পুতিনের আচরণ নিকৃষ্ট ধরনের বর্বরতা : পেন্টাগন

প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন তার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এই যুদ্ধে পুতিনের আচরণকে নিকৃষ্ট ধরনের বলে অভিহিত করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জন কিরবি বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষদের মাথার পেছনে গুলি করা হয়েছে, পিঠমোড়া দিয়ে তাদের হাত বাঁধা হয়েছে। নারী, গর্ভবতী নারীদের হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতাল বোমা ফেলা হচ্ছে। এটা ঠিক অকল্পনীয়।’

রাশিয়ার এ ধরনের আচরণকে একেবারে ঠা-া মাথায় নিকৃষ্ট ধরণের বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন পেন্টাগনের এই মুখপাত্র। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আরেক দফা আলাপে পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা রুশ নেতাদের কাছ থেকে যেসব বক্তব্য শুনে থাকি এবং সম্প্রতি দেশটির মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পারমাণবিক সংঘর্ষের যে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছেন, এগুলো দাযড়ত্বজ্ঞানহীন।’

সম্প্রতি পারমাণবিক যুদ্ধের ‘গুরুতর ও বাস্তব’ ঝুঁকিকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ‘এই ঝুঁকি এখন যথেষ্ট। বিপদ গুরুতর ও বাস্তব। এর অবমূল্যায়ন করা আমাদের উচিত হবে না।’ পারমাণবিক সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার এমন বাগাড়ম্বরের কথা উল্লেখ করে জন কিরবি বলেন, একটি আধুনিক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না।

এই দিকে , ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে তিনি এখনও প্রস্তুত রয়েছেন। বুচা, মারিউপোল এবং অন্যান্য জায়গায় রুশ বাহিনীর নৃশংসতা সত্ত্বেও তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। পোলিশ মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে নিজের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান। কারণ রাশিয়ায় একজন ব্যক্তি যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে পুতিন ইউক্রেনে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন তার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এই যুদ্ধে পুতিনের আচরণকে নিকৃষ্ট ধরনের বলে অভিহিত করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের যুদ্ধ বছরের পর বছর চলতে পারে এবং তার জন্য পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটকে প্রস্তুত হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটোর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মিরচা জুয়ানা। এই যুদ্ধ দীর্ঘ দিন চলতে পারে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর- কয়েকটি বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করবে। ন্যাটোর এই কর্মকর্তা বলেন, যতদিনই এই যুদ্ধ চলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনই এই যুদ্ধে জয়ী হবে। ‘সম্ভবত রণাঙ্গনেই এই যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে এবং আশা করা করা যায় ইউক্রেনই ওই যুদ্ধে জিতবে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ গত কয়েক দিন ধরে আঙ্কারা, মস্কো ও কিয়েভ সফর শেষ করার পর শান্তি প্রক্রিয়ায় এই অনিশ্চয়তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বেশ কিছু ন্যাটো শরিক দেশের মধ্যে এই মনোভাব জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়াকে এই যুদ্ধে হারাতে হবে এবং তারা মনে করছে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলে সেটা সম্ভব।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এখন বারবার জোর গলায় বলছেন রাশিয়াকে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। এপ্রিলের ১০ তারিখে তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে মীমাংসা আলোচনা তিনি চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবেন যদি রাশিয়া ডনবাসে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের কোনো উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে পুতিন বদ্ধপরিকর যে পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তিনি চান। ডনবাস ছাড়াও ইউক্রেনের দক্ষিণের কিছু অংশ নেয়ার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। এ নিয়ে যে তিনি পিছু হটবেন না তা তিনি বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কিয়েভ সফরের সময় ওই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আরেকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তার অর্থ, মীমাংসার সম্ভাবনা দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে এই ধারণা জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহসা শেষ হওয়ার নয়। আল-জাজির।

image

গুলি করা হচ্ছে, পিঠমোড়া দিয়ে তাদের হাত বাঁধা হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতালে বোমা ফেলা হচ্ছে। ঠা-া মাথায় পুতিন এই বর্বর কাজ চালাচ্ছেন -বিবিসি

আরও খবর
মাদক নিয়ে সহিসংসতায় ইকুয়েডরের ৩ রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ইউরোপে পাড়ি : গত বছর সাগরে তিন হাজার মৃত্যু
মাহিন্দাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে রাজি গোতাবায়া

