আজ মা দিবস

মা এই শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর নেই। জন্মের পর মানুষের মুখে এই শব্দই বেশি উচ্চারিত হয়। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার মানুষ হচ্ছেন মা। শব্দটি মাত্র এক অক্ষরের হলেও এর ব্যাপকতা বিশাল।

আজ বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বাংলাদেশে পালিত হয় ‘মা দিবস’। যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না, তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ। মাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরার দিন আজ, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ।

এই দিনটিতে মায়ের জন্য বিশেষ কিছু করে থাকে সন্তানরা। বছরের অন্যদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও এইদিনটি মায়ের জন্য রাখা হয় বিশেষভাবে। এদিন যেন মায়েদের উৎসর্গ করার দিন। বিভিন্ন দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকলেও বাংলাদেশে মে মাসের ২য় রোববার পালিত হয় মায়ের জন্য বিশেষ এই দিন।

কিন্তু এই দিনটি কীভাবে এলো? কেন পালন করা হয় এই মা দিবস? এর গুরুত্ব কী, তা হয়ত অনেকের অজানা।

ইতিহাস বলছে, ১৯০৭ সালের ১২ মে প্রথমবার আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরে ‘মাদার্স ডে’ বা মা দিবস পালিত হয়।

এই দিনটি পালনে রয়েছে এক ইতিহাস। ভার্জিনিয়ায় অ্যান নামে এক শান্তিবাদী সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতেন। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছোট ছোট ওয়ার্ক ক্লাব বানিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে চেষ্টা করতেন। নারীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করতেন। অ্যান ছিলেন খুবই ধর্মপ্রাণ।

অ্যানের একটি মেয়ে ছিল, যার নাম অ্যানা মারিয়া রিভস জার্ভিস।

একদিন ছোট মেয়ের সামনেই অ্যান হাত জোড় করে বলেছিলেন ‘আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ, কোন মায়েদের জন্য একটা দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মনুষ্যত্বের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন। এটি তাদের অধিকার।

মায়ের সেই প্রার্থনা হৃদয়ে নাড়া দিয়ে যায় অ্যানা মারিয়ার। মা অ্যানার মৃত্যুর দিনটিকে সারাবিশ্বের প্রতিটি মায়ের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি।

মায়ের মৃত্যুর দু’বছর বছর পর অ্যানা মারিয়া সরকারের কাছে দাবি করলেন মায়ের স্মরণে একদিন সরকারি ছুটি দিতে হবে। অ্যানম জারাফসের আন্দোলনে আমেরিকান কংগ্রেসের অনেক রাজনীতিক একাত্মতা ঘোষণা করলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০৮ সালের ১০ মে প্রাথমিকভাবে আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা ও পেনসিলভ্যানিয়াতে মা দিবস পালন শুরু হয়। ১৯১০ সালে সব অঙ্গরাজ্যে সরকারিভাবে মা দিবস ও তাতে ছুটি পালন শুরু হয়। আমেরিকান কংগ্রেস ১৯১৩ সালের ১০ মে মা দিবসকে সরকারিভাবে পালনের অনুমোদন দেয়। তারা মে মাসের প্রথম রোববারকে মা দিবস পালনের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে। আমেরিকার অনুকরণে মেক্সিকো, কানাডা, ল্যাতিন আমেরিকা, চীন, জাপান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শুরু হয় মা দিবস পালন। যদিও আমেরিকায় এটা পালিত হয় মে মাসের প্রথম রোববার, কিন্তু অন্য দেশে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন, নরওয়েতে মা দিবস পালিত হয় মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। আর্জেন্টিনায় পালিত হয় অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় রোববার। দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিত হয় মে মাসের প্রথম রোববার। ফ্রান্সে ও সুইডেনে পালিত হয় মে মাসের শেষ রোববার। জাপানে পালিত হয় মে মাসের দ্বিতীয় রোববার।

১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন। তারপর থেকে মায়েদের প্রতি সম্মানে পালিত হয়ে আসছে মা দিবস।

সেই থেকে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস উদযাপন হিসেবে করা হয়ে থাকে। তবে অনেক দেশই অন্যদিনকে উৎসর্গ করেছে মায়েদের জন্য। সাধারণত মার্চ কিংবা মে-তেই পালিত হয় ‘মাদার্স ডে’। বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ ওই উৎসব পালন করে থাকে।

বাংলাদেশেও মা দিবসকে নিয়ে রেডিও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে প্রতি বছর।

