সালিসের ধার্য ক্ষতিপূরণ পাননি বিদ্যুতে দু’হাত হারানো নির্মাণ শ্রমিক

হোসেনপুরের গোবিন্দপুরে বিল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুটি হাতই কাটা গেছে রড শ্রমিক রিটন মিয়ার। হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ, বিল্ডিং মালিক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে দরবার করে মালিক আজিজুল হকের ওপর সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করলেও একটি টাকাও দেওয়া হয়নি অসহায় রিটন মিয়াকে। মালিকের সম্মতিতেই দরবারে সাব্যস্ত হয়েছিল, ঈদের আগে রিটন মিয়াকে দেওয়া হবে দুই লাখ টাকা, আর ঈদের পরে দেওয়া হবে আড়াই লাখ টাকা। অথচ মালিক কোনো টাকাই দেননি রিটন মিয়াকে। এখন দুর্গত পরিবার নিয়ে চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন দুহাত হারানো এই অসহায় শ্রমিক রিটন মিয়া।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গোবিন্দপুর চৌরাস্তা এলাকায় আজিজুল হকের নির্মাণাধীন বাসায় প্রায় দেড় মাস আগে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুহাত ঝলসে যায় স্থানীয় রড শ্রমিক রিটন মিয়ার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠালে অস্ত্রপাচার করে দুুটি হাতই কেটে বাদ দিতে হয়। এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজের কার্যালয়ে গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, বিল্ডিং মালিক আজিজুল হক, হোসেনপুর উপজেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়া, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আলাল মিয়াসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে দুই কিস্তির উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। কিন্তু এলাকার একটি চক্র পঙ্গু রিটনকে টাকা না দিয়ে নিজেরা আজিজুলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন মালিকও টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করছেন বলে জানা গেছে। সামনেই ঈদ। যদিও এতবড় একটি দুর্ঘটনার পর পরিবারে এমনিতেই ঈদের কোনো আমেজ নেই। তার পরও স্ত্রী এবং ৫ সন্তানের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পূরণ করারও কোন উপায় নেই। রিটন মিয়া কেবল অর্থকষ্টে পড়েছেন তাই নয়, তিনি শারীরিকভাবেও এখন অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বৈঠকে চেয়ারম্যানের ওপর দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ এবং মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই দুই কিস্তির এই ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছিলেন। ক্ষতিপূরণের টাকা শ্রমিক রিটন মিয়কে দিতেই হবে। কেউ কেউ টাকা না দেয়ার ব্যাপারে তৎপর রয়েছে বলে তার কাছেও তথ্য রয়েছে। সেদিনের বৈঠকেও এরকম কেউ কেউ গিয়েছিলেন। তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আরও দুদিন সময় নিয়েছেন। দেখা যাক। ক্ষতিপূরণের টাকা না দিলে তখন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

রবিবার, ০১ মে ২০২২ , ১৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমাদ্বান ১৪৪৩

সালিসের ধার্য ক্ষতিপূরণ পাননি বিদ্যুতে দু’হাত হারানো নির্মাণ শ্রমিক

জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

হোসেনপুরের গোবিন্দপুরে বিল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুটি হাতই কাটা গেছে রড শ্রমিক রিটন মিয়ার। হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ, বিল্ডিং মালিক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে দরবার করে মালিক আজিজুল হকের ওপর সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করলেও একটি টাকাও দেওয়া হয়নি অসহায় রিটন মিয়াকে। মালিকের সম্মতিতেই দরবারে সাব্যস্ত হয়েছিল, ঈদের আগে রিটন মিয়াকে দেওয়া হবে দুই লাখ টাকা, আর ঈদের পরে দেওয়া হবে আড়াই লাখ টাকা। অথচ মালিক কোনো টাকাই দেননি রিটন মিয়াকে। এখন দুর্গত পরিবার নিয়ে চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন দুহাত হারানো এই অসহায় শ্রমিক রিটন মিয়া।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গোবিন্দপুর চৌরাস্তা এলাকায় আজিজুল হকের নির্মাণাধীন বাসায় প্রায় দেড় মাস আগে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুহাত ঝলসে যায় স্থানীয় রড শ্রমিক রিটন মিয়ার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠালে অস্ত্রপাচার করে দুুটি হাতই কেটে বাদ দিতে হয়। এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজের কার্যালয়ে গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, বিল্ডিং মালিক আজিজুল হক, হোসেনপুর উপজেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়া, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আলাল মিয়াসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে দুই কিস্তির উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। কিন্তু এলাকার একটি চক্র পঙ্গু রিটনকে টাকা না দিয়ে নিজেরা আজিজুলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন মালিকও টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করছেন বলে জানা গেছে। সামনেই ঈদ। যদিও এতবড় একটি দুর্ঘটনার পর পরিবারে এমনিতেই ঈদের কোনো আমেজ নেই। তার পরও স্ত্রী এবং ৫ সন্তানের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পূরণ করারও কোন উপায় নেই। রিটন মিয়া কেবল অর্থকষ্টে পড়েছেন তাই নয়, তিনি শারীরিকভাবেও এখন অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বৈঠকে চেয়ারম্যানের ওপর দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ এবং মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই দুই কিস্তির এই ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছিলেন। ক্ষতিপূরণের টাকা শ্রমিক রিটন মিয়কে দিতেই হবে। কেউ কেউ টাকা না দেয়ার ব্যাপারে তৎপর রয়েছে বলে তার কাছেও তথ্য রয়েছে। সেদিনের বৈঠকেও এরকম কেউ কেউ গিয়েছিলেন। তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আরও দুদিন সময় নিয়েছেন। দেখা যাক। ক্ষতিপূরণের টাকা না দিলে তখন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।