রবিবার, ০১ মে ২০২২ , ১৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমাদ্বান ১৪৪৩

পুতিনের আচরণ নিকৃষ্ট ধরনের বর্বরতা : পেন্টাগন

image

গুলি করা হচ্ছে, পিঠমোড়া দিয়ে তাদের হাত বাঁধা হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতালে বোমা ফেলা হচ্ছে। ঠা-া মাথায় পুতিন এই বর্বর কাজ চালাচ্ছেন -বিবিসি

প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন তার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এই যুদ্ধে পুতিনের আচরণকে নিকৃষ্ট ধরনের বলে অভিহিত করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জন কিরবি বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষদের মাথার পেছনে গুলি করা হয়েছে, পিঠমোড়া দিয়ে তাদের হাত বাঁধা হয়েছে। নারী, গর্ভবতী নারীদের হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতাল বোমা ফেলা হচ্ছে। এটা ঠিক অকল্পনীয়।’

রাশিয়ার এ ধরনের আচরণকে একেবারে ঠা-া মাথায় নিকৃষ্ট ধরণের বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন পেন্টাগনের এই মুখপাত্র। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আরেক দফা আলাপে পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা রুশ নেতাদের কাছ থেকে যেসব বক্তব্য শুনে থাকি এবং সম্প্রতি দেশটির মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পারমাণবিক সংঘর্ষের যে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছেন, এগুলো দাযড়ত্বজ্ঞানহীন।’

সম্প্রতি পারমাণবিক যুদ্ধের ‘গুরুতর ও বাস্তব’ ঝুঁকিকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ‘এই ঝুঁকি এখন যথেষ্ট। বিপদ গুরুতর ও বাস্তব। এর অবমূল্যায়ন করা আমাদের উচিত হবে না।’ পারমাণবিক সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার এমন বাগাড়ম্বরের কথা উল্লেখ করে জন কিরবি বলেন, একটি আধুনিক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না।

এই দিকে , ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে তিনি এখনও প্রস্তুত রয়েছেন। বুচা, মারিউপোল এবং অন্যান্য জায়গায় রুশ বাহিনীর নৃশংসতা সত্ত্বেও তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। পোলিশ মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে নিজের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান। কারণ রাশিয়ায় একজন ব্যক্তি যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে পুতিন ইউক্রেনে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন তার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এই যুদ্ধে পুতিনের আচরণকে নিকৃষ্ট ধরনের বলে অভিহিত করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের যুদ্ধ বছরের পর বছর চলতে পারে এবং তার জন্য পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটকে প্রস্তুত হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটোর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মিরচা জুয়ানা। এই যুদ্ধ দীর্ঘ দিন চলতে পারে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর- কয়েকটি বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করবে। ন্যাটোর এই কর্মকর্তা বলেন, যতদিনই এই যুদ্ধ চলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনই এই যুদ্ধে জয়ী হবে। ‘সম্ভবত রণাঙ্গনেই এই যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে এবং আশা করা করা যায় ইউক্রেনই ওই যুদ্ধে জিতবে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ গত কয়েক দিন ধরে আঙ্কারা, মস্কো ও কিয়েভ সফর শেষ করার পর শান্তি প্রক্রিয়ায় এই অনিশ্চয়তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বেশ কিছু ন্যাটো শরিক দেশের মধ্যে এই মনোভাব জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়াকে এই যুদ্ধে হারাতে হবে এবং তারা মনে করছে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলে সেটা সম্ভব।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এখন বারবার জোর গলায় বলছেন রাশিয়াকে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। এপ্রিলের ১০ তারিখে তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে মীমাংসা আলোচনা তিনি চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবেন যদি রাশিয়া ডনবাসে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের কোনো উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে পুতিন বদ্ধপরিকর যে পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তিনি চান। ডনবাস ছাড়াও ইউক্রেনের দক্ষিণের কিছু অংশ নেয়ার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। এ নিয়ে যে তিনি পিছু হটবেন না তা তিনি বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কিয়েভ সফরের সময় ওই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আরেকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তার অর্থ, মীমাংসার সম্ভাবনা দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে এই ধারণা জোরদার হচ্ছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহসা শেষ হওয়ার নয়। আল-জাজির।