ট্রেনের টিকিট পেতে টুলের সিরিয়াল

রংপুরের পীরগাছা রেলস্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার, টুল বসিয়ে সিরিয়াল নিচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ট্রেনের যাত্রীসহ কালোবাজারীরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেখা যাচ্ছে এ দৃশ্য। যাত্রীসহ কালোবাজারীরা চেয়ার, টুল বসিয়ে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে সিরিয়াল তৈরি করায় গোটা উপজেলায় বইছে সমালোচনার ঝড়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পূর্বে চেয়ার, টুল বসিয়ে সিরিয়াল করলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গত ১ মে রোববার সকাল ৮টা থেকে টিকিট দেয়া শুরু করেন রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ওই দিন ভোর থেকে যাত্রীরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সারিবদ্ধভাবে চেয়ার ও টুল বসিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট নিচ্ছে। আবার এসব চেয়ার ও টুলের ওপর সাদা কাগজে লেখা হয়েছে যাত্রীদের নাম। এভাবে টুল বসিয়ে সিরিয়াল করায় প্রকৃত যাত্রী সাধারণ টিকিট হতে হচ্ছে বঞ্চিত। কয়েক মিনিটের মধ্যে স্টেশন কর্তৃপক্ষ টিকিট শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে স্টেশন চত্বরে হট্টগোল লেগে যায়। স্টেশন মাস্টার আব্দুল হামিদ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুদিনের চারটি করে চাহিদাপত্র (রিকুজিশন) পাঠিয়েছেন। সেই সঙ্গে রংপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক টিকিট চাওয়ায় তাদের টিকিট দিতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চেয়ার, টুল বসিয়ে টিকিট সংগ্রহ করার কোনো নিয়ম নেই। এর আগে লালমনিরহাট স্টেশনে যাত্রীরা চেয়ার, টুল বসিয়েছিল ওইখানের প্রশাসন তা উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো প্রশাসনের তৎপরতা নেই। তাই আমরা কিছু করতে পারি না। টিকিট কিনতে আসা এক যাত্রী জানান, বুধবার থেকে টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার ও টুল বসানো ছিল। আমি রাত আড়াইটার দিকে এসেও টিকিট পাইনি। তাই সকালে এসে টুল বসিয়েছি।

টিকিট বিক্রেতা আমির উদ্দিন জানান, পীরগাছায় আমাদের রেলের টিকিট বরাদ্দ সীমিত। রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট ২৪টি হলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন ১৯ টি, অবশিষ্ট ৫টি টিকিট তারা কালোবাজারে বিক্রি করে থাকেন। লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট ২৯টি। লালমনিরহাট ও রংপুর স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে আসনবিহীন টিকিট দেয়া হচ্ছে কিন্তু পীরগাছায় দেয়া হচ্ছে না এজন্য পীরগাছায় কালোবাজারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। যাত্রী সাধারণ মনে করেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আসনবিহীন টিকিট পীরগাছা রেল স্টেশনে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

শনিবার, ০৭ মে ২০২২ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ ০৪ শাওয়াল ১৪৪৩

ট্রেনের টিকিট পেতে টুলের সিরিয়াল

প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)

image

রংপুরের পীরগাছা রেলস্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার, টুল বসিয়ে সিরিয়াল নিচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ট্রেনের যাত্রীসহ কালোবাজারীরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেখা যাচ্ছে এ দৃশ্য। যাত্রীসহ কালোবাজারীরা চেয়ার, টুল বসিয়ে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে সিরিয়াল তৈরি করায় গোটা উপজেলায় বইছে সমালোচনার ঝড়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পূর্বে চেয়ার, টুল বসিয়ে সিরিয়াল করলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গত ১ মে রোববার সকাল ৮টা থেকে টিকিট দেয়া শুরু করেন রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ওই দিন ভোর থেকে যাত্রীরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সারিবদ্ধভাবে চেয়ার ও টুল বসিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট নিচ্ছে। আবার এসব চেয়ার ও টুলের ওপর সাদা কাগজে লেখা হয়েছে যাত্রীদের নাম। এভাবে টুল বসিয়ে সিরিয়াল করায় প্রকৃত যাত্রী সাধারণ টিকিট হতে হচ্ছে বঞ্চিত। কয়েক মিনিটের মধ্যে স্টেশন কর্তৃপক্ষ টিকিট শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে স্টেশন চত্বরে হট্টগোল লেগে যায়। স্টেশন মাস্টার আব্দুল হামিদ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুদিনের চারটি করে চাহিদাপত্র (রিকুজিশন) পাঠিয়েছেন। সেই সঙ্গে রংপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক টিকিট চাওয়ায় তাদের টিকিট দিতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চেয়ার, টুল বসিয়ে টিকিট সংগ্রহ করার কোনো নিয়ম নেই। এর আগে লালমনিরহাট স্টেশনে যাত্রীরা চেয়ার, টুল বসিয়েছিল ওইখানের প্রশাসন তা উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো প্রশাসনের তৎপরতা নেই। তাই আমরা কিছু করতে পারি না। টিকিট কিনতে আসা এক যাত্রী জানান, বুধবার থেকে টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার ও টুল বসানো ছিল। আমি রাত আড়াইটার দিকে এসেও টিকিট পাইনি। তাই সকালে এসে টুল বসিয়েছি।

টিকিট বিক্রেতা আমির উদ্দিন জানান, পীরগাছায় আমাদের রেলের টিকিট বরাদ্দ সীমিত। রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট ২৪টি হলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন ১৯ টি, অবশিষ্ট ৫টি টিকিট তারা কালোবাজারে বিক্রি করে থাকেন। লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট ২৯টি। লালমনিরহাট ও রংপুর স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে আসনবিহীন টিকিট দেয়া হচ্ছে কিন্তু পীরগাছায় দেয়া হচ্ছে না এজন্য পীরগাছায় কালোবাজারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। যাত্রী সাধারণ মনে করেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আসনবিহীন টিকিট পীরগাছা রেল স্টেশনে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।