‘মোর চিত্ত মাঝে চির নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ’

‘তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/সূর্যের মতন।/রিক্ততার বক্ষভেদি আপনারে করো উন্মোচন।/উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র-শঙ্খ বাজে।/মোর চিত্তমাঝে/চির-নূতনেরে দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’ ...সময়ের পথপরিক্রমায় বছর শেষে আবারও এলো পঁচিশে বৈশাখ। আজ উদার বিশ্ববোধের কবি, বাঙ্গালির আত্মার মুক্তি ও সার্বিক স্বনির্ভরতার প্রতীক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। আজ থেকে ১৫৯ বছর আগে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ এবং ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে (বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশে ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবি’র ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী এবং ১৫৮তম জন্মদিন আজ। জীবনভর তিনি কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্ন আর হৃদয়ের আবেগ স্পন্দিত করে তুলেছেন তার বিপুল সাহিত্যকর্মে। যার সৃষ্টিতে ঠাঁই পেয়েছে প্রেম-বিরহ-প্রকৃতি-সংগ্রাম-মানুষের জীবনের সব বিষয়। তাই বাঙালির মন-মনন, চিন্তা-অভিব্যক্তিজুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। হয়ে উঠেছেন বাঙালির প্রাণের মানুষ। বাঙালির জীবনে অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। ভৌগলিক সীমা ছাড়িয়ে তার সৃষ্টি জায়গা করে নিয়েছে যারা বিশ্বে। তার সৃষ্টির আলোয় আলোকিত শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্ব-জগৎ। কবি’র ভাষায় বললে, ‘আকাশভরা সূর্যতারা/বিশ্বভরা প্রাণ...’। সেই বিশ্বভরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হবে কবিগুরুকে তারই লেখা গানে-কবিতায়-নাটকে। আলোকের ঝরনাধারায় সৃজনশীল এক বিস্ময়কর মনীষীর স্মৃতিতে অবগাহনে মেতে উঠবেন দেশের সব রবীন্দ্রপ্রেমীরা। তার এই জন্মবার্ষিকীতে শুধু বাঙালিই নয়, পুরো ভারতবাসী এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষী কবির জন্মবার্ষিকীর দিবসটি পালন করবে হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়। বিশ্বের অন্যতম দার্শনিক ও কবি’র এ জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কবিগুরু ১২৬৮ বঙ্গাব্দে মান-মর্যাদায় এবং বুদ্ধি ও কলাচর্চায় খ্যাতির মধ্যগগনে অবস্থান করা কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী’র চতুর্দশ সন্তান। আভিজাত্যের সঙ্গে উদারতার এক অনন্য পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিবেশ শৈশবেই মুক্ত করে দিয়েছিল রবীন্দ্রনাথের মন। পরে-বিশেষত বাংলায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইছামতিতে নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলার নিসর্গ ও নদীবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার ভেতরে জাগিয়ে তুলেছিল প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসা। এরপরে, বিচিত্র দেশ ভ্রমণ, সমকালীন ঘটনাবলির তীক্ষè পর্যবেক্ষণ এবং বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্বদের সংস্পর্শ তার চিন্তা-চেতনাকে জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে এক সর্বমানবিকতার পথে নিয়ে গিয়েছিল।

