১৬ ঘণ্টা ভেসে প্রাণে বাঁচল ৪ বছরের শিশু

দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে ভেসে থেকে প্রানে বাঁচলো চার বছরের শিশু আহনাফ। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকা থেকে গলাচিপার দক্ষিণ গোলখালীর গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে আসে চার বছরের শিশু আহনাফ গত বুধবার বেলা দুইটার নতুন পোশাক পরে বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে বের হয় এই শিশুটি। বাসা থেকে বেরোনোর পর নিখোঁজ হয় সে। ১৬ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে একটি ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে ভেসে থাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালীর গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোলখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহনাফ বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে ১৬ ঘণ্টা কোথায় ছিল, কীভাবে ও কখন ডোবায় পড়ে গিয়েছিল, তা রহস্য হয়ে আছে।

আহনাফের বাবা আনোয়ার হোসেন ঢাকায় শিক্ষকতা করেন। মা আয়েশা ছিদ্দিকা গৃহবধূ। আহনাফ এ দম্পতির একমাত্র সন্তান। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার তারা বসবাস করে আসছিলেন। তার মা ও পাঁচ ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন।

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির মা আয়েশা ছিদ্দিকা সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার দুপুর দুইটার দিকে আহনাফের বাবা বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাছ থেকে তাল পারার তদারকি করছিলেন। এ সময় আহনাফ তার বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে ঘরে এসে নতুন পোশাক পরে বের হয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাবাকে না পেয়ে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে সে। এরপর আর আহনাফকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এলাকার লোকজন শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি গলাচিপা থানা-পুলিশকে জানান। গলাচিপা থানা-পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ওই এলাকায় শিশুটির সন্ধানে নামে। স্থানীয় এক নারী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে আহনাফকে ভেসে থাকতে দেখেন।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

শিশুটির মা আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, তার ছেলে ভালোভাবে কথা বলতে পারে না। ১৬ ঘণ্টা সে কোথায় ছিল বা কখন, কীভাবে ডোবায় পড়ে গেল, তা ঠিক বুঝতে পারছেন না তিনি।

শিশুটি এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোসবাহউদ্দিন। বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালীতে পাঠানো হবে। ’

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আনোয়ার বলেন, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

শনিবার, ০৭ মে ২০২২ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ ০৪ শাওয়াল ১৪৪৩

১৬ ঘণ্টা ভেসে প্রাণে বাঁচল ৪ বছরের শিশু

প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে ভেসে থেকে প্রানে বাঁচলো চার বছরের শিশু আহনাফ। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকা থেকে গলাচিপার দক্ষিণ গোলখালীর গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে আসে চার বছরের শিশু আহনাফ গত বুধবার বেলা দুইটার নতুন পোশাক পরে বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে বের হয় এই শিশুটি। বাসা থেকে বেরোনোর পর নিখোঁজ হয় সে। ১৬ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে একটি ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে ভেসে থাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালীর গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোলখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহনাফ বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে ১৬ ঘণ্টা কোথায় ছিল, কীভাবে ও কখন ডোবায় পড়ে গিয়েছিল, তা রহস্য হয়ে আছে।

আহনাফের বাবা আনোয়ার হোসেন ঢাকায় শিক্ষকতা করেন। মা আয়েশা ছিদ্দিকা গৃহবধূ। আহনাফ এ দম্পতির একমাত্র সন্তান। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার তারা বসবাস করে আসছিলেন। তার মা ও পাঁচ ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন।

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির মা আয়েশা ছিদ্দিকা সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার দুপুর দুইটার দিকে আহনাফের বাবা বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাছ থেকে তাল পারার তদারকি করছিলেন। এ সময় আহনাফ তার বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে ঘরে এসে নতুন পোশাক পরে বের হয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাবাকে না পেয়ে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে সে। এরপর আর আহনাফকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এলাকার লোকজন শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি গলাচিপা থানা-পুলিশকে জানান। গলাচিপা থানা-পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ওই এলাকায় শিশুটির সন্ধানে নামে। স্থানীয় এক নারী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি ডোবার পানিতে নারকেল গাছের পাতা ধরে আহনাফকে ভেসে থাকতে দেখেন।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

শিশুটির মা আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, তার ছেলে ভালোভাবে কথা বলতে পারে না। ১৬ ঘণ্টা সে কোথায় ছিল বা কখন, কীভাবে ডোবায় পড়ে গেল, তা ঠিক বুঝতে পারছেন না তিনি।

শিশুটি এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোসবাহউদ্দিন। বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালীতে পাঠানো হবে। ’

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আনোয়ার বলেন, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।