চার খুনের ঘটনায় ফের অশান্ত কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া

কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া এলাকায় এখন চরমপন্থী তৎপরতা থেমে গেলেও সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সহিংসতা ও খুনাখুনিতে এলাকা আবারও হয়ে উঠেছে চরম অশান্ত। সম্প্রতি সংঘটিত চার খুনের ঘটনার জের ধরে আবারো যে কোন সময় রক্ত ঝরতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। পুরো ঝাউদিয়া গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। এখন গ্রামীবাসীর দিন কাটছে চরম ভীতি ও আতঙ্কে।

এক কালের রক্তাক্ত জনপদ কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া আবারো অশান্ত। চরমপন্থীদের শক্ত ঘাটি হিসাবে পরিচিত ঝাউদিয়াসহ এ অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম ও অপতৎপরতা এখন না থাকলেও তাদের অনেকেই এখন খোলস পাল্টে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয়। চরমপন্থী দলের নেতৃত্বদানকারী কেউ কেউ এখন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নেপথ্যের খল নায়ক হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। ফলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান গ্রুপের দ্বন্দ্বে থামছে না সহিংসতা ও খুনাখুনি। অতি সম্প্রতি চার খুনের ঘটনায় জনমনে ভীতি বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। গত ২ মে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত উল্লাহ ও ফজলু মেম্বরের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক সংঘর্ষে লাল্টু (৪০), মতিয়ার ম-ল (৪৫), কাশেম ম-ল (৫৫) এবং কেরামত গ্রুপের রহিম মালিথা (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সংঘটিত চার খুনের ঘটনায় আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো ঝাউদিয়া গ্রাম। হত্যাকা-ের পর এলাকা এখন চরম উত্তপ্ত। এর আগে ২০১৯ সালে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী সমর্থক ও ইউপি আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের সমর্থকদের সম্মুখযুদ্ধে খুন হয় তিনজন। ঝাউদিয়ার হাড়–লিয়া বিল ও চাপাইগাছি বিলের নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখানে দীর্ঘকালের দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই আছে। কেরামত আলী ও বখতিয়ার হোসেন এখন আওয়ামী লীগ নেতা হলেও তারা দুজনই এক সময়ে চরমপন্থী কানেকটেড ছিল বলে নাম প্রকাশে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ দুজনই বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এলাকায় দোর্দন্ড প্রতাপশালী। তাদের রয়েছে বাহিনী ও বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী। ফলে তাদের ভয়ে তটস্থ এলাকাবাসী। কেরামত ও বখতিয়ার গ্রুপ ছাড়াও ঝাউদিয়ায় রয়েছে আরো গোষ্ঠী-সামাজিক দল। এরা সবাই সুবিধাবাদী। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তাদের ছায়াতলে এসব সুবিধাবাদীরা আশ্রয় নেয়। এসব সুবিধাবাদীদের রয়েছে অস্ত্র ভা-ার ও সন্ত্রাসী বাহিনী। আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এরা তৎপর। পুলিশ হত্যাকা-ে জড়িত অভিযোগে সন্দেহভাজন সাত আসামি ও এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম জানান, ঝাউদিয়ায় চার খুনের ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। সংঘটিত হত্যাকান্ডে জড়িত বিবদমান কেরামত ও ফজলু গ্রুপ আওয়ামী লীগের হলেও ঘটনাটি ঘটেছে সামাজিক আধিপত্যের জের ধরে। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে এখন চরমপন্থিদের কোন তৎপরতা নেই। মূলতঃ সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিবদমান কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে সক্রিয়। তবে পুলিশ যেকোন অপরাধী কিংবা আইন ভঙ্গকারীদের সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের রেহাই নেই। আস্তানগর গ্রামে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। হত্যাকা-ে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে সোপর্দ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

রবিবার, ০৮ মে ২০২২ , ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ ০৫ শাওয়াল ১৪৪৩

চার খুনের ঘটনায় ফের অশান্ত কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া

কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া এলাকায় এখন চরমপন্থী তৎপরতা থেমে গেলেও সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সহিংসতা ও খুনাখুনিতে এলাকা আবারও হয়ে উঠেছে চরম অশান্ত। সম্প্রতি সংঘটিত চার খুনের ঘটনার জের ধরে আবারো যে কোন সময় রক্ত ঝরতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। পুরো ঝাউদিয়া গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। এখন গ্রামীবাসীর দিন কাটছে চরম ভীতি ও আতঙ্কে।

এক কালের রক্তাক্ত জনপদ কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া আবারো অশান্ত। চরমপন্থীদের শক্ত ঘাটি হিসাবে পরিচিত ঝাউদিয়াসহ এ অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম ও অপতৎপরতা এখন না থাকলেও তাদের অনেকেই এখন খোলস পাল্টে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয়। চরমপন্থী দলের নেতৃত্বদানকারী কেউ কেউ এখন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নেপথ্যের খল নায়ক হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। ফলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান গ্রুপের দ্বন্দ্বে থামছে না সহিংসতা ও খুনাখুনি। অতি সম্প্রতি চার খুনের ঘটনায় জনমনে ভীতি বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। গত ২ মে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত উল্লাহ ও ফজলু মেম্বরের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক সংঘর্ষে লাল্টু (৪০), মতিয়ার ম-ল (৪৫), কাশেম ম-ল (৫৫) এবং কেরামত গ্রুপের রহিম মালিথা (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সংঘটিত চার খুনের ঘটনায় আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো ঝাউদিয়া গ্রাম। হত্যাকা-ের পর এলাকা এখন চরম উত্তপ্ত। এর আগে ২০১৯ সালে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী সমর্থক ও ইউপি আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের সমর্থকদের সম্মুখযুদ্ধে খুন হয় তিনজন। ঝাউদিয়ার হাড়–লিয়া বিল ও চাপাইগাছি বিলের নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখানে দীর্ঘকালের দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই আছে। কেরামত আলী ও বখতিয়ার হোসেন এখন আওয়ামী লীগ নেতা হলেও তারা দুজনই এক সময়ে চরমপন্থী কানেকটেড ছিল বলে নাম প্রকাশে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ দুজনই বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এলাকায় দোর্দন্ড প্রতাপশালী। তাদের রয়েছে বাহিনী ও বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী। ফলে তাদের ভয়ে তটস্থ এলাকাবাসী। কেরামত ও বখতিয়ার গ্রুপ ছাড়াও ঝাউদিয়ায় রয়েছে আরো গোষ্ঠী-সামাজিক দল। এরা সবাই সুবিধাবাদী। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তাদের ছায়াতলে এসব সুবিধাবাদীরা আশ্রয় নেয়। এসব সুবিধাবাদীদের রয়েছে অস্ত্র ভা-ার ও সন্ত্রাসী বাহিনী। আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এরা তৎপর। পুলিশ হত্যাকা-ে জড়িত অভিযোগে সন্দেহভাজন সাত আসামি ও এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম জানান, ঝাউদিয়ায় চার খুনের ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। সংঘটিত হত্যাকান্ডে জড়িত বিবদমান কেরামত ও ফজলু গ্রুপ আওয়ামী লীগের হলেও ঘটনাটি ঘটেছে সামাজিক আধিপত্যের জের ধরে। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে এখন চরমপন্থিদের কোন তৎপরতা নেই। মূলতঃ সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিবদমান কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে সক্রিয়। তবে পুলিশ যেকোন অপরাধী কিংবা আইন ভঙ্গকারীদের সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের রেহাই নেই। আস্তানগর গ্রামে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। হত্যাকা-ে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে সোপর্দ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সুপার জানান।