বেড়িবাঁধের রাস্তা কেটে জলকপাট খুলে লবণ পানি তুলছে ঘের ব্যবসায়ীরা!

অনাবাদি ৯শ’ হেক্টর ফসলি জমি

বাগেরহাট মোরেলঞ্জের পঞ্চকরণ ইউনিয়নে কতিপয় প্রভাবশালী মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ও রাস্তা কেটে বিভিন্ন স্থান থেকে পাইপ দিয়ে মৎস্য ঘেরে উত্তোলন করছে লবন পানি। রাতের আঁধারে জলকপাট খুলে দিয়েও তুলছে এ পানি। লবন পানির কারণে একাধিক ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে সাধারণ চাষিদের। বোরো মৌসুমে অনাবাধি রয়েছে ৯শ হেক্টর ফসলি জমি। এদিকে স্লুইজগেট সংলগ্ন সরকারি জমিতে অবৈধ দোকানপাট তুলে দিন দিন হচ্ছে বেদখল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন নজরধারী। সাধারণ কৃষকদের দাবি লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ করে একাধিক ফসল উৎপাদনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের শুভরাজকাঠি খাল হতে সোনাখালী খাল অভিমুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১০ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ১০-১২টি স্পট কেটে ৩০-৩৫টি পাইপ বসিয়ে কতিপয় মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী লবণ পানি উত্তোলন করছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ভেরিবাঁধের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে ৩টি স্লুইজগেট। রাতের আধারে হেড়মা হরগাতী স্লুইচ গেটের কপাট খুলে দিয়েও লবণ পানি তুলছেন কতিপয় প্রভাবশালীরা। অন্যদিকে স্লুইজগেট সংলগ্ন সরকারী জমিতে অবৈধ দোকানপাট তুলে বেদখল হচ্ছে দিন দিন। লবণ পানি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে একাধিক প্রচেষ্টা করেও হচ্ছে না কোন প্রতিকার। দেবরাজ গ্রামের কৃষক মুকুল হাওলাদার, শাহবুদ্দিন শেখ, দেলোয়ার শেখ, মশিউর, আলম শেখসহ একাধিকরা জানান, এবারে বোরো ধানের ফসল করে কৃষকরা ৩ হাজার মণ ধান পেয়েছে। যদি লবণ পানি না তুলত তাহলে আরও ১ হাজার মণ ধান বেশি পেত। লবণাক্তাতার কারণে শতকরা ৭৫ ভাগ জমি অনাবাদি রয়েছে। গাছপালা পুড়ে গিয়ে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হলে তারা একাধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সমাদ্দর বলেন, এ লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আইনী ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানাসহ দ্রুত অবৈধ পাইপ অপসারণ করতে হবে। লবণ পানি উত্তোলন না হলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ মেট্রিকটন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এবারে যেখানে ফলন হয়েছে সাড়ে ৩ মেট্রিক টন । সাড়ে ১২শ হেক্টর জমির মধ্যে বোরো আবাদ হয়েছে সাড়ে ৩শ হেক্টর জমিতে। লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হলে অনাবাদি থাকবে না ৯শ হেক্টর জমি।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ. রাজ্জাক মজুমদার বলেন, লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে, একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় উর্ধতন প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পাইপ অপসারণ ও দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লবন পানি উত্তোলনের বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় আজ রবিবার উত্থাপন করা হবে এবং রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সম্পর্কে বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, ভেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর বিষয়ে তিনি অবহিত নন। খোঁজ নিয়ে পাইপ অপসারণের জন্য তাদেরকে নোটিস করা হবে। জেলা প্রসাশকের নির্দেশনায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ , ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ০৬ শাওয়াল ১৪৪৩

বেড়িবাঁধের রাস্তা কেটে জলকপাট খুলে লবণ পানি তুলছে ঘের ব্যবসায়ীরা!

অনাবাদি ৯শ’ হেক্টর ফসলি জমি

image

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : বাঁধের ১০ থেকে ১২টি স্থানে এভাবেই কেটে-পাইপ বসিয়ে ঘেরে লবণ পানি তুলছে প্রভাবশালীরা মাছ ব্যবসায়ীরা -সংবাদ

বাগেরহাট মোরেলঞ্জের পঞ্চকরণ ইউনিয়নে কতিপয় প্রভাবশালী মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ও রাস্তা কেটে বিভিন্ন স্থান থেকে পাইপ দিয়ে মৎস্য ঘেরে উত্তোলন করছে লবন পানি। রাতের আঁধারে জলকপাট খুলে দিয়েও তুলছে এ পানি। লবন পানির কারণে একাধিক ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে সাধারণ চাষিদের। বোরো মৌসুমে অনাবাধি রয়েছে ৯শ হেক্টর ফসলি জমি। এদিকে স্লুইজগেট সংলগ্ন সরকারি জমিতে অবৈধ দোকানপাট তুলে দিন দিন হচ্ছে বেদখল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন নজরধারী। সাধারণ কৃষকদের দাবি লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ করে একাধিক ফসল উৎপাদনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের শুভরাজকাঠি খাল হতে সোনাখালী খাল অভিমুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১০ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ১০-১২টি স্পট কেটে ৩০-৩৫টি পাইপ বসিয়ে কতিপয় মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী লবণ পানি উত্তোলন করছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ভেরিবাঁধের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে ৩টি স্লুইজগেট। রাতের আধারে হেড়মা হরগাতী স্লুইচ গেটের কপাট খুলে দিয়েও লবণ পানি তুলছেন কতিপয় প্রভাবশালীরা। অন্যদিকে স্লুইজগেট সংলগ্ন সরকারী জমিতে অবৈধ দোকানপাট তুলে বেদখল হচ্ছে দিন দিন। লবণ পানি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে একাধিক প্রচেষ্টা করেও হচ্ছে না কোন প্রতিকার। দেবরাজ গ্রামের কৃষক মুকুল হাওলাদার, শাহবুদ্দিন শেখ, দেলোয়ার শেখ, মশিউর, আলম শেখসহ একাধিকরা জানান, এবারে বোরো ধানের ফসল করে কৃষকরা ৩ হাজার মণ ধান পেয়েছে। যদি লবণ পানি না তুলত তাহলে আরও ১ হাজার মণ ধান বেশি পেত। লবণাক্তাতার কারণে শতকরা ৭৫ ভাগ জমি অনাবাদি রয়েছে। গাছপালা পুড়ে গিয়ে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হলে তারা একাধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সমাদ্দর বলেন, এ লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আইনী ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানাসহ দ্রুত অবৈধ পাইপ অপসারণ করতে হবে। লবণ পানি উত্তোলন না হলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ মেট্রিকটন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এবারে যেখানে ফলন হয়েছে সাড়ে ৩ মেট্রিক টন । সাড়ে ১২শ হেক্টর জমির মধ্যে বোরো আবাদ হয়েছে সাড়ে ৩শ হেক্টর জমিতে। লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হলে অনাবাদি থাকবে না ৯শ হেক্টর জমি।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ. রাজ্জাক মজুমদার বলেন, লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে, একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় উর্ধতন প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পাইপ অপসারণ ও দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লবন পানি উত্তোলনের বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় আজ রবিবার উত্থাপন করা হবে এবং রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সম্পর্কে বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, ভেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর বিষয়ে তিনি অবহিত নন। খোঁজ নিয়ে পাইপ অপসারণের জন্য তাদেরকে নোটিস করা হবে। জেলা প্রসাশকের নির্দেশনায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।