে মাথা ঘামায়নি, কংগ্রেসেও সেইরকমই দায়িত্ব পেতে চেয়েছিলেন পিকে। বরাবরই ‘মাস্টার প্ল্যান’ বানানোর দায়িত্ব তিনিই নিতে চান। সম্ভবত দেশের প্রাচীনতম দলে সেই ‘দায়িত্ব এবং স্বাধীনতা’ তিনি পাবেন না। তার জেরেই পিকের কংগ্রেসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২ , ১৫ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমাদ্বান ১৪৪৩

কংগ্রেসের হাত ধরলেন না প্রশান্ত কিশোর, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

দীপক মুখার্জী, কলকাতা

ভারতের আলোচিত ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে সব জল্পনার অবসান হলো। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের হাত ধরলেন না প্রশান্ত কিশোর, যিনি পিকে নামে পরিচিত। গতকাল সকালে টুইট করে তিনি কংগ্রেসে যোগদেয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী একটি এমপাওয়ার্ড অ্যাকশন গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই গ্রুপের অংশ হয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু কংগ্রেস সভানেত্রীর প্রস্তাব প্রশান্ত কিশোর খারিজ করেছেন বলে জানান সুরজেওয়ালা।

তবে পিকে কংগ্রেস সভাপতির রাজনৈতিক সচিব বা সহ-সভাপতি হতে চেয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

কংগ্রেস নেতার টুইটের পর একই কথা জানিয়ে টুইট করেন প্রশান্ত কিশোরও। একইসঙ্গে দেশের সবচেয়ে পুরানো রাজনৈতিক দলের কাছে পিকে ‘পরামর্শ ও বিনীত মতামত’ রেখে বললেন, ‘কাঠামোগত সমস্যা ও গঠনমূলক সংস্কারের চেয়েও দলের এখন বেশি প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব বাছাই। আর এর জন্য সম্মিলিত সদিচ্ছার বেশি প্রয়োজন।’

এর আগে ২০১৭ সালে পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছিলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। পাঞ্জাবে কংগ্রেস সাফল্য পায় কিন্তু উত্তর প্রদেশে মুখ-থুবড়ে পড়ে ১৩৭ বছরের পুরানো এই রাজনৈতিক দল।

সে সময় প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তরফে হাবভাবে বোঝানো হয়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বেশিরভাগ পরামর্শ মানতে চাননি। প্রিয়াঙ্কাকেন্দ্রিক প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তখন প্রিয়াঙ্কার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আসন ভাগ করে জোট গঠন। সেই নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের মূল কারিগর ধরা হয় প্রিয়াঙ্কাকে।

কিন্তু সেই জোট বিজেপির কাছে মুখ-খুবড়ে পড়ে। সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে খারাপ ফলের পর ফের প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কংগ্রেসের গাঁটছড়া বাধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত একমাসে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন পিকে। নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বৈঠকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করেন সোনিয়া।

প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে গত কয়েকদিনে দফায় দফায় কংগ্রেস সভানেত্রী ও অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনার পারদ চড়ছিল। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে পিকে নাকি নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন। সূত্রের খবর, পিকেকে তার সঙ্গে আগের সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার পরামর্শ দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু তাতে রাজি হননি ভোটকৌশলী।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের আভিমত, এর আগে তৃণমূলসহ অন্য দলকে নির্বাচনে সাহায্য করতে গিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছিলেন ভোটকৌশলী পিকে। সেইসব দল সেখানে মাথা ঘামায়নি, কংগ্রেসেও সেইরকমই দায়িত্ব পেতে চেয়েছিলেন পিকে। বরাবরই ‘মাস্টার প্ল্যান’ বানানোর দায়িত্ব তিনিই নিতে চান। সম্ভবত দেশের প্রাচীনতম দলে সেই ‘দায়িত্ব এবং স্বাধীনতা’ তিনি পাবেন না। তার জেরেই পিকের কংগ্রেসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।