সর্বমানবিকতার পথে নিরন্তর পথচলা এই যুগস্রষ্টা মহামানব-মানবজীবনের এমন কোন দিক নেই যে, যেখানে তার উপস্থিতি নেই। বিশেষ করে বাঙালির চেতনায়, মেধা ও মননে রবীন্দ্রনাথ সর্বব্যাপী। তিনি শুধু একজন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, গীতিকার ও নাট্যকার-ই নন তিনি বিশ্বের ভ্রাতৃত্ববোধের অপার আধারও। কেননা তিনি সবসময় মেলাতে চেয়েছেন বৈশ্বিকসব জাতিতত্ত্বকে, স্বদেশের কল্যাণ চেয়েছেন সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও মানবিক সাম্যের পথে। তিনি ‘মনুষ্যত্বের প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে’-অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মানুষকে ডাক দিয়েছেন বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রাণময় বিস্তৃত উঠানে। আর এমনই সব কারণেই হয়তো রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসী ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। সেই উপাধিকে এখনও ধরে রেখেছেন-রাজনৈতিক দর্শন, সমাজ চিন্তা, সমকাল-ভাবনা, স্বদেশ-অন্বেষায় অতুলনীয় সব অনুঘটকে। আর তাই কালান্তরেও আজও আমরা আমাদের শঙ্কায়-সংকটে, সম্পদে-বিপদে বারবার কবিগুরু কাছে ফিরে যায়।

আমাদের বারবার কাছে ডাকা এই মহামনীষী-কবি হিসেবে বিশ্ব খ্যাত হলেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন একাধারে একজন সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। পৃথিবীর সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিবর্তনকে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। ১২৮১ বঙ্গাব্দে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘অভিলাষ’ তার প্রথম মুদ্রিত কবিতা। এরপর থেকে কবিতা, গল্প, সাহিত্য, উপন্যাস, সমালোচনা, চিঠিপত্র, প্রবন্ধ, সংগীত, চিত্রকলা যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন, পেয়েছেন সফলতার শীর্ষস্থান। প্রায় একক চেষ্টায় তিনি বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় উজ্জ্বল করে বিশ্বসাহিত্যের সারিতে জায়গা করে দিয়ে প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর হিসেবে রেখে গেছেন ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ২৯টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, প্রায় ২২৩২টি গান ও দেশ-বিদেশে দেয়া নানা বক্তৃতার মাধ্যমে।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

বাঙালির শিক্ষায়, নান্দনিক বোধ, সাংস্কৃতিক চর্চায়, দৈনন্দিন আবেগ-অনুভূতির অভ্যাসেও সারাক্ষণই জড়িয়ে আছেন তিনি। আছেন নিশ্বাসে-বিশ্বাসে, বুদ্ধি-বোধে-মর্মে-কর্মে। তাকে পাওয়া যায় প্রেম-ভালোবাসায়, প্রতিবাদে, আন্দোলনের অঙ্গীকারে এবং স্রষ্টার আরাধনার নিবিষ্টতায়। বাঙালির গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধেও পাওয়া যায় তাকে আত্মশক্তিরুপে।

কবি জীবনী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু, তিনি বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করেননি। এজন্য গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর বেশ কয়েক বছর তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত নর্মাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেখানেই তার বাংলা শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়। পরে তিনি সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হলেও নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন এবং বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে সংস্কৃত, ইংরেজি, সাহিত্য, পদার্থবিদ্যা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, প্রাকৃতবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে তালিম নিতে থাকেন। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। এটি ছিল কবিগুরুর প্রথম প্রকাশিত রচনা।

দেশের শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ দেখে রবীন্দ্রনাথকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ১৮৭৮ সালে ইংল্যান্ডে পাঠায়। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের একটি ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি কিছুদিন পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। এ সময় তিনি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞানার্জন করেন। ১৮৮০ সালে কোন ডিগ্রি না নিয়েই রবীন্দ্রনাথ দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালে তিনি বিয়ে করেন খুলনার মেয়ে ভবানী দেবীকে। বিয়ের পর তিনি যার নাম দেন মৃণালিনী দেবী। ১৮৯০ সাল থেকে তিনি কুষ্টিয়ার শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবী মৃত্যুবরণ করেন। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৩ সালে তিনি ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম অ-ইউরোপিয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কবিগুরু আমাদের দিয়েছেন কথা, সুন্দর দেখার দৃষ্টি ও জন্মভূমিকে ভালোবাসার বোধ। আপন মহিমায় আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কেমন করে বাসনা করতে হয় লালন, আশায় বাঁধতে হয় বুক এবং মানুষ ও প্রকৃতিকে করতে হয় আপন। কল্পনার প্রজ্ঞা দিয়েছেন, দিয়েছেন সৃষ্টির প্রেরণা। আর এসবের সঙ্গে রয়েছে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের বন্দনা বাণী। বস্তুত এজন্যই তিনি চিরদিন আমাদের লোক। যাকে আমরা খুঁজে পাই আনন্দের বার্তায়, দুঃখের যাতনায়। খুঁজে পাই প্রেম-ভালোবাসায়, প্রতিবাদের ভাষায় আর দেশমাতৃকার জন্য আপনাকে উৎসর্গ করার ব্রত বোধে। আর তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা আজ বলতে পারি ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমায় পরে ঠেকায় মাথা’। কেননা, কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে যেমন, প্রভূত সাহস জুুগিয়েছে, ঠিক তেমনই যে, তার রচনাসমূহ আমাদের বাঁচতে শেখায়-স্বপ্ন দেখায়, প্রাণের সঞ্চার করে।

তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি,..’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা জুগিয়েছিল তার অনেক গান। তার লেখা ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’গানটি ভারতের জাতীয় সংগীত।

ছায়ানটের রবীন্দ্র-উৎসব ১৪২৯

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ছায়ানট দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র-উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ ২৫ বৈশাখ রোববার ও আগামীকাল ২৬ বৈশাখ সোমবার ছায়ানট মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

দুইদিনব্যাপী এই উৎসবে পরিবেশিত হবে একক ও সম্মেলক গান, নৃত্য, পাঠ-আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে ছায়ানটের শিল্পী ছাড়াও আমন্ত্রিত শিল্পী ও দল অংশ নেবেন। এই উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি ছায়ানটের ফেইসবুক পেজ (facebook.com/chhayanaut1961) ও ইউটিউব চ্যানেলে(youtube.com/ChhayanautDigitalPlatform) সরাসরি অনলাইনে দেখা যাবে।

রবিবার, ০৮ মে ২০২২ , ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ ০৫ শাওয়াল ১৪৪৩

‘মোর চিত্ত মাঝে চির নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ’

‘তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/সূর্যের মতন।/রিক্ততার বক্ষভেদি আপনারে করো উন্মোচন।/উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র-শঙ্খ বাজে।/মোর চিত্তমাঝে/চির-নূতনেরে দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’ ...সময়ের পথপরিক্রমায় বছর শেষে আবারও এলো পঁচিশে বৈশাখ। আজ উদার বিশ্ববোধের কবি, বাঙ্গালির আত্মার মুক্তি ও সার্বিক স্বনির্ভরতার প্রতীক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। আজ থেকে ১৫৯ বছর আগে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ এবং ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে (বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশে ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবি’র ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী এবং ১৫৮তম জন্মদিন আজ। জীবনভর তিনি কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্ন আর হৃদয়ের আবেগ স্পন্দিত করে তুলেছেন তার বিপুল সাহিত্যকর্মে। যার সৃষ্টিতে ঠাঁই পেয়েছে প্রেম-বিরহ-প্রকৃতি-সংগ্রাম-মানুষের জীবনের সব বিষয়। তাই বাঙালির মন-মনন, চিন্তা-অভিব্যক্তিজুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। হয়ে উঠেছেন বাঙালির প্রাণের মানুষ। বাঙালির জীবনে অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। ভৌগলিক সীমা ছাড়িয়ে তার সৃষ্টি জায়গা করে নিয়েছে যারা বিশ্বে। তার সৃষ্টির আলোয় আলোকিত শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্ব-জগৎ। কবি’র ভাষায় বললে, ‘আকাশভরা সূর্যতারা/বিশ্বভরা প্রাণ...’। সেই বিশ্বভরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হবে কবিগুরুকে তারই লেখা গানে-কবিতায়-নাটকে। আলোকের ঝরনাধারায় সৃজনশীল এক বিস্ময়কর মনীষীর স্মৃতিতে অবগাহনে মেতে উঠবেন দেশের সব রবীন্দ্রপ্রেমীরা। তার এই জন্মবার্ষিকীতে শুধু বাঙালিই নয়, পুরো ভারতবাসী এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষী কবির জন্মবার্ষিকীর দিবসটি পালন করবে হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়। বিশ্বের অন্যতম দার্শনিক ও কবি’র এ জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কবিগুরু ১২৬৮ বঙ্গাব্দে মান-মর্যাদায় এবং বুদ্ধি ও কলাচর্চায় খ্যাতির মধ্যগগনে অবস্থান করা কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী’র চতুর্দশ সন্তান। আভিজাত্যের সঙ্গে উদারতার এক অনন্য পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিবেশ শৈশবেই মুক্ত করে দিয়েছিল রবীন্দ্রনাথের মন। পরে-বিশেষত বাংলায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইছামতিতে নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলার নিসর্গ ও নদীবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার ভেতরে জাগিয়ে তুলেছিল প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসা। এরপরে, বিচিত্র দেশ ভ্রমণ, সমকালীন ঘটনাবলির তীক্ষè পর্যবেক্ষণ এবং বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্বদের সংস্পর্শ তার চিন্তা-চেতনাকে জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে এক সর্বমানবিকতার পথে নিয়ে গিয়েছিল।

