কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো

ঈদ শুধু পরিবারগুলোর মিলনমেলায় রূপ নেয় না। শুধু খানাপিনার বাহারি আয়োজনে সীমিত থাকে না। ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেড়ানোরও একটি মহোৎসব চলতে থাকে। তবে পর্যটন কেন্দ্র বলতে শুধু কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সাজেক ভ্যালি, পতেঙ্গা, মাধবকু-ু, বিছানাকান্দি, জাফলং আর গজনীতেই শুধু মানুষ বেড়াতে যায়, তা নয়। শুধুমাত্র এসব পর্যটন কেন্দ্রে সারা দেশের মানুষ গেলে বিনোদানের পরিবর্তে মানবিক বিপর্যয় হতো। এর বাইরেও দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কিছু স্থানীয় পর্যটন স্পটও রয়েছে। চাকরিজীবী বা কর্মজীবীরা যারা সপরিবারে যার যার এলাকায় ঈদ করতে যান, তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে তাদের এলাকার স্থানীয় পর্যটন স্পটগুলোতেও বেড়াতে যান। এসব স্পটেও শত শত মানুষের ভিড় লেগে যায়।

কিশোরগঞ্জেও এরকম বেশ কিছু স্থানীয় পর্যটন স্পট তৈরি হয়েছে। এখানে হয়তো হোটেল-মোটেলের আয়োজন নেই, প্রয়োজনও নেই। শুধু ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা, কিছু ফুচকা, আইসক্রিম, চটপটি আর চা-কফির দোকান থাকলেই যথেষ্ট। কয়েক ঘন্টা আড্ডা জমিয়ে সময় কাটানোর একটা উপায় হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জে কয়েক বছর ধরে নতুন কয়েকটি স্থানীয় পর্যটন স্পট হয়েছে। যেমন করিমগঞ্জের হাওর পাড়ের বালিখলা, নিকলীর বেড়িবাঁধ আর ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের দৃষ্টিনন্দন অলসিজন রোড। যদিও এই স্পটগুলো বেশি জমে ওঠে ভরা বর্ষাকালে। তখন দেশের নানা প্রান্ত থেকেও হাজার হাজার পর্যটক আসেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে স্থানীয়রাও এসব জায়গা ঘুরে দেখতে যান। আবার জেলা শহরের সরকারী গুরুদয়াল কলেজ সংলগ্ন নরসুন্দা নদী তীরবর্তী মুক্তমঞ্চকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় একটি পর্যটন স্পট। এখানে সারা বছরই বিকাল বেলায় শত শত মানুষের আড্ডা জমে। তবে দুই ঈদে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মুক্তমঞ্চের পাশেই রায়েছে ৯ তলা ওয়াচটাওয়ার। সেই টাওয়ারে উঠেও অনেকেই চারিদিকের দৃশ্য অবলোকন করেন। আবার ভৈরব-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুকে ঘিরেও একটি পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বেড়ানোর একটি ভালো জায়গা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের ওপর নির্মিত দীর্ঘ ও প্রশস্ত হোসেনপুর-গফরগাঁও সংযোগ সেতুও একটি পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। এবারের ঈদশেষে বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খুললেও শুধু এই একটি দিনের জন্য সাধারণত অধিকাংশ মানুষই পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরবেন না, এটাই স্বাভাবিক। যে কারণে এসব স্থানীয় পর্যটন স্পটগুলোতেও টানা কয়েকদিন দর্শণার্থীদের ভিড় জমেছে।

শনিবার, ০৭ মে ২০২২ , ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ ০৪ শাওয়াল ১৪৪৩

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো

জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

image

কিশোরগঞ্জ : শিশুপার্কে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় -সংবাদ

ঈদ শুধু পরিবারগুলোর মিলনমেলায় রূপ নেয় না। শুধু খানাপিনার বাহারি আয়োজনে সীমিত থাকে না। ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেড়ানোরও একটি মহোৎসব চলতে থাকে। তবে পর্যটন কেন্দ্র বলতে শুধু কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সাজেক ভ্যালি, পতেঙ্গা, মাধবকু-ু, বিছানাকান্দি, জাফলং আর গজনীতেই শুধু মানুষ বেড়াতে যায়, তা নয়। শুধুমাত্র এসব পর্যটন কেন্দ্রে সারা দেশের মানুষ গেলে বিনোদানের পরিবর্তে মানবিক বিপর্যয় হতো। এর বাইরেও দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কিছু স্থানীয় পর্যটন স্পটও রয়েছে। চাকরিজীবী বা কর্মজীবীরা যারা সপরিবারে যার যার এলাকায় ঈদ করতে যান, তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে তাদের এলাকার স্থানীয় পর্যটন স্পটগুলোতেও বেড়াতে যান। এসব স্পটেও শত শত মানুষের ভিড় লেগে যায়।

কিশোরগঞ্জেও এরকম বেশ কিছু স্থানীয় পর্যটন স্পট তৈরি হয়েছে। এখানে হয়তো হোটেল-মোটেলের আয়োজন নেই, প্রয়োজনও নেই। শুধু ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা, কিছু ফুচকা, আইসক্রিম, চটপটি আর চা-কফির দোকান থাকলেই যথেষ্ট। কয়েক ঘন্টা আড্ডা জমিয়ে সময় কাটানোর একটা উপায় হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জে কয়েক বছর ধরে নতুন কয়েকটি স্থানীয় পর্যটন স্পট হয়েছে। যেমন করিমগঞ্জের হাওর পাড়ের বালিখলা, নিকলীর বেড়িবাঁধ আর ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের দৃষ্টিনন্দন অলসিজন রোড। যদিও এই স্পটগুলো বেশি জমে ওঠে ভরা বর্ষাকালে। তখন দেশের নানা প্রান্ত থেকেও হাজার হাজার পর্যটক আসেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে স্থানীয়রাও এসব জায়গা ঘুরে দেখতে যান। আবার জেলা শহরের সরকারী গুরুদয়াল কলেজ সংলগ্ন নরসুন্দা নদী তীরবর্তী মুক্তমঞ্চকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় একটি পর্যটন স্পট। এখানে সারা বছরই বিকাল বেলায় শত শত মানুষের আড্ডা জমে। তবে দুই ঈদে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মুক্তমঞ্চের পাশেই রায়েছে ৯ তলা ওয়াচটাওয়ার। সেই টাওয়ারে উঠেও অনেকেই চারিদিকের দৃশ্য অবলোকন করেন। আবার ভৈরব-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুকে ঘিরেও একটি পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বেড়ানোর একটি ভালো জায়গা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের ওপর নির্মিত দীর্ঘ ও প্রশস্ত হোসেনপুর-গফরগাঁও সংযোগ সেতুও একটি পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। এবারের ঈদশেষে বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খুললেও শুধু এই একটি দিনের জন্য সাধারণত অধিকাংশ মানুষই পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরবেন না, এটাই স্বাভাবিক। যে কারণে এসব স্থানীয় পর্যটন স্পটগুলোতেও টানা কয়েকদিন দর্শণার্থীদের ভিড় জমেছে।