সংকটের মাঝে মজুদ : গোডাউন ও বাড়িতে মিলল ৩৪০০ লিটার সয়াবিন তেল

সারাদেশের মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া ভোজ্যতেলের মজুদ ও অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় নিত্যপণ্যটির বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে চট্টগ্রামে অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তেলের দামবৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় সয়াবিন তেল বিভিন্নস্থানে মজুদ রাখা হচ্ছে। মহানগরীর কর্ণফুলী মার্কেটের গোডাউন থেকে লুকানো অবস্থায় ১ হাজার ৫০ লিটার তেল বের করছে ভোক্তা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ২৩২৮ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। একদিনে প্রায় ৩৪০০ লিটার এই সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের চৌমুহনীতে সিডিএ কর্ণফুলী মার্কেটের একটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৫০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে খাজা স্টোর নামে ওই দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান এ অভিযান পরিচালনা করেন।

মো. আনিছুর রহমান বলেন, তেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে গতকাল আমরা বহদ্দারহাট ও চৌমুহনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। বহদ্দারহাটে তেলের ডিলাররা কোন কারসাজি করছেন কি-না তা আমরা খতিয়ে দেখেছি। সেখানে আমরা কোন অনিয়ম পাইনি। তবে চৌমুহনী এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটে আমরা ভোজ্যতেলের দোকানগুলোতে অভিযান চালাই। এ সময় মেসার্স খাজা স্টোরের গোডাউনে আমরা ১ হাজার ৫০ লিটারের বেশি মজুদকৃত তেলের সন্ধান পাই। আমরা তেলগুলো জব্দ করে তাৎক্ষণিক আশপাশের দোকানে বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি তেল মজুদ করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইন মোতাবেক ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযানে গিয়ে কার্টনভর্তি এসব তেল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর।

জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাই, এক ব্যবসায়ী বেশকিছু সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছে। পরে গত রাতে অভিযান চালিয়ে মজুদকৃত ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। অবৈধভাবে পণ্য মজুদের অভিযোগে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬ এর বিভিন্ন ধারায় ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে সংগ্রহে রাখা তেল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খোলাবাজারে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয় বলে তিনি জানান।

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ , ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ০৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সংকটের মাঝে মজুদ : গোডাউন ও বাড়িতে মিলল ৩৪০০ লিটার সয়াবিন তেল

সারাদেশের মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া ভোজ্যতেলের মজুদ ও অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় নিত্যপণ্যটির বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে চট্টগ্রামে অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তেলের দামবৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় সয়াবিন তেল বিভিন্নস্থানে মজুদ রাখা হচ্ছে। মহানগরীর কর্ণফুলী মার্কেটের গোডাউন থেকে লুকানো অবস্থায় ১ হাজার ৫০ লিটার তেল বের করছে ভোক্তা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ২৩২৮ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। একদিনে প্রায় ৩৪০০ লিটার এই সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের চৌমুহনীতে সিডিএ কর্ণফুলী মার্কেটের একটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৫০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে খাজা স্টোর নামে ওই দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান এ অভিযান পরিচালনা করেন।

মো. আনিছুর রহমান বলেন, তেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে গতকাল আমরা বহদ্দারহাট ও চৌমুহনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। বহদ্দারহাটে তেলের ডিলাররা কোন কারসাজি করছেন কি-না তা আমরা খতিয়ে দেখেছি। সেখানে আমরা কোন অনিয়ম পাইনি। তবে চৌমুহনী এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটে আমরা ভোজ্যতেলের দোকানগুলোতে অভিযান চালাই। এ সময় মেসার্স খাজা স্টোরের গোডাউনে আমরা ১ হাজার ৫০ লিটারের বেশি মজুদকৃত তেলের সন্ধান পাই। আমরা তেলগুলো জব্দ করে তাৎক্ষণিক আশপাশের দোকানে বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি তেল মজুদ করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইন মোতাবেক ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযানে গিয়ে কার্টনভর্তি এসব তেল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর।

জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাই, এক ব্যবসায়ী বেশকিছু সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছে। পরে গত রাতে অভিযান চালিয়ে মজুদকৃত ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। অবৈধভাবে পণ্য মজুদের অভিযোগে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬ এর বিভিন্ন ধারায় ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে সংগ্রহে রাখা তেল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খোলাবাজারে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয় বলে তিনি জানান।