সর্বমানবিকতার পথে নিরন্তর পথচলা এই যুগস্রষ্টা মহামানব-মানবজীবনের এমন কোন দিক নেই যে, যেখানে তার উপস্থিতি নেই। বিশেষ করে বাঙালির চেতনায়, মেধা ও মননে রবীন্দ্রনাথ সর্বব্যাপী। তিনি শুধু একজন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, গীতিকার ও নাট্যকার-ই নন তিনি বিশ্বের ভ্রাতৃত্ববোধের অপার আধারও। কেননা তিনি সবসময় মেলাতে চেয়েছেন বৈশ্বিকসব জাতিতত্ত্বকে, স্বদেশের কল্যাণ চেয়েছেন সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও মানবিক সাম্যের পথে। তিনি ‘মনুষ্যত্বের প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে’-অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মানুষকে ডাক দিয়েছেন বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রাণময় বিস্তৃত উঠানে। আর এমনই সব কারণেই হয়তো রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসী ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। সেই উপাধিকে এখনও ধরে রেখেছেন-রাজনৈতিক দর্শন, সমাজ চিন্তা, সমকাল-ভাবনা, স্বদেশ-অন্বেষায় অতুলনীয় সব অনুঘটকে। আর তাই কালান্তরেও আজও আমরা আমাদের শঙ্কায়-সংকটে, সম্পদে-বিপদে বারবার কবিগুরু কাছে ফিরে যায়।

আমাদের বারবার কাছে ডাকা এই মহামনীষী-কবি হিসেবে বিশ্ব খ্যাত হলেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন একাধারে একজন সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। পৃথিবীর সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিবর্তনকে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। ১২৮১ বঙ্গাব্দে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘অভিলাষ’ তার প্রথম মুদ্রিত কবিতা। এরপর থেকে কবিতা, গল্প, সাহিত্য, উপন্যাস, সমালোচনা, চিঠিপত্র, প্রবন্ধ, সংগীত, চিত্রকলা যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন, পেয়েছেন সফলতার শীর্ষস্থান। প্রায় একক চেষ্টায় তিনি বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় উজ্জ্বল করে বিশ্বসাহিত্যের সারিতে জায়গা করে দিয়ে প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর হিসেবে রেখে গেছেন ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ২৯টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, প্রায় ২২৩২টি গান ও দেশ-বিদেশে দেয়া নানা বক্তৃতার মাধ্যমে।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