রবিবার, ০৮ মে ২০২২ , ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ ০৫ শাওয়াল ১৪৪৩

আজ মা দিবস

মা এই শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর নেই। জন্মের পর মানুষের মুখে এই শব্দই বেশি উচ্চারিত হয়। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার মানুষ হচ্ছেন মা। শব্দটি মাত্র এক অক্ষরের হলেও এর ব্যাপকতা বিশাল।

আজ বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বাংলাদেশে পালিত হয় ‘মা দিবস’। যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না, তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ। মাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরার দিন আজ, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ।

এই দিনটিতে মায়ের জন্য বিশেষ কিছু করে থাকে সন্তানরা। বছরের অন্যদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও এইদিনটি মায়ের জন্য রাখা হয় বিশেষভাবে। এদিন যেন মায়েদের উৎসর্গ করার দিন। বিভিন্ন দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকলেও বাংলাদেশে মে মাসের ২য় রোববার পালিত হয় মায়ের জন্য বিশেষ এই দিন।

কিন্তু এই দিনটি কীভাবে এলো? কেন পালন করা হয় এই মা দিবস? এর গুরুত্ব কী, তা হয়ত অনেকের অজানা।

ইতিহাস বলছে, ১৯০৭ সালের ১২ মে প্রথমবার আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরে ‘মাদার্স ডে’ বা মা দিবস পালিত হয়।

এই দিনটি পালনে রয়েছে এক ইতিহাস। ভার্জিনিয়ায় অ্যান নামে এক শান্তিবাদী সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতেন। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছোট ছোট ওয়ার্ক ক্লাব বানিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে চেষ্টা করতেন। নারীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করতেন। অ্যান ছিলেন খুবই ধর্মপ্রাণ।

অ্যানের একটি মেয়ে ছিল, যার নাম অ্যানা মারিয়া রিভস জার্ভিস।

একদিন ছোট মেয়ের সামনেই অ্যান হাত জোড় করে বলেছিলেন ‘আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ, কোন মায়েদের জন্য একটা দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মনুষ্যত্বের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন। এটি তাদের অধিকার।

মায়ের সেই প্রার্থনা হৃদয়ে নাড়া দিয়ে যায় অ্যানা মারিয়ার। মা অ্যানার মৃত্যুর দিনটিকে সারাবিশ্বের প্রতিটি মায়ের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি।

মায়ের মৃত্যুর দু’বছর বছর পর অ্যানা মারিয়া সরকারের কাছে দাবি করলেন মায়ের স্মরণে একদিন সরকারি ছুটি দিতে হবে। অ্যানম জারাফসের আন্দোলনে আমেরিকান কংগ্রেসের অনেক রাজনীতিক একাত্মতা ঘোষণা করলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০৮ সালের ১০ মে প্রাথমিকভাবে আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা ও পেনসিলভ্যানিয়াতে মা দিবস পালন শুরু হয়। ১৯১০ সালে সব অঙ্গরাজ্যে সরকারিভাবে মা দিবস ও তাতে ছুটি পালন শুরু হয়। আমেরিকান কংগ্রেস ১৯১৩ সালের ১০ মে মা দিবসকে সরকারিভাবে পালনের অনুমোদন দেয়। তারা মে মাসের প্রথম রোববারকে মা দিবস পালনের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে। আমেরিকার অনুকরণে মেক্সিকো, কানাডা, ল্যাতিন আমেরিকা, চীন, জাপান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শুরু হয় মা দিবস পালন। যদিও আমেরিকায় এটা পালিত হয় মে মাসের প্রথম রোববার, কিন্তু অন্য দেশে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন, নরওয়েতে মা দিবস পালিত হয় মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। আর্জেন্টিনায় পালিত হয় অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় রোববার। দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিত হয় মে মাসের প্রথম রোববার। ফ্রান্সে ও সুইডেনে পালিত হয় মে মাসের শেষ রোববার। জাপানে পালিত হয় মে মাসের দ্বিতীয় রোববার।

১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন। তারপর থেকে মায়েদের প্রতি সম্মানে পালিত হয়ে আসছে মা দিবস।

সেই থেকে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস উদযাপন হিসেবে করা হয়ে থাকে। তবে অনেক দেশই অন্যদিনকে উৎসর্গ করেছে মায়েদের জন্য। সাধারণত মার্চ কিংবা মে-তেই পালিত হয় ‘মাদার্স ডে’। বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ ওই উৎসব পালন করে থাকে।

বাংলাদেশেও মা দিবসকে নিয়ে রেডিও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে প্রতি বছর।