বাঙালির শিক্ষায়, নান্দনিক বোধ, সাংস্কৃতিক চর্চায়, দৈনন্দিন আবেগ-অনুভূতির অভ্যাসেও সারাক্ষণই জড়িয়ে আছেন তিনি। আছেন নিশ্বাসে-বিশ্বাসে, বুদ্ধি-বোধে-মর্মে-কর্মে। তাকে পাওয়া যায় প্রেম-ভালোবাসায়, প্রতিবাদে, আন্দোলনের অঙ্গীকারে এবং স্রষ্টার আরাধনার নিবিষ্টতায়। বাঙালির গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধেও পাওয়া যায় তাকে আত্মশক্তিরুপে।

কবি জীবনী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু, তিনি বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করেননি। এজন্য গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর বেশ কয়েক বছর তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত নর্মাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেখানেই তার বাংলা শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়। পরে তিনি সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হলেও নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন এবং বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে সংস্কৃত, ইংরেজি, সাহিত্য, পদার্থবিদ্যা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, প্রাকৃতবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে তালিম নিতে থাকেন। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। এটি ছিল কবিগুরুর প্রথম প্রকাশিত রচনা।

দেশের শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ দেখে রবীন্দ্রনাথকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ১৮৭৮ সালে ইংল্যান্ডে পাঠায়। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের একটি ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি কিছুদিন পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। এ সময় তিনি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞানার্জন করেন। ১৮৮০ সালে কোন ডিগ্রি না নিয়েই রবীন্দ্রনাথ দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালে তিনি বিয়ে করেন খুলনার মেয়ে ভবানী দেবীকে। বিয়ের পর তিনি যার নাম দেন মৃণালিনী দেবী। ১৮৯০ সাল থেকে তিনি কুষ্টিয়ার শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবী মৃত্যুবরণ করেন। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৩ সালে তিনি ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম অ-ইউরোপিয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কবিগুরু আমাদের দিয়েছেন কথা, সুন্দর দেখার দৃষ্টি ও জন্মভূমিকে ভালোবাসার বোধ। আপন মহিমায় আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কেমন করে বাসনা করতে হয় লালন, আশায় বাঁধতে হয় বুক এবং মানুষ ও প্রকৃতিকে করতে হয় আপন। কল্পনার প্রজ্ঞা দিয়েছেন, দিয়েছেন সৃষ্টির প্রেরণা। আর এসবের সঙ্গে রয়েছে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের বন্দনা বাণী। বস্তুত এজন্যই তিনি চিরদিন আমাদের লোক। যাকে আমরা খুঁজে পাই আনন্দের বার্তায়, দুঃখের যাতনায়। খুঁজে পাই প্রেম-ভালোবাসায়, প্রতিবাদের ভাষায় আর দেশমাতৃকার জন্য আপনাকে উৎসর্গ করার ব্রত বোধে। আর তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা আজ বলতে পারি ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমায় পরে ঠেকায় মাথা’। কেননা, কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে যেমন, প্রভূত সাহস জুুগিয়েছে, ঠিক তেমনই যে, তার রচনাসমূহ আমাদের বাঁচতে শেখায়-স্বপ্ন দেখায়, প্রাণের সঞ্চার করে।

তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি,..’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা জুগিয়েছিল তার অনেক গান। তার লেখা ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’গানটি ভারতের জাতীয় সংগীত।

ছায়ানটের রবীন্দ্র-উৎসব ১৪২৯

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ছায়ানট দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র-উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ ২৫ বৈশাখ রোববার ও আগামীকাল ২৬ বৈশাখ সোমবার ছায়ানট মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

দুইদিনব্যাপী এই উৎসবে পরিবেশিত হবে একক ও সম্মেলক গান, নৃত্য, পাঠ-আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে ছায়ানটের শিল্পী ছাড়াও আমন্ত্রিত শিল্পী ও দল অংশ নেবেন। এই উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি ছায়ানটের ফেইসবুক পেজ (facebook.com/chhayanaut1961) ও ইউটিউব চ্যানেলে(youtube.com/ChhayanautDigitalPlatform) সরাসরি অনলাইনে দেখা যাবে।